শিগগিরই ডাকসুর নির্বাচিতদের অভিষেক হবে

সিলনিউজ অনলাইনঃ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের চিঠি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিগগিরই নির্বাচিত নেতাদের অভিষেক হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। এদিকে, পুণর্নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচন, হল প্রভোষ্টের পদত্যাগ, মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের রোকেয়া হলের সামনে বুধবার রাত থেকে আমরণ অনশন করছেন রোকেয়া হলের কয়েকজন ছাত্রী। এদের মধ্যে ডাকসু ও হলের চারজন প্রার্থী রয়েছেন। একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনেও অনশন করছে নির্বাচনে অংশ নেয়া কয়েকজন প্রার্থী।

রোকেয়া হলের সামনে অনশনরত ছাত্রীদের নানাভাবে হলে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ক্লাবে হলটির প্রধ্যক্ষ জিনাত হুদা এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, তাদের (অনশনরত শিক্ষার্থী) হলের ভেতরে আনার জন্য সকল প্রক্রিয়া আমরা করেছি। কিন্তু তারা ভেতরে আসবেন না। এটি তাদের পণ।

অনশনরত ছাত্রীদেরকে হেনস্তার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিনাত হুদা বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত না।

তবে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি আজ বেলা দেড়টার দিকে অনশনরত ছাত্রীদের দেখতে আসেন। তিনি বলেন, তারা যদি চায় ভিপির দায়িত্ব নিয়েই তাদের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম-লড়াই করি, তাহলে আমি সেটা করব। আর যদি না চায়, আমি সেই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবো না।

ছাত্রলীগ বলছে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতেই কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে। যা অযৌক্তিক। ডাকসুর নবনির্বাচিত এজিএস সাদ্দাম হোসাইন বলেন, বিভ্রান্তি তৈরি করে আবার আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে পরাজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, সফলভাবে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে আমরা ম্যান্ডেড প্রাপ্ত যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করব।

তবে ছাত্র-ছাত্রীদের সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, নির্বাচিতদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সুতরাং উপাচার্য তার সুবিধাজনক সময়ে মিটিং ডাকবেন নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে এবং অভিষেকের দিনও ঠিক করে দেবেন।

গত ১১ মার্চের নির্বাচনে থাকা অধিকাংশ প্যানেল ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। আর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো।

ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx