নিউজটি পড়া হয়েছে 50

জগন্নাথপুরে ৫০শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট ॥ রোগীর চাপে কর্মরত চিকিৎসকরা অসহায়

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: জগন্নাথপুরে ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মেডিকেল অফিসাদের তীব্র সংকট থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রোগীর চাপে স্বল্প সংখ্যক মেডিকেল অফিসাররা নির্ঘুম দিন পার করছেন। ফলে উপজেলাবাসী চিকিৎসা সেবায় চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলাটি ইতিহাস ঐতিহ্যে সহ নানা ক্ষেত্রে রয়েছে সুনাম। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৩টি ইউনিয়নে রয়েছে ফ্যামিলী ওয়েল ফেয়ার সেন্টার। হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ২৯জন মেডিকেল অফিসার এবং ৫জন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। ২৯জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৬জন মেডিকেল অফিসার ও ৫জন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩জন। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে জরুরী বিভাগে রোগীদের প্রচন্ড ভীড়। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, হাসপাতালের বহি: বিভাগে ২জন মেডিকেল অফিসার নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এসময় রোগীর প্রচন্ড ভীড় থাকায় বহি: বিভাগের রোগীরা জরুরী বিভাগে এসে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মধু সুধন ধর, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: পরিমল কুমার সেন, কার্ডিওলজী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: মৃনাল কান্তি দাশ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা: কুনচু আক্তার, মেডিকেল অফিসার ডা: শারমিন আরা আশা, মেডিকেল অফিসার ডা: সায়খুল ইসলাম, ডেন্টাল সার্জন ডা: নাজমুল ইসলাম মাসুদ। এদের মধ্যে ডা: পরিমল কুমার সেন রয়েছেন ছুটিতে। হাসপাতালের বহি: বিভাগ ছাড়াও জরুরী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার শারমিন আরা আশা ও ডা: সায়খুল ইসলাম। দিনে বহি: বিভাগের দায়িত্ব পালন শেষে জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালনে ২জন মেডিকেল অফিসার ও ২জন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রীতিমত নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছেন। উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কামালখাল, মীরপুর ইউনিয়নের হাসান ফাতেমাপুর, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের বুধরাইল, আশারকান্দি ইউনিয়নের জহির পুর, পাইলগাঁও ইউনিয়নের বাংলাবাজার উপ- স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল অফিসার না থাকায় ঐ এলাকার জনসাধারন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া পাটলী, চিলাউড়া হলদিপুর ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নে ফ্যামেলী ওয়েল ফেয়ার সেন্টার থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা: মির্জা মো: আলী খান রুবেল জানান ৩টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ মোট ৫জন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৩জন। এর মধ্যে একজন ছুটিতে থাকায় এবং মেডিকেল অফিসার সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত রোগীর চাপে এখন দিশেহারা। শীত মৌসুমে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন প্রয়োজন। উপজেলা হাসপাতালে সদ্য প্রদোন্নতি প্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মধু সুধন ধর ইত্তেফাককে জানান, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ উপজেলা সদরের ৫০শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সংকট থাকার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত হাওর বেষ্টিত উপজেলা বাসীর স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনায় কর্মরত চিকিৎসকরা রীতিমত চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, হাসপাতালে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx