হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের চিকিৎসা ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু


sylnews প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২২, ৯:০৬ পূর্বাহ্ন /
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের চিকিৎসা ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু

আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ ডেস্ক : হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের চিকিৎসা ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। আজ ১৩ মে বিকেলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীগঞ্জ বাজারে এই কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিকালে চুনারুঘাট রোড গাজীগঞ্জ বাজারের ফারিহা মেডিসিন সেন্টারে অনুষ্ঠিত চিকিৎসা কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুনারুঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ মো: লুৎফুর রহমান মাহালদার এবং প্রধান আলোচক ও উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের স্বত্ত্বাধিকারী, প্রাকৃতিক ঔষধ গবেষক হাকীম মো: আশরাফুল ইসলাম আয়ুর্বেদিক।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: ফরহাদ বখত চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জীবন আহমদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জামাল হোসেন লিটন, চুনারুঘাটের চাটপাড়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আবুল হাসান, আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের চিকিৎসক ও সিলেট বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ভেষজবিদ ফয়সল আহমদ বাবুল, সাহান বখত চৌধুরী শিপন, মিল্লাত বখত চৌধুরী, ব্যাংকক আছাদুজ্জামান, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য ইউসুফ আহমদ সুজন, ব্যবসায়ী নেতা কামরুল ইসলাম খান রাণীগাঁও ইউপি যুবলীগ সভাপতি দুলাল মিয়া তালুকদার প্রমুখ। মাওলানা এসএম আলী মর্তুজার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া বৃষ্টিভেজা বিকেলে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা কো-অর্ডিনেটর মোঃ ছাদেকুর রহমান। অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে এই কেন্দ্রটি শুভ উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে সকলের সুস্বাস্থ্য ও ব্যবসায়িক উন্নতি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মোঃ আবুল হাসান।

প্রধান আলোচক হাকীম আশরাফুল ইসলাম বলেন, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিশ্বের প্রাচীন ও বহুল ব্যবহৃত দুটি চিকিৎসা বিজ্ঞান। উদ্ভিজ্জ, প্রাণিজ ও খনিজ উপাদানের একক অথবা যৌগিক প্রয়োগ বা ব্যায়াম অথবা খাদ্যভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়, রোগ নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ অথবা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার চিকিৎসা ব্যবস্থা, পদ্ধতি, জ্ঞান এবং ধ্যান ধারণা ও বিশ্বাসের সমন্বন। ইউনানী চিকিৎসার উৎপত্তি ঘটেছিল গ্রীস শহরে, আর আয়ুর্বেদের উৎপত্তি পাক-ভারত উপমহাদেশে। সর্ব প্রথম চিকিৎসা বিজ্ঞানের সূচনা ঘটে বাবেল তথা ব্যাবিলনে (ইরাক)। পরবর্তীতে মিশর এবং তারপর পাক-ভারত উপমহাদেশ ও চীনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের চর্চা আরম্ভ হয়। কালের পরিক্রমায় বাবেল ও মিশর ধ্বংসের পর বাবেলীয় ও মিশরীয় চিকিৎসা সভ্যতা স্থানান্তরিত হয়ে গ্রীসের ইউনান নামক প্রদেশে ইউনানী চিকিৎসা নামে আত্নপ্রকাশ করে। সময়ের সাথে সাথে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান দুটি আলাদা কেন্দ্র থেকে তাদের আবিষ্কার, মানব কল্যাণে প্রয়োগ অব্যাহত রাখে এবং মুসলমানদের মাধ্যমে ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞান উপমহাদেশে প্রবেশ করে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
তিনি আরো বলেন, ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞান মনীষীদের রেখে যাওয়া নিরলস গবেষণার ফসল। তখনকার সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা স্থানীয় গাছ-গাছড়া নিয়ে বাস্তব পরীক্ষা নিরীক্ষার আলোকে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্যাবলি সংগ্রহ করে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সামর্থ্য হন। সুতরাং প্রাচীন কাল থেকে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি জানান, যুগে যুগে বিভিন্ন মনিষীদের গবেষণার ফসল ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চিকিৎসা জগতে আজ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিক যুগেও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সম্পুর্ণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত ইউনানী ঔষধ প্রস্তুত করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপদ ও উৎকৃষ্ট মানের ঔষধ প্রস্তুত করতে তার কোম্পানি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

উদ্বোধনী উপলক্ষে সকালে রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের চিকিৎসক ও সিলেট বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ভেষজবিদ ফয়সল আহমদ বাবুল এবং ফ্রী ঔষধ বিতরণ করেছেন আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ স্বত্ত্বাধিকারী হাকীম আশরাফুল ইসলাম আয়ুর্বেদিক।