বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি 


sylnews প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২১, ১:১৪ পূর্বাহ্ন /
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি 

আগামী ২৩ শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সিলেট নগরবাসী ও দেশবাসীসহ সবাইকে সালাম ও আদাব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ২০০৭ সালের ৪ আগস্ট সিলেট গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলায় আহত বিজয়ী যোদ্ধা এবং একজন সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন এর পক্ষ থেকে মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

প্রথমেই আমি স্মরণ করতে চাই, বাংলাদেশের স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ১৫ আগস্টে নিহত পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দের। স্মরণ করতে চাই জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের। স্মরণ করতে চাই করোনাকালীন সময়ে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী সিলেটের জননেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সহ সারা দেশের আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দদের। 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সফল সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি মহোদয়কে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সততা, আদর্শ, পরিশ্রম, স্নেহ, মমতা, ভালবাসা, শাসন ও সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হল বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি সর্ববৃহৎ ও সুপ্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন । স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের উত্থান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। আওয়ামী লীগের সৃষ্টির ইতিহাস বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস কখনো কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হল একটি গণ মানুষের প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হল গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এটি হল একটি আদর্শিক সংগঠন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২১শে জুলাই ছাত্রলীগের ৩ দিন ব্যাপী সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আদর্শ বজায় রাখলে সংগঠন এর মৃত্যু হয় না ‘। আওয়ামী লীগ সৃষ্টির পর থেকেই সেই আদর্শকে বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনো সেই আদর্শকে অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর তনয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সফল সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল ও টেকসই উন্নয়নের যোগ্য দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুপ্রাচীন সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ এখনো তার জনগণের আস্থা, বিশ্বাসের জায়গা ধরে রেখেছে । রাজনৈতিক মুলধারার এই সংগঠনের ভিত্তি এতটাই শক্ত যে, এই সংগঠন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই আস্থা, বিশ্বাস ও আদর্শকে ধরে রেখে এগিয়ে যাবে। সৃষ্টি করবে আরও নতুন নতুন ইতিহাস। ৪৯ থেকে শুরু করে বর্তমান ও ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে ইতিহাসের কালের সাক্ষী ।

১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করে। জন্মের পর থেকেই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে সততা ও আদর্শকে ধারণ করে এবং সমাজ ও সংস্কৃতিতে সমন্বয় করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাঙালি জাতির যত শ্রেষ্ঠ অর্জন আছে তার মূলে রয়েছে গণমানুষের এই সংগঠনের অবদান ও নেতৃত্ব। সংগঠনের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বৃহৎ সংগঠনের নেতৃত্বে ও প্রাণপুরুষ যারা ছিলেন, তারা হলেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, এম.মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান প্রমুখ। তাই আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল, সমৃদ্ধ ও সংগ্রামের ইতিহাস। এই ইতিহাস কখনো ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না । 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক সংগঠন। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শোষণমুক্ত সমাজ, উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রাম, আওয়ামী লীগ মানেই বিজয়গাঁথা সংগঠনের নাম।

পাকিস্তানের শোষণ, নিপীড়ন,অন্যায়- অত্যাচার, দুঃশাসন, হত্যা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছিল সোচ্চার। বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই সংগঠন ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে । ৫২’এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪’এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের আন্দোলন , আইয়ুবের এক দশকের স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২’ ও ৬৪’এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ ‘ এর ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ৬৮’এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থান, ৬৯’ এর ৫ই ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ, ৭০’এর নির্বাচনে বিজয়, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের কালো রাতের পরে ২৬ মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমগ্র বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’কে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এবং কারাগারে বন্দী করে দেশদ্রোহী মামলায় ফাঁসির আদেশ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’কে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার গঠন করে এবং ১৭ এপ্রিল নির্বাচিত সরকার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় ( মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের অধীনে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করে। সমগ্র বিশ্বে রচিত হয় স্বল্প সময়ে বিজয়ের নতুন ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ ‘। বিজয় অর্জনের পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন । স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেই তিনি বিধ্বস্ত রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগী হন। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালোরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এবং হত্যা করা হয়। জাতীয় জীবনে নেমে আসে ঘুর অন্ধকার। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণ সহ সমগ্র বিশ্বের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যায়।এই হত্যার মধ্য দিয়ে সারা বিশ্ব হারালো একজন মহান ও বিশ্ব নেতাকে। আর বাঙালি হারালো বাংলাদেশের স্থপতি ও তাদের জাতির পিতাকে। এই অপূরণীয় ক্ষতি কখনো পূরণ হবার নয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে পৃথিবীর ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের পেত্মা ও দোসররা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই তারা বাংলাদেশে রাজত্ব কায়েম করতে পারবে। কিন্তু ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’। ১৯৮১ সালের ১৭ ই মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তারপরই তিনি শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের না বাংলাদেশেরই হাল ধরেছিলেন। তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরই তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপরেখা পাল্টে দিয়েছিলেন। হেনরি কিসিঞ্জার এর সেই Bottom Less Basket এর দেশকে তিনি বিশ্বের বুকে নতুন করে দ্বার করিয়েছেন।তিনি ২০০৮ সালে আবারও জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তারপর থেকে বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ এই তিন টার্মে ক্ষমতায় বসে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাঁর জাদুকরী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে ইউএন কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জননেত্রীর অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। যা অতীতের কোনো সরকারের সাথে তুলনা করা চলে না। 

জননেত্রীর অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার জন্য বার বার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা সহ তাকে প্রায় ১৯ বারের ওপর হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। ১/১১ এর মত বাংলাদেশে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত করা হয়েছে। কোন অপশক্তিই জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যাকে দাবায়ে রাখতে পারেনি। তিনি ২০০৮ সালে আবারও জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তারপর থেকে বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ এই তিন টার্মে ক্ষমতায় বসে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাঁর জাদুকরী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে ইউএন কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জননেত্রীর অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। যা অতীতের কোনো সরকারের সাথে তুলনা করা চলে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বের At a glance : করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য। যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। ★করোনাকালীন সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ভারতকে অতিক্রম করেছে। আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২২২৭ মার্কিন ডলারে। ★করোনাকালীন সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনীতিতে প্রথম স্থান অর্জন ★ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪৫.১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ★ রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ★ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার করোনাকালীন সময়ে ৫.২৪ %, এ বছর প্রবৃদ্ধি ৬.১% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ★করোনা মহামারীর সময় ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার ওপরে প্রণোদনা প্যাকেজসহ ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ★ করোনাকালীন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন করে ৪০০০ জন চিকিৎসক, ৫০৫৪ জন নার্স, ১২০০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ১৬৫০ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ১৫০ জন কার্ডিওগ্রাফারসহ কয়েক হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৫৬ টি কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সংখ্যা উন্নতি করা হয়েছে। ১১০০ আইসিইউ শয্যা ছাড়াও ১২৫০০ সাধারণ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৪২১৭ জন চিকিৎসককে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা প্রদানের জন্য হটলাইনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। করোনাকালে চিকিৎসা ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে সম্পাদন করার জন্য ৪৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি ও ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়েছে ★লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি ২৫ লাখ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে ★ করোনা ভেকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভেকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে ★ ১ কোটি ৮১ হাজার ডোজ ভেকসিন দেওয়া হয়েছে। খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে করোনা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে 

★ করোনাকালীন ননএমপিও শিক্ষকদের ৭৫ কোটি টাকা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে ★ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’ থেকে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে ★ করোনাকালীন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের ৩৫ লক্ষ পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ★ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ১ লক্ষ কৃষককে ৫০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে ★ করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতিগ্রস্ত ৪ লক্ষ খামারিকে ৫৫৪ কোটি টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ★ করোনাকালীন গতবছর প্রায় ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার পণ্য ভ্রাম্যমান ব্যবস্থায় বিক্রয় করা হয়েছে ★ করোনাকালে কৃষি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য উৎপাদন ও পন্য পরিবহন নিশ্চিতকরণে ব্যাপক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ১৮০০ এর অধিক কম্বাইন হারভেস্টার, ৭০০টি রিপার, ২১৫ টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কৃষকদের মাঝে ৫০- ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ★ ৬২ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে বিএডিসির মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যে ৮১,২৫৯ টন ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ★ করোনাকালীন খাদ্য সহায়তার জন্য ৩৩৩ নম্বরে কল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সূদুর প্রসারি নেতৃত্বে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

গত ১২ বছরে সাফল্যের খাতায় যা যুক্ত হয়েছে তার আংশিক এবং আগামীর উন্নয়ন ও মহা পরিকল্পনার কিছু অংশ তুলে ধরা হলঃ 

★ স্থলসীমা বিজয় ★সমুদ্র বিজয় ★ মহাকাশ বিজয় (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট) ★ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর ★ জাতির জনকের হত্যার বিচার ★ পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন ★প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার এর বেশি গৃহহীনদের পাকা ঘর হস্তান্তর (মোট হবে ৯ লক্ষ) ★ ১লা জানুয়ারি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বই হস্তান্তর ★মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২০,০০০ টকায় উন্নতিকরণ ★ ৯০ লাখ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মানুষকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে 

★ ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তির সুযোগ ও সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে ★ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ★ চাকুরীজীবিদের বেতন বৃদ্ধিকরা হয়েছে ★মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু যুবঋণ কার্যক্রমের আওতায় জামানতবিহীন প্রায় ৯০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ★ শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া হচ্ছে ২০ কোটি ডলার ঋণ ★ কর্ণফুলি বঙ্গবন্ধু টানেল ★ মেট্রোরেল প্রকল্প ★যমুনা বহুমুখী রেললাইন প্রকল্প ★ রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ★ মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প ★ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ★ পায়রা সমুদ্রবন্দর ★ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ★ মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল ★ মিরসরাই থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প ★শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাস্তবায়ন প্রকল্প ★ নতুন সাবমেরিন সংযুক্তকরণ ★ লেবুখালি সেতু বাস্তবায়ন ★সারাদেশে স্থাপন করা হয়েছে ৩০ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিকেল ক্যাবল। দেশের ৯০ভাগ এলাকা ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে ★সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে বঙ্গবন্ধু টেকনোলজি পার্ক ★ ঢাকা-সিলেট সিক্স লাইন প্রকল্প ★ সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ১২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ★ যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ★ ICT সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও আউটসোর্সিং এ বিশ্বে অষ্টম স্থান অর্জন ★ সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার বছরে আয় করে সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ★ বাংলাদেশে ই-কমার্সের মার্কেট সাইজ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা যা ৫ বছর আগে ছিলো মাত্র ৫৬০ কোটি টাকা ★ বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী (মিরসরাই) ★১০ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও ভাসানচরে আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ★ ৫৬০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প। ইতিমধ্যে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে ★ মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২.৬ বছর ★ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪,৪২১ মেগাওয়াট ★ বিদ্যুৎ আওতাধীন জনগোষ্ঠী প্রায় ১০০% ★ মোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৪০ টি ★ দ্বীপ গুলোতে ক্যাবলের মাধ্যমে শতভাগ বিদ্যুৎতায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে 

★ অফিস, দোকান ও গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ★ দারিদ্র্যের হার ২০.৫% এ নেমে এসেছে ★ খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা ৪২১ লক্ষ মেট্রিকটন দাঁড়িয়েছে ★ বৈদেশিক বিনিয়োগ ৩৯০ কোটি মার্কিন ডলার ★ কৃষি ভর্তুকী প্রদান ৯,৫০০ কোটি টাকা ★ রেমিট্যান্স আয় ২১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার ★রপ্তানিমুখী পণ্য বহুমুখীকরণে ৪টি প্রযুক্তিকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে 

★ ভূমিমন্ত্রনালয়ের ডিজিটাল রেকর্ড রুম যুক্ত হয়েছে ★জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইনে বাস্তবায়ন হয়েছে ★গুজব সংক্রান্ত যে কোন তথ্য যাচাইয়ের জন্য ৯৯৯ নাম্বারে কলের ব্যবস্থা করা হয়েছে ★ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ ★ চাপাইনবয়াবগঞ্জ থেকে ঢাকা স্পেশাল ম্যাংগো ট্রেন উদ্বোধন ★ ডাক ভবন উদ্বোধন ★চারটি মেরিন একাডেমি উদ্বোধন ★ E-passport এর যুগে পদার্পণ ★মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণের মেগা প্রকল্প ★ সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭৩.২ % ★কক্সবাজার খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্প ৫তলা বিশিষ্ট ১৩৯টি ভবন ও ১০তলা বিশিষ্ট ১টি টাওয়ার ★১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ★ ৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ★ ৩০টি জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র এবং ৫টি মুজিব কিল্লা উদ্বোধন করা হয়েছে । এছাড়া আরও ৫০টি মুজিব কিল্লার ভিত্তিফলকও উন্মোচন করা হয়েছে। ★ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে নজিরবিহীন সফলতা ★দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা ★নিজের দল থেকেই শুদ্ধি অভিযান ★২০২৫ সালের মধ্যে ৩৫০০০ শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্প ★ ★২০৩৫ সালে বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতির সমৃদ্ধ দেশের হাতছানি ★১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার মহা পরিকল্পনা ★ পূর্বাচলে ১১১ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর কাজ শুরু ★ রেললাইন আধুনিকায়ন প্রকল্প ★ খেলাধূলায় অতীতের তুলনায় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ ও যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপ বিজয় ★ প্রত্যেক বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ ★ কূটনৈতিক বিষয়ে গুরুত্ব ও বিভিন্ন বিষয়ে সফলতা ★ গণতন্ত্র সূচকে চতুর্থ দেশে অবস্থান ★ এসডিজি উত্তরণের শীর্ষ তিনে বাংলাদেশ ★ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশ । সবদিক বিবেচনা করলে বলা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবেই। 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেজন্য তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য চলমান বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সাথে সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হোক। ফলে বিশুদ্ধ রাজনীতির চর্চা গড়ে উঠবে এবং তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনীতির নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। 

৭ দশকের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটাই ব্যর্থতা হল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের দল ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় সবসময় সজাগ থাকে। যা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির এলার্জির মূল কারণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনগণের পাশেই ছিল, বর্তমানে আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূর থেকে বহুদূর এগিয়ে যাবে ও স্বপ্নের বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ও হবেই।

 

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু 

 

অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি 

লেখক ও কলামিস্ট।

উপ-দপ্তর সম্পাদক

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ।