ঐক্যবদ্ধ শক্তিই গড়তে পারে আগামীর উন্নত দিরাই-শাল্লা

সুনামগঞ্জ-২ আসন তথা দিরাই-শাল্লায় স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪০ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি আগামী ৪০বছরেও কোনো উন্নতি হবে কিনা তাও সন্দেহের বিষয়। এর সহজ সমীকরণ হলো, এই আসনে যে-ই জনপ্রতিনিধি হয়ে আসেন সে-ই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যান। ভাটিবাংলায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনীতি হয়না। এখানে তৃণমূলের সাথে মিশ্রিত গণমানুষের নেতা প্রয়োজন। সারা বছর দিরাই-শাল্লার কোনো অভিভাবক খোঁজে পাওয়া যায় না, জনগণের দুর্দশা দেখার কেউ থাকে না; আর নির্বাচনের সময় আসলে নেতা গুনে শেষ করা যায় না। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেই রাস্তাঘাটে লোকদেখানো কাজ শুরু হয়ে যায়, স্কুল-কলেজে কাজ হয়, মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ হয়। আর যে বা যারা এসব লোকদেখানো কাজে এগিয়ে থাকেন তারাই নির্বাচিত হোন। এর কারণ হলো, ভাটিবাংলার খেটে খাওয়া সরল সহজ মানুষগুলো রাজনীতি বুঝেনা। তারা চোখের সামনে যা দেখতে পায়, সেটাকেই বাস্তবতা মনে করে। আর জনগণের সরলতার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভাটিবাংলায় চলে অযোগ্যদের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। যার ফলস্বরূপ সেখানে একের পর এক জনগণের অনাকাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব চলে আসে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সারা বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে যেখানে উন্নয়নের রোল মডেল, সেখানে দিরাই-শাল্লাকে দেখলে মঙ্গলগ্রহের কোনো জায়গা মনে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থা, কোনো কিছুই পায়নি উন্নয়নের ছোঁয়া। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, নির্বাচন আসলেই নেতারা জনগণের মাঝে উন্নয়নের আশ্বাসের ঝড় তুলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর আবার যেই লাউ সেই কদু। এখন প্রশ্ন হলো, উন্নয়ন চাওয়ার আগে উন্নয়নের সংজ্ঞাটা জানা প্রয়োজন। যে মানুষ উন্নয়নের সংজ্ঞা নিজেই জানে না, সেই মানুষ জনগণের কি উন্নয়ন করবে সেটা আমার জ্ঞানের বাহিরে। সুতরাং, এখানে উন্নয়নকে পুঁজি করে চলে নিজের ক্ষমতায়নের নোংরা খেলা। তাই, এবার সময় এসেছে দিরাই-শাল্লাবাসির; সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে দিরাই-শাল্লাকেও এগিয়ে নিতে হবে। আর এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে একমাত্র এবং শুধুমাত্র ভাটিবাংলার জনগণ। ভাটিবাংলায় জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে যে-ই এম পি কিংবা মন্ত্রী হয়ে আসেন না কেন জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তবে জনবিচ্ছিন্ন হলে পদ-পদবীও কোনো কাজে আসবে না। কেননা জনগণ যদি নেতা বানাতে পারে তবে জনবিচ্ছিন্ন নেতাতে নামাতেও পারবে ইনশাআল্লাহ। আর জনগণের এই শক্তি এখন জনগনকেই বুজতে হবে; অন্যথায় এবার ভাটিবাংলার খেটে খাওয়া লোকদের বড় ধরনের খেসারত গুনতে হবে। ভাটিবাংলার খেটে খাওয়া মানুষের দুর্গতি দেখে সেই অবহেলিত জনগণের পক্ষে কথাগুলো লিখলাম। আমার কথাগুলো রাজনৈতিক মহল কোন চোখে দেখলো, তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। এই কথাগুলো সারমর্ম ভাটিবাংলার সরল জনগণরা বুজতে পারলেই আমি খুশি হবো। সুতরাং, এবার এমপি কে হলেন আর মন্ত্রী কে হলেন সেটা নিয়ে জনগণ চিন্তা না করে নিজের অধিকার নিয়ে চিন্তা করুন, নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন; আশা করি নিজেদের সমস্যার নিজেরাই সমাধান করতে পারবেন। জনগণের শক্তিটা এবার জনগণকে বুজতে হবে। যখন এটা জনগণ বুজতে পারবে তখন কোনো নেতাই আপনাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। একাত্তরে পাকবাহিনী মাত্র ৭ কোটি বাঙ্গালীকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি; তাহলে আজ ২০১৮ তে কয়েকজন বাঙ্গালী নেতা কিভাবে ১৮ কোটি বাঙ্গালীকে দাবিয়ে রাখবে..! How can is it possible? এটাই এবার দেখিয়ে দিতে হবে আপনাদের।

জয় হোক ভাটিবাংলার খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের,
জয় হোক জননেত্রী শেখ হাসিনার।

লেখকঃ মনসুর মোর্শেদ
সাবেক সদস্য, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ

ফেসবুক মন্তব্য
xxx