
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও এক ইউপি সদস্যের মধ্যে নজিরবিহীন হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সামনেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু ও তাঁর ভাই জুয়েল চৌধুরী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার নেপথ্যে: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সহদেব চন্দ্র দাসের সঙ্গে চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। সোমবার বিকেলে সহদেব মেম্বার বকেয়া টাকা দাবি করলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শুরু হয় হাতাহাতি। প্রত্যক্ষদর্শী মেম্বারদের দাবি, সহদেব মেম্বার উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যানের কলার চেপে ধরেন এবং কিলঘুষি মারেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন; কিন্তু পাওনা চাওয়ার অজুহাতে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেম্বার সহদেব দাসের দাবি—তিনি চেয়ারম্যানের কাছে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা পান। টাকা চাওয়ামাত্রই চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন তাঁকে মারধর করে বের করে দেয়।
প্রশাসনের বক্তব্য: এ ব্যাপারে শাল্লা থানার ওসি মো. রোকিবুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন।
ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের এমন মারমুখী আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :