Saturday, 17 August, 2019

চাপের মুখে রংপুরে এরশাদকে দাফনের ঘোষণা


সিলনিউজ ডেস্কঃ নেতাকর্মীদের চাপের মুখে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এরশাদের লাশ দাফন করা হচ্ছে রংপুরেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের এক দফা দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পার্টির ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারী খন্দকার দেলোয়ার জালালী।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির সঙ্গে সম্মতি জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, এরশাদের স্ত্রী রওশন ও পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ নেতৃবৃন্দ।

তার আগে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ নামাযে জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বাধা উপেক্ষা করেই লাশবাহী গাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে নিয়ে যাওয়া হয় পল্লী নিবাসে। এসময় ‘এরশাদের দাফন হবে, রংপুরে-রংপুরে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পাশাপাশি প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন। এরশাদকে ঢাকায় দাফনের সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন রংপুরের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের বুঝাতে ব্যর্থ হন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পল্লী নিবাসের লিচু বাগানে গতাকালই কবর খুড়ে রাখা হয়েছে। ওই কবরেই প্রিয়নেতাকে সমাহিত করা হবে। বেলা ২টা ২৮মিনিটে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এরশাদের চতুর্থ জানাজা শেষ হয়। তার আগ থেকেই এরশাদের দাফন নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় নেতাকর্মী ও এরশাদের ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে।

তার আগে সকাল ১১ টায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে রংপুরে পৌঁছে এরশাদের লাশ। এরশাদের লাশ বহনকারী হেলিকপ্টারটি রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করা হয়। এসময় বিপুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়া রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাকে শেষ দর্শন করেন। এসময় সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মারা যান সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন।