মনির উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী : ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান

সিলনিউজ২৪.কমঃ ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, মনির উদ্দিন চৌধুরী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। সমাজকে আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে সারাজীবন সাহিত্য সাধনা করে গেছেন। অমায়িক, বিনয়ী এবং শান্তশিষ্ট মনির উদ্দিন চৌধুরী তাঁর চিন্তা, চেতনাএবং মূল্যবোধে পরিশীলিত সমাজের চিত্র অঙ্কন করেছেন। নতুন প্রজন্মকে তাঁর চিন্তা-চেতনা এবং মৌলিকত্বে প্রভাবিত হয়ে সাহিত্য সাধনা করতে হবে।সিলেট মোবাইল পাঠাগার-এর উদ্যোগে এর প্রতিষ্ঠাতা,ইতিহাসবেত্তা সংগঠক মনির উদ্দিন চৌধুরী’র ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে গত শনিবার (১০নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইলেক্ট্রিক সাপ্লাইস্থ মেট্রোপলিটন ল কলেজের মোবাইল পাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মদনমোহন কলেজ, সিলেট-এর সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) এম. আতাউর রহমান পীর, প্রবীণ সাংবাদিক কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী। গল্পকার তাসলিমা খানম বীথির সঞ্চালনায় সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এম এ হান্নান সেলিম, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি গল্পকার সেলিম আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, কলামিস্ট বেলাল আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবীব, এডভোকেট আব্দুল মালিক, কবি ইসমত হানিফা চৌধুরী, চৌধুরী মো. সুহেল,মনির উদ্দিন চৌধুরীর ভাই মহিউদ্দিন মিনার, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কবি নাজনীন আক্তার কণা।সভায় লেখা পাঠে অংশ নেন উপন্যাসিক সিরাজুল হক, কবি মুহাম্মদআব্দুল হক, কবি সরওয়ার ফারুকী, কবি কামাল আহমদ, ছড়াকার তারেশ কাান্তি তালুকদার, কবি মো. আব্দুল বাছিত, ছড়াকার লোকমান হাফিজ, জয়নাল আবেদীন বেগ, এম. আশরাফ আলী, জুনায়েদুর রহমান, কবি মাহফুজ জোহা, অজয় বৈদ্য অন্তর, আবু যর মাহতাবী,কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল, নূর মোহাম্মদ চৌধুরী, সৈয়দ মুক্তদাহামিদ প্রমুখ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কবি কামাল আহমদ এবং মনির উদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত
কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজ মাওলানা নওফেল আহমদ চৌধুরী। সভায় সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল (অব.) এম. আতাউর রহমান পীর বলেন, মনির উদ্দিন চৌধুরী শুধুমাত্র সিলেট নয়,  বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে একটি আলোকিত নাম। মেধা ও মননের বিস্ফোরণ ঘটেছিল তাঁর সাহিত্য সাধনায়। তাঁকে মূল্যায়নের মাধ্যমে সিলেটবাসী ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হবে।প্রবীণ সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী বলেন, মনির উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত বন্ধুবাৎসল্য মানুষ ছিলেন। হাসিখুশি মনির উদ্দিন চৌধুরী সাহিত্যের জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। নতুন প্রজন্মকে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।অধ্যাপক এম এ হান্নান বলেন, মনির উদ্দিন চৌধুরী সিলেটের মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মোবাইল পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন যা তাঁর মহৎ এবং মহান চিন্তার পরিচয় বহন করে।সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি গল্পকারসেলিম আউয়াল বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনির উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন আড্ডার মধ্যমণি। গল্প কথায় তিনি যেকোনো আসরকে জমিয়ে তুলতে পারতেন। সাহিত্য সাধনায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী বলেন, বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী মনির উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন আমাদের প্রাণের মানুষ। তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভালোবাসাময় হৃদয় সবাইকে কাঁছে টানতো।একটি আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।সভাপতির বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন বলেন, নতুন প্রজন্মকে মনির উদ্দিন চৌধুরীর জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে তুলে ধরতে হবে। ইতিহাসের ধারক এবং বাহক হিসেবে শুধু নয়, সাহিত্যের একজন নিবিড় কর্মী হিসেবে তাঁর সাহিত্য মূল্যায়ন নতুন প্রজন্মের চিন্তার খোরাক হবে বলে আশা করি।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx