ভাড়ায় আনা বিমানে মাসে ১০ কোটি টাকা লোকসান

সিলনিউজ অনলাইনঃ পাঁচ বছর আগে ইজিপ্ট এয়ার থেকে ভাড়ায় আনা দুটি উড়োজাহাজের কারণে মাসে ১০ কোটি টাকা লোকসান গুণছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অসম চুক্তির কারনে উড়োজাহাজগুলি ফেরতও পাঠাতে পারছে না রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ প্রতিষ্ঠান।

যাত্রী সুবিধা ও রুট বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে ২০১৪ সালে ইজিপ্ট এয়ারের দুটি বোয়িং ট্রিপল সেভেন মডেলের উড়োজাহাজ ভাড়া করে বিমান। ড্রাই লিজ পদ্ধতিতে করা চুক্তি অনুযায়ী, উড়োজাহাজ দুটি যাত্রী পরিবহন করুক বা না করুক প্রতিটির জন্য মাসে ভাড়া গুণতে হয় ৪ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

যুক্ত হওয়ার এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালেই প্রথম উড়োজাহাজের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়। পরে মাসে আট লাখ টাকায় ইজিপ্ট এয়ার থেকে ভাড়া আনা হয় ইঞ্জিন। কিছুদিনের মধ্যে বিকল হয় দ্বিতীয় ইঞ্জিনও। দ্বিতীয় উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, প্রতিমাসে বিমানের ১০ কোটি টাকা ড্রেনেজ হয়ে যাচ্ছে। যখন বিমানগুলো নেয়া হয়েছে সঠিকভাবে নেয়া হয়েছে কিনা যাচাই করে দেখার বিষয় আছে। এর পরেও যে ইঞ্জিনগুলো নেয়া হয়েছে সেগুলোও প্রচলিত ইঞ্জিন নয়, যার কারনে এটি বেশিদিন চলতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই এমন সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স। দায় দেখছেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষেরও।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, যাদের সাথে আমি ল্যেসার বা ল্যেসি আমরা যে দুই পক্ষ নিশ্চই সমান অপরচ্যুনিটি গুলো থাকতে হবে। এখানে লিজে কি ছিলো আমরা জানি না। কিন্তু যেটা আমরা দেখছি আমার কাছে মনে হয়, এটা বিমানের ফেবারে তেমন একটা ছিলো না।

প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনা না করে ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে উড়োজাহাজ দুটি ভাড়ায় আনা হয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করছে মন্ত্রণালয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, বিমানগুলো পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভিয়েতনামের একটি কোম্পানি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছিলো। সে কাজটি শেষও করতে পারছে না, ইজিপ্ট এয়ারও নিতে পারছে না। প্রতি মাসে সরকারের ১০ কোটি টাকা অর্থাৎ বিমানের তাকে ১০ কোটি টাকা ভাড়া হিসেবে দিতে হচ্ছে। আমরা একটা প্রক্রিয়া নিয়েছি যতো দ্রুত এটা ফেরত দেয়া যায়।

ড্রাই লিজের নিয়ম অনুসারে উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেয়ার সময় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে, উড়োজাহাজ দুটি মেরামত করতেও বিপুল অর্থ খরচ করতে হবে বিমানকে।

সুত্রঃ ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx