
হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শাল্লা-সুনামগঞ্জ : বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির জীবনীশক্তি ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম আধার হাওর অঞ্চল আজ অস্তিত্বের সংকটে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অস্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হলেও নদী ভরাট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা টেকসই হচ্ছে না। ফলে ফসল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাওরবাসীর। সচেতন মহলের মতে, বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের বদলে এখন সময় এসেছে নদী পুনঃখনন ও বিজ্ঞানসম্মত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংবলিত একটি ‘সমন্বিত মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের।
বাস্তব চিত্র বলছে, হাওর রক্ষায় প্রতি বছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা মূলত সাময়িক মেরামতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। পাউবো (সুনামগঞ্জ-২) সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওর, ভান্ডাবিল, উদগলবিলসহ ছয়টি বড় হাওরে প্রায় ৯০কিমি বাঁধ মেরামতে ১২৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৯ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে নদী-খাল ভরাট হওয়ায় এই অস্থায়ী বাঁধগুলো দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যায় নির্মিত স্থায়ী বাঁধ ছাড়া ফসল রক্ষা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাল্লা উপজেলা কৃষি অফিসার শুভজিৎ রায় জানান, এ বছর উপজেলায় ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংকট উত্তরণে নদী ও খাল খনন অপরিহার্য। অন্যদিকে, পাউবো সুনামগঞ্জ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, দাড়াইন নদীসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে খনন ও টেকসই বাঁধের কাজ চলমান এবং বাকি অংশের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “হাওরের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আমরা সরকারের নিকট দ্রুত যথাযথ প্রস্তাবনা প্রেরণ করব।”
হাওর বাঁচলে বাঁচবে দেশের অর্থনীতি—এই স্লোগানকে সামনে রেখে অস্থায়ী মেরামতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই এখন হাওরবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :