২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস : দ্বিন মোহাম্মদ আরজু মন্দ আলী

২৬ মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস

২৬ মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় দিন। মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত বাঙ্গালী জাতি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরনপণ প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল এই দিনে। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে ধীক্ষা নিয়ে চিরকালীন দাসত্ব মুছিয়ে লাখো প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য।

সত্তোর র্নিবাচনে বাঙ্গালীর প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের পার্লামেন্টে নিরক্ষুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা সেদিন সংখ্যা গরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা করে। তারা ক্ষমতার বদলে বুলেট আর কামানের গোলায় একটি জাতিকে নি:স্ব করে দিতে চেয়েছিল। ২৫শে মার্চের কালরাতে ঘুমিয়ে থাকা নিরীহ নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ট্যাংক, কামান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। ঢাকা শহরে বয়ে ছিল রক্তের বন্যা। ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার আগে ৭ই মার্চের বিশাল জন সভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করে ছিলেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

দীর্ঘ ৯মাস ধরে চলে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযোদ্ধ। দূঃখের বিষয় তখন এদেশের ই কিছু কু-সন্তান হাত মিলিয়ে ছিল পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে। গড়ে তোলে ছিল আলবদর, আল-শামস্ সহ বিভিন্ন জাতের বাহিনী। তাদের অত্যাচার নির্যাতন পৃথিবীর ইতিহাসের সব বর্বরতা কে হার মানিয়েছিল। তার সত্ত্বেও ৩০লাখ শহীদের রক্তসহ বহূ আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর আমরা চুড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছি। মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে স্বাধীনতা যোদ্ধের সব শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধ ও যারা-নির্যাতন- নীপিড়নের স্বীকার হয়েছিলেন তাদের সবাইকে আমরা প্ররম শ্রদ্ধায় স্বরণ করি। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৮ বছর পরে কাউকেই বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই যে, একটি জাতির জন্য মর্মার্থ কী।

কিছু অপূর্নতা সত্তেও আমাদেও প্রিয় স্বদেশ , প্রিয় বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলছি, উন্নত করছি বিশ্বসভায় উপস্থিতির স্বাক্ষর রাখছি তা যেকোন সময়ের চেয়েও অনেক দূশ্যমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আমরা নি¤œ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে উঠেছি। শিশু মৃত্যু কমেছে , গড় আয়ূ বাড়ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে। ২শ জাতির বিশ্বে মাত্র জাতির ক্রিকেট ক্লাবের আমরা সদস্য, নানা ক্ষেত্রে ঘটেছে উন্নয়ন। বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা থাকবেই বড় কথা হচ্ছে- চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যে এগিয়ে যেতে পারছে বাংলাদেশ সেই বিকাশ সম্ভব হচ্ছে স্বাধীনতা আছে বলে। আমরা জানি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধের মূল চেতনা ছিল জাতীয় ঐক্য, ন্যায় ও গনতন্ত্র, অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি। সন্দেহ নেই, দরিদ্র বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে আমাদেরও অনেক অগ্রগতি রয়েছে। তবে গণতন্ত্রেও আশানুরূপ বিকাশ ঘটেনি। মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সহ সর্বস্থরে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের লক্ষ্য হোক ৪৮তম স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গিকার। এ জন্য সব রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান , সংগঠন, সংস্থা ও ব্যক্তি নাগরিক পর্যায়ে ন্যায়, সততা ও সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন।

লেখক- দ্বিন মোহাম্মদ আরজু মন্দ আলী
গ্রাম- ইসহাকপুর, জগন্নাথপুর, উপজেলা।
লেখা সংগ্রহে: বিপ্লব দেব নাথ

ফেসবুক মন্তব্য
xxx