শাল্লায় বন্যার হাহাকার : ফসলহারা কৃষকের আহাজারিতে ভারী সুনামগঞ্জের আকাশ


sylnews24 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ন /
শাল্লায় বন্যার হাহাকার : ফসলহারা কৃষকের আহাজারিতে ভারী সুনামগঞ্জের আকাশ

হাবিবুর রহমান হাবিব, স্টাফ রিপোর্টারঃ  ​সুনামগঞ্জের শাল্লায় ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে শাল্লাসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলের বোরো ফসল এখন পানির নিচে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির সোনালী ধান, যা কেড়ে নিয়েছে হাজারো কৃষক পরিবারের সারা বছরের স্বপ্ন। ফসল হারিয়ে হাওর পাড়ের কৃষকদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি উপজেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কেবল সুনামগঞ্জ নয়, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরগুলোতেও একই চিত্র। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শাল্লা উপজেলার বেড়াঢহড় হাওর ও ছায়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের ঘামে ভেজা ধান পানির অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে।
​পানি থেকে ফসল রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেকেই কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কেটে স্তূপ করে রেখেছেন। কিন্তু চারপাশের জলাবদ্ধতায় সেগুলোও পচন ধরার উপক্রম হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জীবন বাজি রেখে পানির মধ্য থেকে ধান উদ্ধারে মরিয়া কৃষক। অনেকের সারা বছরের সংসার চালানোর সম্বল এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের চোখে-মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।
​এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার জন্য স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে আঙ্গুল তুলেছেন অপরিকল্পিত পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) বাঁধ নির্মাণ এবং নদী-খাল খনন না করার দিকে। কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো নদী, নালা ও খাল খনন না করায় এবং বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে অতিবৃষ্টির পানি ঠেকানো সম্ভব হয়নি, বরং ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে চরম ক্ষতিসাধন করেছে।
​ফসল হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে সাধারণ কৃষকদের। সারা বছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কীভাবে দিনাতিপাত করবেন—সেই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা তারা। হাওরবাসীর দাবি, অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে হাওর এলাকাকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হোক।