নির্বাচনী ইশতেহারে অবৈধ অর্থ পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুটপাট এবং কালো টাকার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা দাবি

সিলনিউজ২৪.কমঃ রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অবৈধ অর্থ পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুটপাট এবং কালো টাকার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কর্মসূচি ঘোষণার দাবি অধিকার ভিত্তিক নাগরিক সমাজের অর্থ লুটেরাদের (Robber Baron) রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বাংক ঋণের তথ্য অবশ্যই জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

আজ ৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অবৈধ অর্থ পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুটপাট এবং কালো টাকার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা দাবি করা হয়। অধিকার ভিত্তিক ৩২টি নাগরিক সমাজ সংগঠন আয়োজিত মানব বন্ধনে বিভিন্নভাবে জনগণের অর্থ লুটপাঠকারীদেরকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতেও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।  গ্লোবাল এ্যাকশন উইক অব এ্যাকশন উপলক্ষে ট্যাক্স এন্ড ফিন্যান্সিয়াল জাস্টিস এশিয়া, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ট্যাক্স জাস্টিস এবং ইক্যুইটিবিডি এই মানব বন্ধন আয়োজনে সহযোগিতা করে। ইক্যুইটিবিডি’র মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় আযোজিত মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের শরিফুল ইসলাম, জাতীয় উন্নয়ন পরিষদের মাহবুব খোকন, বাঁচতে শেখা নারীর ফিরোজা বেগম, অর্পনের কাদের হাজারী, ইক্যুইটিবিডি’র সৈয়দ আমিনুল হক, মো. আহসানুল করিম এবং রেজাউল করিম চৌধুরী। মানব বন্ধনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়, সেগুলো হলো:

(১) ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে বাঁচানোর জন্য শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত ব্যাংক সংস্কার কমিশন চাই,

(২) ঋণখেলাপি এবং বারবার খেলাপি ঋণ নবায়নকারীদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া যাবে না,

(৩) রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ঋণ খেলাপী, টাকা পাচার ও কালো টাকা রোধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে,

(৪) আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থীদের নিজের ও পারিবারের ঋণসহ সকল সম্পদের বিবরণী নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশ করতে হবে

(৫) পানামা পেপার্স ও প্যারাডাইস পেপার্স -এ যেসব বাংলাদেশীদের নাম এসেছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত ও শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

(৬) রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকসহ শেয়ার বাজার কেলেংকারির আত্মসাৎকৃত টাকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির উপর শ্বেতপত্র প্রকাশসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

(৭) অর্থ পাচার রোধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্যের বাজার মূল্য যাচাইয়ের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সেল থাকতে হবে।

(৮) প্রাতিষ্ঠানিক সকল স্তরকে দূর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার প্রণীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

মো. আহসানুল করিম বলেন, ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্টীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি ধনী শ্রেণী গড়ে উঠে, তাদের ধন সম্পদ আর্জনের কৌশল ছিল আদিম প্রকৃতি তথা অর্থ লুটতরাজ, যাদেরকে ইংরেজিতে বলা হয় Robber Baron. গত ৪৭ বছরে আমাদের দেশেও এই ধরনের অর্থ লুটেরাদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা দেখা যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের লুটেরারা লুপাটকৃত অর্থ নিজের দেশেই পুন:বিনিয়োগ করতো, কিন্তু বাংলাদেশের অর্থ 
লুটপাটকারীরা সেই অর্থ জমা করছে অন্য দেশে। এই দেশের অর্থ পাঁচার হয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর সহজ বিভিন্ন দেশে। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি রিপোর্ট ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েে যাওয়া এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯.১১ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে আমরার দুটো পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারি।

সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, লুটেরা শ্রেণী আমাদের রাজনীতি গ্রাস করছে। জাতীয় সংসদ, তথা রাজনীতি হওয়া উচিৎ সৎ মানুষদের, যাদের বিরুদ্ধে কোন নেতিবাচক ঘটনার সম্পৃক্ততা নাই।রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে আমরার জিম্বাবুয়ে, হন্ডুরাস বা ভেনিজুয়েলার মতো হতে দিতে পারি না, যেখান আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে খরচ মেটাতে না পেরে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদেরকে পরিত্যাগ করতে পর্যন্ত বাধ্য হচ্ছে এবং অন্যদেশে গণহারে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা অন্য দেশ থেকে কিছু ডলার পাঠায়, কিন্তু ধনীরা ব্যাপক হারে সেই ডলার পাচার করে। গত পাঁচ বছরে দেশে উল্লেখযোগ্যভাবে বেসরকারী বিনিয়োগ কম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি অর্থ পাচার রোধ করতে পারেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে দেশেই বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx