সৃষ্টির মহিমায় হাওরের বাঁকে ​: হাবিবুর রহমান হাবিব


sylnews24 প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন /
সৃষ্টির মহিমায় হাওরের বাঁকে ​: হাবিবুর রহমান হাবিব

বিকেলের রক্তিম সূর্যটা তখন কালনী নদীর মোহনায় হেলে পড়েছে। দিগন্তবিস্তৃত হাওরের শান্ত জলরাশির ওপর আকাশের নীল আর লালিমা যেন আছড়ে পড়ছে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ রূপের দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলেন আরাফাত রহমান প্রিন্স। তাঁর চোখেমুখে গভীর চিন্তার রেখা। তিনি ভাবছিলেন—এই যে অসীম আকাশ, যার কোনো দৃশ্যমান স্তম্ভ নেই, অথচ কী অটল বিস্ময়ে আমাদের মাথার ওপর দাঁড়িয়ে আছে!

​ঠিক এই মুহূর্তে প্রিন্সের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হলো পবিত্র কোরআনের সূরা লোকমানের ১০ নম্বর আয়াতের সেই অমিয় বাণী: “তিনি আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন স্তম্ভ ছাড়া—তোমরা যা দেখতে পাচ্ছ।”

শাল্লার এই বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তরে দাঁড়ালে মহান আল্লাহর এই কুদরত যেন আরও স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়। যদিও এই জনপদে পাহাড়ের দেখা মেলে না, তবুও মাটির এই স্থিরতা এক বিশাল নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে পাহাড়কে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রিন্স ভাবছিলেন, এই যে হাওরের পলিমাটি, এর গভীরেও স্রষ্টা এমন এক অদৃশ্য সুনিপুণ প্রকৌশল রেখেছেন, যাতে পৃথিবী আমাদের নিয়ে টলটলায়মান না হয়। স্রষ্টার এই নিখুঁত ব্যবস্থাপনার কথা ভেবে তাঁর মনটা শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে এলো।

নদীর তীরের সবুজ ঘাসের দিকে তাকিয়ে প্রিন্স আরও লক্ষ্য করলেন, ছোট ছোট জোড়ায় জোড়ায় নানা রকম ঘাসফুল আর পতঙ্গ বিচরণ করছে। আল্লাহ কেবল আকাশ সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি জোড়ায় জোড়ায় জীবন সৃষ্টি করে এই পৃথিবীকে পূর্ণতা দিয়েছেন। বৃষ্টির ছোঁয়ায় মৃত মাটি থেকে তিনি যেভাবে জীবন জাগিয়ে তুলেছেন, তা এই হাওরবাসীকে বাঁচিয়ে রাখার মূল শক্তি।
​কিছু দূরেই দেখা যাচ্ছিল জাগতিক মোহে মত্ত কিছু মানুষের ব্যস্ততা, যারা স্রষ্টার সৃষ্টির চেয়ে কৃত্রিমতার মহিমা গাইতে ব্যস্ত। তখন প্রিন্সের মনে পড়ে গেল একই সূরার ১১ নম্বর আয়াতের সেই বলিষ্ঠ চ্যালেঞ্জ: “এই হলো আল্লাহর সৃষ্টি! সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্য যারা আছে তারা কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও।”

​একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আরাফাত রহমান প্রিন্স অনুভব করলেন, মানুষ প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছালেও একটি ঘাসফুলের প্রাণ বা আকাশের ওই বিশালতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে না। শাল্লার এই শান্ত বিকেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি এই সত্য উপলব্ধি করলেন যে—প্রকৃত মুক্তি আর আত্মার প্রশান্তি কেবল মহান স্রষ্টার সৃষ্টির রহস্য অনুধাবন এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাঝেই নিহিত।
​পরিশেষে আরাফাত রহমান প্রিন্সের সেই গভীর উপলব্ধিজাত আহ্বান: “আসুন, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কমিয়ে মাঝেমধ্যে প্রকৃতির এই অবারিত প্রান্তরে দাঁড়াই। এই আকাশ, এই জলরাশি আর এই শান্ত বাতাস আমাদের কানে কানে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্বের জানান দেয়। আমরা যেন কৃত্রিমতার মোহে পড়ে প্রকৃত মালিককে ভুলে না যাই। আসুন প্রকৃতির প্রতিটি পরতে স্রষ্টাকে খুঁজি এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হই।”

হাবিবুর রহমান হাবিব
লেখক ও সাংবাদিক
শাল্লা, সুনামগঞ্জ