নিউজটি পড়া হয়েছে 442

নবীগঞ্জের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ধর্ষক নাহিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ নবীগঞ্জের পল্লীতে এক কিশোরীকে দোকান ঘরে প্রায় ৭ ঘন্টা আটক রেখে কয়েক দফা জোর পূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুখ্যাত ভুমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও বহুল আলোচিত কুকর্মের হুতা দূর্বৃত্ত নুরুল ইসলাম নাহিদ নামের পলাতক আসামীকে দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ও ধর্ষক নুরুল ইসলাম নাহিদ সে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মৃত ওয়াব উল্লার পুত্র।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাউদপুর গ্রামের দিনমজুর গোলজার মিয়ার কিশোরী কন্যা জনৈক (১৪) কে গত ১৬ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা রাতে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম নাহিদ তার একটি দোকান ঘরের বাহিরে তালাবদ্ধ করে কিশোরীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে হাত-পা মুখ বেধে কয়েক দফা ধর্ষন করে। এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্যাতিতা লিমা আক্তার জানায়, তার বাবা পেশায় একজন দিন মজুর, সে উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের গোলজার মিয়ার কন্যা।  ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে লিমা আক্তার সে তার এক ছোট ভাই নুরুজ্জামান (৬) নামের শিশুকে খেলার মাঠ থেকে বাড়ীতে আনার জন্য যাওয়ার পথিমধ্যে একই গ্রামের মৃত ওহাব উল্লার পুত্র নুরুল ইসলাম নাহিদের দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাহিদের ভাবী আংছার মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম তাকে ডেকে নিয়ে যায় দোকানের পাশে। লিমা সেখানে যাওয়ার পরেই তার ভাবী সেখান থেকে চলে যায়, তার ভাবী চলে যাওয়ার পরপরই সুচতুর নাহিদ দোকান ঘরের বাহিরে তালাবদ্ধ করে ঘরের ভেতরে লিমাকে ঝাপটে ধরে হাত পা, মুখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে।

পরে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মুখ বেধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কয়েক দফা ধর্ষণ করে। এদিকে লিমাকে ৭ ঘন্টা ধরে বাড়িতে না পেয়ে তার মা বাবা ও আত্মীয় স্বজন পাগলের ন্যায় সাড়া গ্রাম তথা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ খবর নিয়েও তার কোন সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।

অপর দিকে সন্ধ্যা রাত অনুমান ৮টার দিকে লিমা নাহিদের হাতে পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চেয়ে ও কৌশলে দৌড়াইয়া পালিয়ে প্রতিবেশী সাংবাদিক এম, মুজিবুর রহমানের বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

তখনকার সময় সাংবাদিক এম, মুজিবুর রহমান বাড়িতে ছিলেননা, কর্মস্থল নবীগঞ্জে ছিলেন।তাঁর মা ও বোনেরা লিমা তাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে বলে তাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানালে ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলাম জুয়েলসহ তাদের আত্মীয় স্বজনকে খবর দেন সাংবাদিক এম, মুজিবুর রহমান।

পরে লিমার পিতার কাছে লিমাকে সমজিয়ে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত গ্রামবাসী সবার সামনে তার ধর্ষণের ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করে লিমা আক্তার। এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে ভিকটিমকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা রেকর্ড ভুক্ত করা হয়। উক্ত মামলা এফআইআর ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রায় ৪ মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায় লম্পট নাহিদ।

অবশেষে গত বুধবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ন ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ একদল পুলিশ নিয়ে বিশেষ অভিযান চালান নবীগঞ্জের দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের পানিউমদা ইউনিয়নের টেকইয়া গ্রামে। সেখানে দূর্গম পাহাড়ের উপর টিলায় মিন্টু মিয়ার বাড়ী থেকে নাহিদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

কে এই নুরুল ইসলাম নাহিদ? সে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের মৃত ওহাব উল্লার পুত্র। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মাদক, চুরি রাহাজানি ভুমি জবর দখল ও প্রতারণাসহ রয়েছে আরও অহরহ অভিযোগ।

২০১৪ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে একই গ্রামের দিন মজুর ওয়ারিশ মিয়ার স্ত্রীর সাথে পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে ওয়ারিশকে মারপিট করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ওয়ারিশ মিয়ার মেয়ের সাথেও লম্পট নাহিদ অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গ্রামবাসী এঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে নাহিদ নিজে ওয়ারিশের ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাঁই করে দেয়।

এ ঘটনায় ওয়ার্ডের ও গ্রামের তৎকালীন মেম্বার আশিক মিয়া ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ তাদের আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে সে ওয়ারিশকে এক পর্যায়ে তার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আদালতে একটি মিথ্যা ঘর জ্বালানো মামলা দায়ের করে।

এই মামলাটি নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ দুই দফায় তদন্তকরে আদালতে মিথ্যা হিসাবে চার্জশিট প্রদান করায়। পরিশেষে ওয়ারিশ তার ভুল বুঝে মামলাটি নিঃশর্তে আদালত থেকে তুলে নেয়।

এছাড়াও সম্প্রতি বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্টে চুরির ঘটনায় একটি মামলায় সে দীর্ঘদিন হাজতবাস করে। এছাড়া নাহিদ সে তার পিতৃ বসতভিটা তার অপর ভাইদের সাথে বিক্রয় করে তারই চাচাত বোন মৃত নোয়াব উল্লার মেয়ে আজিজুল বেগম ও ভাতিজা আরিছ মিয়া গংদের জায়গা জোর পূর্বক জবর দখল করে দুইটি ঘর নির্মান করে গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই জবর দখলকৃত জায়গায় দোকান ঘরের নাম দিয়ে জোয়া, মদসহ অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া তৈরি করেছে। তার বিরুদ্ধে এছাড়াও রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও বহু কর্মের হোতা নাহিদ রয়েযায় বহাল তবিয়তে। অবশেষে তার গ্রেফতারের সংবাদে এলাকায় স্থস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx