নিউজটি পড়া হয়েছে 90

সমালোচনা বিষয়ক আলোচনা : জহীর মুহাম্মদ

সমালোচনা বিষয়ক আলোচনা : জহীর মুহাম্মদ

সমালোচনা মানে খারাপ আলোচনা নয়। পরচর্চা আর সমালোচনা শব্দদ্বয়ে বিস্তর ব্যবধান। সমালোচনা মানে কোন ব্যক্তি, বস্তু, ঘটনার ইতিবাচক নেতিবাচক দুয়ো দিক সমানভাবে আলোচনা করা। আর একইভাবে শুধু মন্দ দিকটা যত্নসহকারে বকে যাওয়াই পরনিন্দা-পরচর্চা, যাকে বলি ছিদ্রান্বেষণ। কোন ব্যক্তি,বস্তু কিংবা ঘটনার পেছনের ঘটনাকে লেবুর মত কচলানো হয়; তখন সেই সমালোচনা হয়ে ওঠে কুইনিনের মত তিক্ত। কোনকিছুর সমালোচনায় মেতে শেষমেশ সেটাকে “তিত্তা” করে ছেড়ে দিতে আমাদের (বাঙ্গালী) সমকক্ষ দুনিয়াতে বোধহয় দ্বিতীয় কেউ নেই। আমরা সমালোচনার নাম দিয়ে যখন শুধু মন্দ আলোচনাটাই করি তখন শাশ্বত ধর্মমতে তা হয়-পাপ! এই পাপ যেমন কথিত সমালোচককে (শুধু মন্দ আলোচক) পাপিষ্ট করে। তেমনি সমাজ,রাষ্ট্র, ধর্ম ও দেশকে করে অধিকতর অস্থিতিশীল। আবার সমালোচনা করতে গিয়ে শুধু প্রশংসার ফুলঝুরি ছড়িয়ে দেয়াটাও তোষামোদ কিংবা স্বজনপ্রীতির নামান্তর। এখানে প্রাসঙ্গিক বিষয় হল-সমালোচনা। কোনকিছুর দিক-বিদিক,সমস্যা-সম্ভাবনা, দোষ-গুণের অদ্যপান্ত ময়নাতদন্ত করে সমন্বয় করতঃ বিষয়টি/ব্যক্তিটিকে নিয়ে একটি ইতিবাচক উপসংহারে আসাটাই মনে করি সমালোচনা। একজন সমালোচকের মৌলিক গুণটাই হল-সত্যের আশ্রয়ে নিরপেক্ষ মনোভাব। সমালোচনা নিয়ে নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথাই বলি। আমার প্রথম কবিতার বইটি (কাঁদে কবি অবিরাম) যখন বেরুলো। তখন সেটির একটি গ্রন্থ সমালোচনা লিখে দেয়ার জন্য ঢাকার নামকরা একজন লেখকের কাছে পাঠালাম। মাস দেড়েক পরে তিনি গ্রন্থালোচনার একটি কপি আমাকে ধরিয়ে দিলেন। পড়ে দেখলাম সেখানে বইটির শুধু প্রশংসা আর প্রশংসা! উনার লেখাটি পড়ে তখন খুশি হলেও এখন নিজের জন্য লজ্জা হয়। এখন ভাবি, ইস! সেদিন যদি আমার লেখার দুর্বলতার দিকগুলিও উনি তুলে আনতেন। আজ আগামীতে হয়তো শুদ্ধ হওয়ার যুদ্ধে জড়াতে পারতাম। মানে এখানেও সমালোচনার রসদ পেলাম না। পেলাম একচাটিয়া প্রেরণা। তারপর যখন দ্বিতীয় কবিতার বইটি প্রকাশ পেল, তখন সেটিকেও সমালোচনার জন্য একজন বিশিষ্ট সাহিত্য বোদ্ধার বৈঠকখানায় পাঠাই। তিনিও সাহিত্য বুঝতে-বুঝতে এতটাই বিজ্ঞালোচক হলেন, আমার বইটি “কিচ্ছু হয়নাই” বলে আমার সামনে ছুড়ে মারলেন! এখানেও সমানতালের আলোচনা পেলাম না। বিবেকপ্রসুত বিবেচনা আর যোগ্যতার চশমায় একটি পুকুর থেকে পানি,কাদা,মাছকে আলাদা-আলাদা তুলে আনতে পারাটাই সমালোচনা। পঁচা কাদামাটির গন্ধ শুঁকে বিগড়ে যাওয়া কিংবা সুস্বাদু মাছের প্রশংসায় আত্মহারা হওয়া সমালোচকের লজিক নয়। দুয়ের সমন্বয় শাধন করাটাই মুখ্য। অধিকাংশদের দাবী যে, কোনকিছুর সমালোচনা করতে গেলে নাকি তার সমকক্ষ সক্ষমতা অর্জন করতে হয়। আমি এই লাইনে একমত নই। ধরুন, একজন পুলিশ বা ডাকাত একটি ভাল কিংবা খারাপ কাজ করল। সেই পুলিশ বা ডাকাতের সমালোচনা করতে হলে আমাকে কি আগে পুলিশ,ডাকাত হতে হবে? অবশ্য না। এ যুক্তি অবান্তর, অবাস্তব ছাড়া কিছুই না। আসুন সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা করি। সেটা যেন হয় গঠনমূলক এবং সত্যাশ্রয়ী।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx