নিউজটি পড়া হয়েছে 18

রিটার্নিং অফিসাররা সৎ মায়ের ভূমিকায় : রিজভী

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসাররা মূলত সৎ মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।

মঙ্গলবার ( ৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একসংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ডেকে এনে বৈঠক করে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গণহারে বাতিল করা হয়েছে।’

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে অসংখ্য ত্রুটি থাকার পরও বাতিল করা হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিটার্নিং অফিসার হায়াত উদ দৌলা খানের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া কোনও প্রার্থীকে কথা বলার সুযোগ দেননি তিনি। বিএনপি’র মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বেশিরভাগ প্রার্থীদেরকেই কথা বলতে দেননি তিনি।’

নির্বাচনি আচরণবিধিতে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে তাদেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, এমন রয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘কোনও ডকুমেন্টস উপস্থাপন করতে চাইলে তা করতে দিতে হবে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি শুরুতেই প্রার্থীকে থামিয়ে দেন, তাহলে বুঝতে হবে রিটার্নিং অফিসার দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছেন। ’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের  নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি ও জনমনে শঙ্কা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে নির্বাচনে জনমতে সঠিক প্রতিফলন ঘটকে কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত রিটার্নিং অফিসাররা যা করছেন, তা কেবলই প্রহসন।’

আয় কমে গেলেও ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-নেতাদের সম্পদ বাড়ে, অথচ এগুলোতে দুদক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও দেশব্যাপী গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।’

পুলিশের আগ্রাসী তৎপরতা ও নির্বিচারে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার অভিযানে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনেরই ছবি মানুষ দেখতে পাচ্ছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন,  ‘যেন পাতানো কিছু একটা করতে যাচ্ছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী।’

রিজভী আরও বলেন, ‘‘হাইকোর্টে  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আমানউল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন নাকচ হওয়ার দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘কারও দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকলেই চলবে না, এমনকী আপিলে মুক্তি পেলেও নিস্তার নেই। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন।’ এখন আমাদের প্রশ্ন, অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ব্যাখ্যা যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং কক্সবাজারের এমপি আব্দুর রহমান বদির সংসদ সদস্য পদ কি অবৈধ নয় ? অ্যাটর্নি জেনারেল নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে সংবিধান ও আইনের ব্যাখা দেন সরকার প্রধানকে খুশি করার জন্য।’’

আওয়ামী লীগের স্বার্থে আইন একধরনের ও বিএনপির ক্ষেত্রে আইন আরেক ধরনের বলে মন্তব্য করেন রিজভীর। তিনি বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যাও একইরকম।  আদালত প্রাঙ্গণে রাসপুটিনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ’

ফেসবুক মন্তব্য
xxx