ঈদুল ফিতর: আত্মশুদ্ধি ও সম্প্রীতির মোহনায় ​: হাবিবুর রহমান হাবিব


sylnews24 প্রকাশের সময় : মার্চ ১৮, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ন /
ঈদুল ফিতর: আত্মশুদ্ধি ও সম্প্রীতির মোহনায় ​: হাবিবুর রহমান হাবিব

​দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের পর পশ্চিম আকাশে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে খুশির বার্তা। পবিত্র ঈদুল ফিতর কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি মুমিনের হৃদয়ে সংযম, ধৈর্য এবং ভ্রাতৃত্বের এক পরম প্রাপ্তি। রমজানের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে এই দিনটি আসে ত্যাগের মহিমায় নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার জন্য।

সাম্য ও মিলনের উৎসব

ঈদের নামাজের জন্য যখন মানুষ দলে দলে ঈদগাহে সমবেত হয়, তখন সেখানে কোনো বিভেদ থাকে না। রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেজদা দেয়। ইসলামের এই সাম্যের শিক্ষা যদি আমরা বছরের বাকি দিনগুলোতেও ধরে রাখতে পারতাম, তবে সমাজ থেকে সব অন্যায় ও অবিচার মুছে যেত। ঈদের কোলাকুলি কেবল লৌকিকতা নয়, বরং তা হৃদয়ের সব মলিনতা ধুয়ে ফেলার এক পবিত্র মাধ্যম।

​ফিতরা ও বঞ্চিতের অধিকার

যাকাত যেমন সম্পদের পবিত্রতা আনে, তেমনি ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা ঈদের আনন্দকে সর্বজনীন করে। রমজান আমাদের শিখিয়েছে ক্ষুধার্তের যন্ত্রণা। তাই ইসলামের বিধান হলো—নিজেরা আনন্দ করার আগে সমাজের অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের ঘরে খাবারের ব্যবস্থা করা। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করি যে, ঈদের দিন যেন কেউ অনাহারে না থাকে। এটিই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা।

আত্মশুদ্ধির ধারাবাহিকতা

রমজান আমাদের যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতির শিক্ষা দিয়েছে, ঈদ হচ্ছে সেই শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এক মাসের অভ্যাস যেন ঈদের পর হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মিথ্যে বর্জন, পরোপকার এবং পরিচ্ছন্ন জীবন গড়ার যে প্রতিজ্ঞা আমরা করেছি, তা সারাবছর ধরে রাখাই হবে আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।

উপসংহার

এবারের ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি। আমরা যেন হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একে অপরকে আপন করে নিতে পারি। আমাদের চারপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাথে আনন্দের ভাগ নেওয়াই হোক এবারের ঈদের মূল লক্ষ্য। ঈদ মোবারক!

সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শাল্লা, সুনামগঞ্জ