জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সমরজিৎ রায়ের নতুন গান ‘মাঝরাতে’ প্রকাশিত


sylnews প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৬, ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন /
জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সমরজিৎ রায়ের নতুন গান ‘মাঝরাতে’ প্রকাশিত

বাংলাদেশের সবগুলো টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ সমরজিৎ রায়। তিনি একজন জাত শিল্পী। ইতিমধ্যে তার ১০০ টির ওপরে মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। এপার-ওপার বাংলার জনপ্রিয় এই শিল্পীর নতুন গান ‘মাঝরাতে’ গত ১৫ নভেম্বর তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিজেই গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন। গানের কথা লিখেছেন সিলেটের লেখালেখি জগতের প্রিয় মুখ লেখক ও কলামিস্ট অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি। তিনি আশা করেন গানটি দর্শক শ্রোতাদের মন জয় করবে। পূর্বের মতই তিনি ভালো একটি গান উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অত্যন্ত গুণী এই সঙ্গীত শিল্পী বরাবরের মতই দর্শক শ্রোতাদের ভালবাসায় মুগ্ধ হন। তিনি সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই দর্শক শ্রোতাদের নতুন নতুন সৃষ্টি উপহার দেন এবং নতুন প্রজন্মকে তুলে আনার চেষ্টা করেন।

সমরজিৎ রায় একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষক, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য বলতে গেলে তাঁর পিতা বাবু নেপাল চন্দ্র রায় হলেন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।তিনি কক্সবাজার জেলার স্বনামধন্য গণিত শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বড় দুই ভাই ডাঃ বিশ্বজিৎ রায় একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সত্যজিৎ রায় কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর একমাত্র ছোট বোন শর্মিলা রায় যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদায় বিচার বিভাগে কর্মরত। তিনি নয়াদিল্লীর গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চাঙ্গসংগীতে ডিগ্রি অর্জন এবং সারা ভারতবর্ষে সঙ্গীত বিশারদে উচ্চাঙ্গসংগীতে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান লাভ করেন।
পাশাপাশি ভারতের চন্ডীগড়ের প্রাচীন কলাকেন্দ্র থেকেও তবলা এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উপর ‘সঙ্গীত বিশারদ’ ডিগ্রি নেন তিনি। দিল্লীর গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ে দীর্ঘ বহু বছর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন এবং পরে মাটির টানে দেশে ফিরে আসেন।

সঙ্গীতের প্রথম গুরু চট্টগ্রামের আর্য্য সঙ্গীতের উপাধ্যক্ষ পন্ডিত নির্মলেন্দু চৌধুরী। এরপরে তিনি তালিম নেন ভারতের প্রখ্যাত দুই গুরু পদ্মশ্রী পন্ডিত মধুপ মুদ্গল ও পদ্মভূষণ পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে। নিজের মৌলিক গান হিসেবে পেয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী গীতিকার পুলক বন্দ্যােপাধ্যায়, বটকৃষ্ণ দে’র লেখা গান, কিংবদন্তী শিল্পী মৃণাল চক্রবর্তী কথা ও সুরে গান এবং কিংবদন্তী সুরকার অজয় দাসের সুরে গান।
তার সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় গান গেয়েছেন-
কিংবদন্তী শিল্পী অনুপ জলোটা, হৈমন্তী শুক্লা, অন্বেষা দত্তগুপ্তা, রূপরেখা ব্যানার্জী, প্রিয়াঙ্কা গোপ সহ ভারত ও বাংলাদেশের আরো অনেক গুণী শিল্পীরা।

সঙ্গীতে অসমান্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন- সারা ভারতবর্ষে গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিশারদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান লাভ করায় তিনি অর্জন করেন পন্ডিত ডি.বি পলুস্কর অ্যাওয়ার্ড, হরিওম ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড, সঙ্গীতা বসন্ত বেন্দ্রে অ্যাওয়ার্ড, বাসুদেব চিন্তামন অ্যাওয়ার্ড,নলিনী প্রতাপ কানবিন্দে অ্যাওয়ার্ড, সুশীলা অ্যাওয়ার্ড, সুখবর্ষা রায় অ্যাওয়ার্ড প্রভৃতি। সেই সঙ্গে লাক্স আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ সহ বাংলাদেশ ও ভারতে বিভিন্ন পুরস্কার। তার প্রথম হিন্দী এলবাম “তেরা তসব্বুর” ভারতের ” জিমা অ্যাওয়ার্ড ২০১১” তে “সেরা জনপ্রিয় এলবাম” বিভাগে মনোনয়ন পায় ভারতের সমস্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে।

তিনি বিভিন্ন সময়ে যে সমস্ত গুণীজনদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ও একান্ত সান্নিধ্য পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন – মান্না দে, মৃণাল চক্রবর্তী, অনুপ জলোটা, পন্ডিত যশরাজ, পন্ডিত শিবকুমার শর্মা, পন্ডিত হরিপ্রশাদ চৌরাশিয়া, ওস্তাদ জাকির হোসেন, জগজিৎ সিং, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, নির্মলা মিশ্র, হৈমন্তী শুক্লা, অজয় দাস, বটকৃষ্ণ দে, শ্রাবন্তী মজুমদার, কুমার বিশ্বজিৎ সহ আরো অনেকেই।

বাংলাদেশ ও ভারতে সমান জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পী সম্পর্কে লিখলে আসলে লেখা শেষ হবেনা। এই গুণী শিল্পীর সাথে সিলেটের তরুণ লেখক ও কলামিস্ট অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। সত্যিই তা সৌভাগ্যের ব্যাপার। উল্লেখ্য অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি শিক্ষকতা, রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সবকিছুর পাশাপাশি তিনি গীতিকারের স্বীকৃতি পেয়ে অনেক খুঁশি ও আনন্দিত। প্রিয় শিল্পী সমরজিৎ রায়ের নিকট অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন,এই ঋণ কখনো শোধ করার নয়। তিনি তার প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সমরজিৎ রায় এমন একজন বিনয়ী ও ভালো মানুষ যিনি নতুন প্রজন্মকে নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ করে দিচ্ছেন এবং তাদের কাছে আইকন হয়ে উঠছেন। অত্যন্ত গুণী এই শিল্পী গানের মাধ্যমেই বেঁচে থাকুক যুগ যুগ ধরে দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে।