​হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শাল্লার হাওড়ে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক


sylnews24 প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ২:০৬ অপরাহ্ন /
​হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শাল্লার হাওড়ে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

হাবিবুর রহমান হাবিব, স্টাফ রিপোর্টার : পৌষের কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা—প্রকৃতির এই রুক্ষতাকে জয় করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হাওড়গুলোতে এখন বোরো আবাদের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জীবন-জীবিকার তাগিদে বৈরী আবহাওয়া তাদের কাছে যেন আজ হার মেনেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে শাল্লার বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেও কৃষকরা কাদা-জলে নেমে জমি তৈরি করছেন। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন, কেউবা সেই চারা আঁটি বেঁধে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধান জমিতে। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আগামীর সোনালী স্বপ্নের ঝিলিক।

তীব্র শীত নিয়ে শান্তিপুর গ্রামের কৃষক মোঃ দুলাল মিয়া, আইনুল হক ও হারিছ মিয়া বলেন, “শীত অনেক বেশি, হাত-পা জমে যায়। কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। হাওড়ের একমাত্র ফসল এই বোরো ধান। সঠিক সময়ে চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন ভালো হবে না, তাই কষ্ট হলেও আমরা মাঠে নেমেছি।” একই কথা জানান কান্দখলা গ্রামের রাখাল এবং সুখলাইন গ্রামের বিপ্লব চন্দ্র দাস।

ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মুসলিম পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মোঃ রফিক মিয়া এবং ব্যবসায়ী আব্দুল কালাম পন্ডিত জানান, শৈত্যপ্রবাহ চললেও কৃষকদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। কারণ বোরো ফসলই এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান প্রাণশক্তি। স্থানীয় সাংবাদিক দিলুয়ার হোসেন, তাপস চন্দ্র দাস ও হাফিজুর রহমান জানান, এবার এলাকায় অস্বাভাবিক শীত পড়েছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যে কিছু কম্বল বিতরণ করেছি এবং দু-একদিনের মধ্যে আরও বিতরণ করা হবে।” তিনি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, শাল্লার কৃষকদের প্রধান সম্পদই হচ্ছে বোরো ফসল। বছরের এই একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভর করে তাদের সারা বছরের খোরাকি ও সন্তানের পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত ও পোকার উপদ্রব না হলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।