Thursday, 22 August, 2019

মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনে প্রার্থী হতে চান হিরো আলম


সিলনিউজ ডেস্ক:: সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন সিডি ব্যবসায়ী থেকে ‘তারকা’ বনে যাওয়া হিরো আলম। শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি একথা জানান।

হিরো আলম বলেন, ‘বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। আমার বাড়ি সদর উপজেলায় হলেও গত নির্বাচনে তার (খালেদা) প্রতি সম্মান দেখিয়ে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু অনিয়মের কারণে ভোট বর্জন করি। এবার সদর আসনে জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে খালেদা জিয়া নেই। তাই প্রার্থী হবো। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন না দিলে অবশ্যই স্বতন্ত্র প্রার্থী হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছি। আগামী ২৪ জুন বগুড়া সদর আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে আমি পার্টির মনোনয়ন চেয়েছি। পার্টি আমাকে সমর্থন না দিলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবো।’

গত সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সিংহ প্রতীকে ৬৩৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান হিরো আলম।

এ ব্যাপারে হিরো আলম বলেন, ‘অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও কারচুপির কারণে হেরে যাই। প্রতিপক্ষ আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কারচুপি করে। আমাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমি নির্বাচন বর্জন করি। আশা করছি, এবার নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবো।’

গত ৬ মার্চ হিরো আলমের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমিকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন সুমির বাবা সাইফুল ইসলাম খোকন। এদিন রাত ১০টার দিকে একই থানায় মামলা করতে গেলে হিরো আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ১৮ এপ্রিল ৪৩ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান হিরো আলম।

এ ব্যাপারে হিরো আলম বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। থানায় আমাকে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করে। আমার স্ত্রী আদালতে দাঁড়িয়ে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বললেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তুচ্ছ ঘটনায় আমাকে জেলভোগ করতে হয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখেই আছি। ২-১ দিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরবো।’

সিডি ব্যবসায়ী থেকে তারকা বনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম। বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামে সিডি বিক্রি এবং পরে কেবল সংযোগের ব্যবসা করতেন তিনি। কেবল সংযোগের ব্যবসার সুবাদে মিউজিক ভিডিও তৈরি শুরু করেন। প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও এবং ৮০টি ইউটিউব চলচ্চিত্র ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় তাকে নিয়ে ট্রল হয়। ‘মার ছক্কা’ নামে একটি চলচ্চিত্রেও নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ নামে একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন তিনি। ইয়াহু ইন্ডিয়ার জরিপ অনুযায়ী, ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানের চেয়েও হিরো আলমকে বেশিবার খোঁজা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে দেশজুড়ে তাকে নিয়ে আলোচনা হয়।