ইমামদের সম্মানী ও কিছুকথা : মোঃ জাহাঙ্গীর আলম 


sylnews প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২১, ১:৪৩ পূর্বাহ্ন /
ইমামদের সম্মানী ও কিছুকথা : মোঃ জাহাঙ্গীর আলম 

মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে কয়েক লাখ ইমামের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চরমে। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবন যাত্রার মান বাড়লেও ইমামদের ক্ষেত্রে ভিন্নচিত্র ফুটে উঠে। মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে মসজিদ। আর মসজিদের ইমাম হলেন আমাদের মুসলিম সামাজের একজন র্ধমীয় নেতা স্বরুপ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো থেকে শুরু করে যখন একজন মুসলমন মারা যান তার জানাজা, ফাতেহা, দাফন, কবর জেয়ারত ইত্যাদি ইমামের সহায়তায় সম্পন্ন হয়। ঈদ, কোরবান, রমজানসহ বড় বড় র্ধমীয় অনুষ্ঠান পরিচালনায় ইমামের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মুসলিম সামাজে মসজিদের ইমামের এত গুরুত্ব থাকার পরও ইমামরা অবেহেলিত এবং ফকিরের মতো জীবনযাপন করছেন। 

একদিন চাকুরী হারানো সিলেট শহরের একজন ইমাম সাহেবের সাথে অনেক গল্প হলো। ইমামদের অনেক দুঃখ কষ্টের জীবন কাহিনী বললেন। ১৫ বছরের ইমামতি হারিয়ে তিনি বেকার জীবন যাপন করেন।চাকুরী হারিয়ে চিন্তিত হয়ে বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে শরীরে। কিছুদিন পরে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন।

সমাজের অনুকূল এবং প্রতিকুল মানুষের সাথে মানিয়ে নেওয়া এটাই যেন জীবনে বড় সংগ্রাম। নামাজে সুরা ছোট না বড় হবে, মোনাজাত ছোট না বড় হবে তা নিয়ে প্রায়ই নামাজে আসা কিছু মুসল্লি সমস্যা সৃষ্টি করেন। অনেক সময় মসজিদ কমিটিতে মতানৈক্য লেগে চাকুরী চলে যায় ইমামের। সেই ভয়ে থাকতে হয় সবার মন যুগিয়ে। শুক্রবার, ঈদে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিরামহীন কর্তব্যগুলো পালন করে ছুটির গন্ধ খুব কমই মিলে।তারপরও চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন। 

মুসলিম সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বেতন জানার পর কষ্টই হলো। ৫০০০ থেকে শুরু করে ভালো মসজিদের ইমামের বেতন ১০০০০। যেটা দায়িত্বের তুলনায় সাগরে বিন্দু কনা। সম্মানী পেশা থাকলেও অর্থনৈতিক ভাবে তারা অনেক খারাপ দিনাতিপাত করতেছেন। কোন কোন মসজিদে ২৫-৩০ বছর চাকুরী করার পরও জীবনের শেষ বেলায় দাড়িয়ে ফিরতে হয় খালি হাতে। বিলাসী জীবনতো দূরের কথা। 

বিলাসী জীবনের প্রতিযোগিতায় মসজিদ কমিটি মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যতটা গুরুত্ব দেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যাপারে তার সিকি ভাগও নজর দেন না। শহুরের গাছপালাহীন ইট পাথরের মসজিদের সাথে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন গ্রামের প্রতিটি মসজিদ কমিটির সদস্য এবং গ্রামবাসী। পাশের গ্রামের মসজিদে এসি নিজের মসজিদে এসি নেই, এযেন জাত যায় যায় অবস্থা। গ্রামে একশো জনের মধ্যে ৫ জন পাওয়া যাবেনা যাদের ঘরে এসি আছে। দিন রাতের বেশির ভাগ সময় ঘরেই অবস্থান করেন এসব মুসল্লিরা। কিন্তু দশ থেকে আধা ঘন্টার জন্য মসজিদে গেলে চরম গরম লাগে, এসি ছাড়া নামাজ হয়না। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশী কার্পেট, এয়ার কন্ডিশন বিলাসী খ্যাতে অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতা থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানী বাড়ানোর কথা শুনলে যেন মসজিদ কমিটির আকাশ মাথায় ভেঙ্গে পড়ে। ভাবখানা এমন যেন সম্মানী ছাড়া যদি ইমাম রাখা যেত তাহলে মুক্তি পেতেন। তারপরও আল্লাহ পাক চালিয়ে নিচ্ছেন সম্মানিত এই ব্যক্তিদের। চুরি করতে হচ্ছেনা, ঘুষ খেতে হচ্ছে না, অন্যকে ঠকানোর চিন্তা নেই, অন্যের জায়গা দখলেরও চিন্তা নেই। কিন্তু যারা নামমাত্র পরিশ্রম করে লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন নিচ্ছে তাদেরতো লোভ, অভাব. অশান্তি, রোগ কমেনি।ববং বেড়েছে। অবশেষে এই ইমামকেই নেতা মেনে পিছনে দাঁড়াতে হয় সবার। 

আজকের এই লেখা সমাজের আগামীর নেতৃত্বে আমার তরুণ যুবা ভাইদের জন্য। বিষয়টি একটু ভাবার সময় এসেছে। তরুণরাই পালটে দিতে পারে সমাজের অনেক কুসংস্কার। আমরা যেন এই মুসলিম সমাজের নেতাদের এবং পরিবারের দিকে সমাজের বিত্তবান এবং সরকারের সুদৃষ্টির ব্যাপারে তৎপর থাকি।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (লেখক ও গীতিকার)