৪৫ বছর পর দলীয় সরকারের অধীনে অংশ নিচ্ছে দেশের সব রাজনৈতিক দল।

সিলনিউজ অনলাইনঃ বাংলাদেশে ৪৫ বছর পর দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে আসছে সব রাজনৈতিক দল। সেনা শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সময়েও ভোটে আসেনি সব দল। পরে ভোটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিও ছিলো আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু-দলেরই। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারের ভোট সুষ্ঠু হলে রাজনীতিতে ফিরবে আস্থা, মসৃণ হবে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ চলা।

একাত্তরে যুদ্ধ জয়ের পর সদ্য স্বাধীন দেশে ১৯৭৩ সালেই প্রথম সংসদ নির্বাচন দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়, ৭ মার্চের সেই ভোটে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অংশ নেয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, আওয়ামী পার্টিসহ বেশ কিছু দল। ৩০০ আসনের ২৯৩টি জয় করে সরকার গঠন করেন বঙ্গবন্ধু। 

তবে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক হত্যার পর সামরিক শাসনের কবলে পড়ে দেশ। সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের অধীনে ৭৯-এর ১৮ ফেব্রুয়ারি হয় দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের নামে মিজান ও মালেক গ্রুপ সে নির্বাচনে অংশ নেয়। জিয়া নিহতের পর আরেক সেনা শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অধীনে ৮৬-তে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও বিএনপি সরে আসে। তবে ৮৮ নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ প্রায় সব দল। এর পরের দুই বছরের গণআন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ। 

আবারও গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন। ৯১-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের ভোটে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অংশ নেয় ৭৫টি রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের অধীনে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অবসান হয় পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসনের। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেসময় সরকার গঠন করে বিএনপি। কিন্তু বিএনপি’র পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক নির্বাচনের ধারা। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামে আওয়ামী লীগ। তারাসহ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। পরে ৯৬-এর ১২ জুন, সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সবদলের অংশগ্রহণে হয় সপ্তম সংসদ নির্বাচন।

এরপর লতিফুর রহমানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০১-এর পহেলা অক্টোবর হয় অষ্টম সংসদ নির্বাচন। সাত বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমেদের অধীনে ২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বর হয় নবম সংসদ নির্বাচন। এরপর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

এরপর দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৪-র ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ কটি দল। একাদশ সংসদ নির্বাচনও হচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনেই, তবে এতে ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে আসছে বিএনপিসহ বেশকিছু দল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলসহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জাতীয় পার্টি ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট। ৩০ ডিসেম্বর এর ভোটগ্রহণ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে আস্থা ও সমঝোতার সুস্থ চর্চার বিকল্প নেই। 

সূত্রঃ ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx