জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা : ফয়সল আহমদ বাবুল


sylnews24 প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৪:০৯ পূর্বাহ্ন /
জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা : ফয়সল আহমদ বাবুল

বর্তমান বিশ্ব পরিবেশ সংকটে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত বাড়ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। বরফ গলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। বন উজাড় হচ্ছে। নদী ও জলাশয় দূষিত হচ্ছে। অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রজাতি এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। মানুষের জীবনও এতে হুমকির মুখে পড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি কমে যাচ্ছে। মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এই অবস্থায় পরিবেশ রক্ষা এখন সবার দায়িত্ব। জীববৈচিত্র্য রক্ষা এখন সময়ের বড় দাবি। ইসলাম এই দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা আজও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পথ দেখাতে পারে।

মহানবী (সা.) ছিলেন সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত। পবিত্র কুরআনে সূরা আল-আমবিয়ার ১০৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন, আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি। এই রহমত শুধু মানুষের জন্য ছিল না। এর মধ্যে সব সৃষ্টির প্রতি দয়া রয়েছে। প্রাণী ও উদ্ভিদও আল্লাহর সৃষ্টি। নদী, পাহাড়, বন ও সমুদ্রও আল্লাহর সৃষ্টি। তাই এগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া মানুষের কর্তব্য। কুরআন প্রকৃতির ভারসাম্যের কথাও বলেছে। সূরা আর-রহমান-এর ৭ ও ৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন, তিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং ভারসাম্য স্থাপন করেছেন। মানুষ যেন সেই ভারসাম্য নষ্ট না করে। এই শিক্ষা পরিবেশ সংরক্ষণের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।

ইসলামে মানুষ পৃথিবীর একচ্ছত্র মালিক নয়। মানুষ পৃথিবীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধি। কুরআনে সূরা আল-বাকারার ৩০ আয়াতে মানুষকে পৃথিবীতে খলিফা বা প্রতিনিধি করার কথা বলা হয়েছে। তাই মানুষের ওপর পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। মানুষ প্রকৃতির সম্পদ ব্যবহার করবে। তবে অপচয় করবে না। অপ্রয়োজনে ধ্বংস করবে না। অন্য প্রাণীর অধিকার নষ্ট করবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথাও ভাববে। এই দায়িত্ববোধই পরিবেশ সংরক্ষণের মূল কথা। মহানবী (সা.) তাঁর জীবন ও কথার মাধ্যমে এই দায়িত্ববোধ মানুষের মধ্যে তৈরি করেছেন।

প্রাণীর প্রতি দয়া মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিষেধ করেছেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, একটি বিড়ালকে আটকে রেখে না খাইয়ে মেরে ফেলার কারণে এক নারীর শাস্তির কথা তিনি বলেছেন। এই ঘটনা খুবই শিক্ষণীয়। একটি ছোট প্রাণীর জীবনও মূল্যবান। তাকে অকারণে কষ্ট দেওয়া যাবে না। তাকে ক্ষুধার্ত রাখা যাবে না। তাকে বন্দী করে রাখা যাবে না। মানুষের শক্তি আছে বলে দুর্বল প্রাণীর ওপর অত্যাচার করা যাবে না। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রকাশ।

এর বিপরীতে মহানবী (সা.) প্রাণীর প্রতি দয়ার পুরস্কারের কথাও বলেছেন। সহিহ মুসলিম এসেছে, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। আল্লাহ তার এই কাজকে কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করেন। ঘটনাটি আমাদের বড় শিক্ষা দেয়। একটি প্রাণীর জীবন রক্ষা করাও মহৎ কাজ। প্রাণীকে খাবার দেওয়া ভালো কাজ। তাকে পানি দেওয়া ভালো কাজ। তাকে নিরাপদ রাখা ভালো কাজ। আজকের দিনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এই শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিনোদনের জন্য প্রাণী হত্যা ইসলাম সমর্থন করে না। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, জীবন্ত প্রাণীকে লক্ষ্য বানিয়ে তীর নিক্ষেপ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো প্রাণীকে শুধু আনন্দের জন্য হত্যা করা উচিত নয়। শিকার করার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া প্রাণী হত্যা করা যাবে না। আজ অনেক বন্যপ্রাণী অবৈধ শিকারের কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে। হাতি, বাঘ, হরিণ, পাখি ও বিভিন্ন সরীসৃপ শিকার করা হচ্ছে। তাদের আবাসস্থলও ধ্বংস করা হচ্ছে। মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে মানুষকে নৈতিক শক্তি দেয়।

পাখির প্রতিও মহানবী (সা.)-এর গভীর মমতা ছিল। সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত, একবার একটি পাখির ছানা তার বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মা-পাখি ছানার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। মহানবী (সা.) তা দেখে ছানাটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেছিলেন। এই ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পাখিরও পরিবার আছে। তাদেরও সন্তান আছে। তাদেরও অনুভূতি আছে। তাই পাখির বাসা নষ্ট করা উচিত নয়। ডিম নষ্ট করা উচিত নয়। ছানা ধরে নেওয়া উচিত নয়। পাখির আবাসস্থল রক্ষা করা দরকার। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই শিক্ষা অত্যন্ত মূল্যবান।

পিঁপড়ার মতো ক্ষুদ্র প্রাণীর প্রতিও দয়া দেখানোর শিক্ষা পাওয়া যায়। সুনানে আবু দাউদে এসেছে, একবার পিঁপড়ার একটি আবাসে আগুন দেওয়া হয়েছিল। মহানবী (সা.) এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অকারণে আগুন দিয়ে প্রাণী ধ্বংস করা পছন্দ করেননি। এতে বোঝা যায়, জীবনের মূল্য শুধু বড় প্রাণীর ক্ষেত্রে নয়। ক্ষুদ্র প্রাণীর জীবনও গুরুত্বপূর্ণ। পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও প্রকৃতির অংশ। তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

বৃক্ষরোপণেও মহানবী (সা.) মানুষকে উৎসাহ দিয়েছেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, কোনো মুসলিম গাছ লাগালে এবং তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো প্রাণী খাদ্য গ্রহণ করলে তা তার জন্য সাদকাহ হিসেবে গণ্য হয়। এই শিক্ষা বৃক্ষের গুরুত্ব স্পষ্ট করে। একটি গাছ শুধু মানুষকে ছায়া দেয় না। গাছ পাখিকে আশ্রয় দেয়। গাছ প্রাণীকে খাদ্য দেয়। গাছ মাটি রক্ষা করে। গাছ বাতাস বিশুদ্ধ করে। গাছ কার্বন শোষণ করে। গাছ পরিবেশকে ঠান্ডা রাখে। তাই গাছ লাগানো একটি মহৎ কাজ।

বৃক্ষরোপণের বিষয়ে মহানবী (সা.)-এর আরেকটি শিক্ষা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে, কেয়ামত এসে গেলেও কারও হাতে যদি একটি চারা থাকে এবং সেটি রোপণের সুযোগ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে। এই শিক্ষা ভবিষ্যৎ চিন্তার কথা বলে। একটি গাছ হয়তো আজ বড় হবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে তা মানুষের উপকার করবে। পাখি সেখানে বাসা বাঁধবে। প্রাণী সেখানে আশ্রয় পাবে। মানুষ ছায়া পাবে। তাই পরিবেশের জন্য আজকের ছোট কাজ ভবিষ্যতে বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।

যুদ্ধের সময়ও প্রকৃতি ধ্বংস না করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মুয়াত্তা ইমাম মালিকে বর্ণনা করা হয়েছে, অপ্রয়োজনে ফলবান গাছ কাটা যাবে না। শস্যক্ষেত নষ্ট করা যাবে না। বন ধ্বংস করা যাবে না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। যুদ্ধ মানুষের জীবন ধ্বংস করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে প্রকৃতিও ধ্বংস হতে পারে। বন পুড়ে যেতে পারে। ফসল নষ্ট হতে পারে। প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হতে পারে। তাই সংঘাতের সময়ও প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে।

অনাবাদী জমি আবাদ করার ব্যাপারেও মহানবী (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন। সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি অনাবাদী জমিকে আবাদ করে, সে সেই জমির অধিকারের দাবিদার। এই শিক্ষা জমির যথাযথ ব্যবহারের কথা বলে। পতিত জমি উৎপাদনশীল করা দরকার। তবে কৃষির নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা যাবে না। জমির উর্বরতা রক্ষা করতে হবে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার কমাতে হবে। কৃষি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।

