মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে সার্বজনীনভাবে তুলে ধরেছেন কবি আখলাকুর রহমান

মো. আব্দুল বাছিত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জনসংযোগ পরিচালক, গবেষক ও বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী ড. সেলু বাসিত বলেছেন, কবি ও প্রাবন্ধিক আখলাকুর রহমান একজন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী লেখক। শিক্ষা, সমাজ, সাহিত্য ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ট ও সার্বজনীনভাবে উপস্থাপন করেছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সৃষ্ট আখলাকুর রহমানের রচনা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে সুষ্পষ্টভাবে ধারণা দেবে।
ইউনিক লজিস্টিকস সিলেট-লন্ডন-নিউইয়র্ক-এর উদ্যোগে কবি ও প্রাবন্ধিক আখলাকুর রহমানের এক গুচ্ছ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার বিকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কবি ও আখলাকুর রহমানের ১৬টি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জামিল আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মদনমোহন কলেজ, সিলেট-এর সাবেক অধ্যক্ষ কবি-গবেষক প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহ. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি এবং অনুভূতি ব্যক্ত করেন গ্রন্থগুলোর লেখক ছাতক মঈনপুর জনতা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আখলাকুর রহমান।
ছাতক মঈনপুর জনতা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রুহুল করিম শিবলু এবং জগন্নাথপুর হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালেহা পারভীনের যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ছাতক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমদ, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নেছার আহমদ, মঈনপুর জনতা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পবিত্র কুমার দেব, জাউয়া বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল গাফফার, আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ, মঈনপুর জনতা মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে কবি আখলাকুর রহমানের ‘আমিই বাংলাদেশ’ কাব্যগ্রন্থের বাঙালির শেখ মুজিব’ কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব অম্বরীশ দত্ত এবং ‘আমিই বাংলাদেশ’ কবিতা আবৃত্তি করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সিলেট-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনির। অনুষ্ঠানে সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও কবি আখলাকুর রহমানের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জনতা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, উক্ত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আখলাকুর রহমানের ১৬টি গ্রন্থের প্রকাশনা সম্পন্ন হয়। প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ গ্রন্থগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রবন্ধ, কাব্য, মূল্যায়নধর্মী গ্রন্থসহ বেশিরভাগ গ্রন্থই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে রচিত। পাশাপাশি সিলেট বিভাগ আন্দোলনসহ তাঁর ব্যক্তিজীবনের বিচিত্র বিষয়গুলো চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। কবি ও প্রাবন্ধিক আখলাকুর রহমান ছাতকের মঈনপুর জনতা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মদনমোহন কলেজ, সিলেট-এর সাবেক অধ্যক্ষ কবি-গবেষক প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, কবি আখলাকুর রহমান একজন সব্যসাচী লেখক। সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে তিনি তাঁর সৃজনকর্মকে নানামাত্রায় ব্যঞ্জিত করেছেন। অবচেতনমনে উপলব্ধ চেতনাকে শিক্ষা, সমাজ, সাহিত্য ও রাষ্ট্রের জন্য যোগসূত্র স্থাপনে অবদান রাখছেন। তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহ. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি বলেন, দেশ ও জাতির জন্য সাহিত্যচর্চা করছেন কবি আখলাকুর রহমান। বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে চিত্রায়নে তিনি যে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের অবতারণা করেছেন, নি:সন্দেহে তা প্রশংসনীয়। তাঁর এই প্রচেষ্টা যেমন দেশের জন্য গর্বের, তেমনি তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে।
অনুভূতি ব্যক্ত করে কবি ও প্রাবন্ধিক আখলাকুর রহমান বলেন, প্রত্যেক জাতিরই গর্ব করার মত ইতিহাস-ঐতিহ্য থাকে। সেই জাতিকে একসময় ইতিহাসের দিকেই ফিরে যেতে হয়। বাংলাদেশ তথা সিলেটের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মূলত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উপলব্ধ ধী-শক্তিই আমার সৃজনী কর্মের প্রেরণার উৎস। আত্ম পরিচয় এবং স্বকীয়তাকে রক্ষার মাধ্যমে একটি জাতি ঐক্যের দিকে ধাবিত হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু তথা বাংলাদেশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বলে এটা বাঙালির জন্য চিন্তার খোরাক। পাঠক সমাজ এ থেকে উদ্বুদ্ধ এবং অনুপ্রাণিত হলেই আমার প্রচেষ্টা সফল হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx