সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মিটার রিডার আনোয়ারের অনিয়ম : দিশেহারা গ্রাহক

মো. মতিউর রহমান (বিমানবন্দর থেকে)ঃ – সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ ২ এর মিটার রিডার আনোয়ার হোসেনের দাপট এবং অনিয়মে ভোগান্তিতে শিকার হচ্ছেন সাহেবের বাজার এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। মিটার রিটার আনোয়ারের উপর বহুদিন থেকে এই এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ অভিযোগের মাত্রা চরম আকার ধারণ করছে। কোন নিয়ম কানুন তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। মিটার রিডার আনোয়ার হোসেন মিটার রিডিং না দেখেই মাসের পর মাস বিল করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার সাধারণ লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় মিটার রিডার আনোয়ার এলাকার প্রতিটি বাসা বাড়ীতে গিয়ে মিটার রিডিং দেখার নিয়ম থাকলেও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গ্রাহকদের বাড়ীতে না গিয়ে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরী করেছেন। বর্তমানে আনোয়ার মিটার রিডিং সহ বিদ্যুৎ বিলের কপি বিতরণের দায়িত্বে রয়েছেন। এই সুবাধে গ্রাহকদের বাড়ীতে বিদ্যুৎ বিলের কপি নিয়ে যান ঐ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল পরিশোধ করবে বলে টাকা নিয়ে আসেন। পরের মাসে বিলের কপিতে দেখা যায় বিগত মাসের বিদ্যুৎ বিল সংযোক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক সময় মিটার রিডারকে টাকা না দিলে অতিরিক্ত বিল করারও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের ঘাড়ে পড়ছে অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা। বিল নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগের শেষ নেই এলাকার বাসিন্দাররা জানান, মিটার রিডিং না দেখার ফলে কোন মাসে কম আবার কোন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিল অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। উল্টো ভুতুড়ে বিল পরিশোধ না করলে তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয়। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বিলের খপ্পরে পরে দিশেহারা গ্রাহকরা রিডিং দেখে সঠিক বিল তৈরী করার অনুরোধ, করলে উল্টো বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় যে মামলা পরিচালনা করতে হবে গিয়ে ঢাকায়। মামলার ভয়ে গ্রাহকরা কোন কিছু করছেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে গ্রাহকরা বলছেন, মিটার রিডারদের চাহিদা অনুযায়ী ‘ঘুষ’ না দিলে পড়তে হয় ‘ভুতুড়ে’ বিলের খপ্পরে। আবার কোনো কোনো গ্রাহকের সঙ্গে রয়েছে মিটার রিডারদের ‘সুসম্পর্ক’ যার কল্যাণে ওইসব গ্রাহকের বিল হয় মিটারের রিডিং থেকে অনেক কম। অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলেও খুব একটা প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই মিটার রিডারদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। সাহেবের বাজার এলাকার একাধিক বাসিন্দার জানান, প্রায় সময় মিটার রিডিং না দেখেই বিল করা হচ্ছে। কখনো কখনো মিটারের বিল দেখতে এলে আবার ‘চা-পান খাওয়ার টাকা’ দাবি করেন। তা না দিলেই বিল হয়ে যায় মাত্রাছাড়া। শুধু তাই নয়, ওই ভুয়া ও ভুতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করলেও বিদ্যুৎকর্মীরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক। ভোলাকুনা গ্রামের গ্রাহক সোহেল আহমদ জানান, আমি একজন দিন মজুর প্রতি মাসে আমার ১৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। কিন্তু মিটার রিডার আনোয়ার আমার কাছে ঘুষ দাবি করে আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, এখন থেকে প্রতি মাসে ২০০ ইউনিটের অতিরিক্ত বিল তৈরী করে দেয় যে বিল দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আবার বিদ্যুৎ বিলের কপি নিজে দেওয়ার কথা থাকলেও জমা বিলের তারিখ পার হওয়ার পর অন্য লোকদের মাধ্যমে পাঠানো হয়। আনোয়ার হোসেন আমাদের এলাকায় খুব কম সময় এসে মিটার রিডিং দেখে যায় প্রায় সব বিদ্যুৎ বিল সে অফিসে বসে করে। আমার গ্রামে একই সমস্যা রয়েছেন দিন মজুর বাবুল মিয়া ও মন্নান মিয়া। বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতাকে দায়ি করে এ থেকে মুক্তি চান সাধারণ জনগণ, মাসের পর মাস মিটার না দেখে বিল তৈরী করা ও বিল তৈরীর কপি আনোয়ার হোসেন নিজে ও অন্য লোকদের মাধ্যমে বিতরণ করার সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে এ থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পেথে দ্রুত আনোয়ার হোসেনকে এই এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা জরুরি, তা না হলে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে আশংকা স্থানীয়দের। দেবাইর বহর গ্রামের আমিরুন নেছা জানান, পাশের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দায়ে মিটার রিডার আনোয়ার হোসেন ৫ হাজার টাকা দাবি করে, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ অক্ষত রাখতে ৩ হাজার টাকা থাকে ঘুষ দেওয়া হয়। একই ভাবে আর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে সচেতন মহল মনে করেন দীর্ঘ দিন থেকে এই এলাকায় চাকুরীর সুবাধে তার সিন্ডিকেট দিন দিন বেড়ে গেছে। তাই যত তাড়াতাড়ি তাকে এই এলাকা থেকে শরিয়ে না নিলে এই সমস্যা আর দিন দিন বেড়ে যাবে আশংকা তাদের। গ্রাহকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আলহাজ্ব আবু হানিফ মিয়া জানান, রিডিং নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে বিল সংশোধন করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মিটার রিডার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। 

ফেসবুক মন্তব্য
xxx