আবার ভূমধ্যসাগরে ভাসছেন ৬৪ বাংলাদেশি

সিলনিউজ ডেস্ক: এক মাস আগে তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে যেখানে নৌকাডুবিতে ২৭ বাংলাদেশির মৃত্যুর শোক না কাটতেই আবারও একই স্থানে সেই তিউনিসিয়ার উপকূলে নতুন করে আরো ৬৪ জন বাংলাদেশির আটকে পড়ার মতো আরেকটি চাঞ্চল্যকর খবর এসেছে। আগেরবারের মতো এবারও বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সিলেটের বাসিন্দা। তবে কতজন সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা তা জানা যায়নি। ওই ৬৪ বাংলাদেশীসহ মোট ৭৫ জন অভিবাসীকে নিয়ে গত ১০ দিন ধরে দি মেরিডাইভ-৬০১ নামের একটি মিসরীয় জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকা পড়া অবস্থায় আছে। কারণ তাদেরকে তীরে ভীড়তে দিতে তিউনিসিয়া সরকার অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ৭৫ জনের মধ্যে অন্তত ৩২ জন নাবালক এবং অভিভাবকহীন রয়েছে।

এই অভিবাসীদের গত ৩১ মে মিসরীয় টাগ বোট দি মেরিডাইভ-৬০১ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে। তারা সবাই লিবিয়া থেকে ইউরোপীয় গন্তব্যে যেতে যাত্রা শুরু করেছিল। তিউনিসিয়া এবং ইটালির মধ্যে তেলট্যাংকার হিসেবে ওই টাগবোটটি চলাচল করে থাকে। দক্ষিণ তিউনিসিয়ার জার্জিস সমুদ্র বন্দরের কাছে ওই অভিযাত্রীদের বিপদাপন্ন দেখে টাগ বোটটির নাবিকরা উদ্ধার করে। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ফাউজ সামির উদ্ধারের পরপরই তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে জার্জিসে নোঙর করার অনুমতিদানের জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু অনুরোধে সাড়া মেলেনি। সেই থেকে তারা সাগরে ভাসছেন। সরকারি অনুমতি মিলছে না। গত সোমবার তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অভিবাসীরা কোনো একটি ইউরোপীয় গন্তব্যে যেতে চাইছে। গত সপ্তাহের গোড়ায় দক্ষিণ তিউনিসিয়াভিত্তিক রেডক্রিসেন্ট অভিবাসীদের খাদ্য ও ওষুদ সরবরাহ করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা বলেছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে পানি খাদ্য ও ওষুধ দরকার।
তিউনিসীয় এনজিও টিএফইএসআর তাদের অনলাইনে অভিবাসীদের ওপর কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, অভিবাসীরা চিৎকার করে বলছে, ”আমরা খাদ্য চাই না। আমরা এখানে থাকতে চাই না। আমরা ইউরোপে যেতে চাই

উল্লেখ্য গত মাসে এই উপকূলে প্রায় ৬০ জন অভিবাসীর মৃতু্ ঘটে। যার বেশির ভাগ ছিল বাংলাদেশি। এরমধ্যে ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সিলেটের যারা সনাক্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন, জিল্লুর রহমান, লিমন আহমেদ, আবদুল আজিজ, আহমেদ, জিল্লুর, রফিক, রিপন, আয়াত, আমাজল, কাসিম আহমেদ, খোকন, রুবেল, মনির, বেলাল ও মারুফ; সুনামগঞ্জের মাহবুব, নাদিম ও মাহবুব এবং মৌলভীবাজারের শামিম, ফাহাদ।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx