যে সব ব্যবসায়ী নেতার ঠাঁই হলো না নৌকায়

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ  নৌকার যাত্রী হয়ে জাতীয় সংসদে যাওয়ার আশা আপাতত পূরণ হলো না বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ গতকাল রোববার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে নেই বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতাদের নাম, যাঁরা প্রথমবারের মতো দলটির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। প্রার্থী হতে তাঁরা নানা চেষ্টা-তদবির করেও সফল হননি।

নতুনদের মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিমা আহমাদ, যিনি বাংলাদেশ ওমেন চেম্বারের সভাপতি ও জনতা ব্যাংকের পরিচালক। তিনি ভোটে অংশ নেবেন কুমিল্লা-২ আসন থেকে। পুরোনো ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান (ঢাকা-১), সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (কুমিল্লা-৩), বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি (রংপুর-৪), আবদুস সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪) ও আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন (ভোলা-৩) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এই দফায় ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকেই নৌকায় উঠতে চাইলেও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তেমন একটা আশাবাদী ছিলেন না। নিজের নাম জানিয়ে রাখাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সেটা অনেকের ক্ষেত্রে পূরণও হয়েছে।

এফবিসিসিআই
এফবিসিসিআইয়ের কমপক্ষে আটজন বর্তমান পরিচালক এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত কারও ক্ষেত্রেই মনোনয়ন পাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর নেতাদের কেউ কেউ প্রথমবারের মতো নৌকায় চড়ে সংসদে যাওয়ার আশায় ছিলেন। আওয়ামী লীগ নিল না।

পরিচালকদের মধ্যে টাঙ্গাইল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন আবু নাসের। সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এখনকার সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। চুয়াডাঙ্গা-১ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগারওয়ালার ওপরেও নজর পড়েনি আওয়ামী লীগের। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক খায়রুল হুদা সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। যদিও মনোনয়ন পেয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন, যিনি এখনকার সাংসদ। আরেক পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান কুমিল্লা-৬ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তাঁর কপালও এ দফায় খোলেনি।

মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক তাবারুকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান। তাঁর ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জাহিদ মালেক স্বপন। জামালপুর-৫ আসন থেকে নৌকায় উঠতে চেয়েছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু। তবে সেখানে এখনকার সাংসদ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হিরাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শমী কায়সার ফেনী-৩ আসন থেকে নৌকায় চড়তে চেয়েছিলেন। যদিও সেখানে আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক কাজী ইরতেজা হাসান, তবে পাননি। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালকদের মধ্যে মো. হেলাল উদ্দিন নরসিংদী-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এই দফায় পাননি। আরেক সাবেক পরিচালক আমিনুল হক ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ এই আসন থেকে প্রার্থী।

বিজিএমইএ
বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের সাংসদদের অনেকেরই পোশাক কারখানা রয়েছে। নতুন মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায়ও অনেকে পোশাক খাতের ব্যবসায়ী। অবশ্য এবার বিজিএমইএর কমিটিতে থাকা চারজন সহসভাপতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন ফরম কেনেন। যাঁর মধ্যে নৌকায় উঠতে চেয়েছিলেন মঈনউদ্দিন আহমেদ, এস এম মান্নান ও মোহাম্মদ নাছির।

মঈনউদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন এখনকার সাংসদ আফছারুল আমিন। ঢাকা-১৬ আসনে (মিরপুর) মনোনয়ন চেয়েছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান। কিন্তু ওই আসনে এখনকার সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ওপরেই আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রাম-১২ থেকে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন মোহাম্মদ নাছির। যদিও সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী।

বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি আসলাম সানী নরসিংদী-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি।  অবশ্য বিজিএমইএর আরেক সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ফেসবুক মন্তব্য
xxx