মহানবী (সা.) সংরক্ষিত এলাকার ধারণাও বাস্তবায়ন করেছিলেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, মদিনার একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে তিনি বিশেষভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে গাছ কাটা ও বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ ছিল। ‘হিমা’ ধারণার মাধ্যমেও নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক অঞ্চল সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। সেখানে প্রাণী ও উদ্ভিদের নিরাপদ বিকাশের সুযোগ থাকত। আজকের জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সঙ্গে এই ধারণার মিল রয়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রকৃতি রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পানি সংরক্ষণেও মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনানে ইবনে মাজাহে বর্ণিত হয়েছে, তিনি পানি অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। এমনকি প্রবহমান নদীর পানি দিয়ে অজু করার সময়ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করার শিক্ষা দিয়েছেন। পানি মানুষের জন্য অপরিহার্য। প্রাণীর জন্যও পানি অপরিহার্য। উদ্ভিদের জন্যও পানি প্রয়োজন। তাই পানির অপচয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্ষতিকর। বর্তমান বিশ্বে পানির সংকট বাড়ছে। তাই এই শিক্ষা আজ আরও বেশি প্রয়োজন।

দূষণ প্রতিরোধেও মহানবী (সা.) সতর্ক করেছেন। সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, মানুষের চলাচলের পথ, ছায়ার স্থান এবং পানির উৎসের কাছে মলমূত্র ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এসব স্থান নোংরা করলে মানুষ অসুস্থ হয়। পানি দূষিত হয়, মাটি দূষিত হয়, প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয় এবং জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্যও প্রয়োজনীয়।

মহানবী (সা.)-এর পরিবেশনৈতিক শিক্ষার মূল কথা হলো দয়া, সংযম ও দায়িত্ববোধ। মানুষ প্রকৃতির অংশ। তাই প্রকৃতির ক্ষতি করলে মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি বন ধ্বংস হলে শুধু গাছ হারায় না, পাখি হারিয়ে যায়, প্রাণী হারিয়ে যায়। মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পানি দূষিত হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। একটি নদী দূষিত হলে শুধু মানুষ নয়, অসংখ্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজকের বিশ্বে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বন সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তৈরি করা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশদূষণ কমানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শুধু আইন দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন। মানুষের আচরণ বদলাতে হবে। মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা এই নৈতিক পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে।

জীববৈচিত্র্য আল্লাহর সৃষ্টি জগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। কোনো প্রাণীই অপ্রয়োজনীয় নয়। কোনো গাছই অর্থহীন নয়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান অন্য উপাদানের সঙ্গে যুক্ত। তাই একটি অংশ নষ্ট হলে অন্য অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মহানবী (সা.) আমাদের এই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখিয়েছেন। তিনি প্রাণীর প্রতি দয়া করেছেন। বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দিয়েছেন। পানি অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। দূষণ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা দিয়েছেন।

বর্তমান পরিবেশ সংকটে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা নতুন করে মনে রাখা দরকার। শুধু আলোচনা করলেই হবে না। বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে হবে। বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। পাখির বাসা রক্ষা করতে হবে। বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করতে হবে। নদী ও জলাশয় পরিষ্কার রাখতে হবে। পানি অপচয় বন্ধ করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণ কমাতে হবে। অনাবশ্যক ভোগ কমাতে হবে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখাতে হবে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা শুধু বিজ্ঞানীদের দায়িত্ব নয়। এটি সবার দায়িত্ব। সরকার, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবার ও সাধারণ মানুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মহানবী (সা.) প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে যে দয়া, সংযম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর শিক্ষা মানুষকে প্রকৃতির মালিক নয়, দায়িত্বশীল রক্ষক হতে শেখায়।

পৃথিবী আমাদের জন্য একটি আমানত। এই আমানত রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই প্রকৃতির প্রতি দয়া করতে হবে। জীবের প্রতি মমতা দেখাতে হবে। গাছ লাগাতে হবে। পানি বাঁচাতে হবে। দূষণ কমাতে হবে। তাহলেই পৃথিবী হবে আরও সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য। জীববৈচিত্র্যও নিরাপদ থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী পাবে।

লেখকঃ শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

সিনিয়র শিক্ষক, সিরাজুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা, সদর, সিলেট।