নিউজটি পড়া হয়েছে 81

নবীগঞ্জে ভূয়া এনজিও ঋণ দেয়ার নামে মানুষের কোটি টাকা নিয়ে উধাও।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে ঋণ দেবার নাম করে একটি নাম সর্বস্ব হায় হায় কোম্পানী আউশকান্দি ইউনিয়নসহ ঐ এলাকার ২০ টি গ্রামের সহজ সরলমনা মানুষের সাথে প্রতারনা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। প্রতারক চক্র বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে গ্রামাঞ্চলের সহজ সরলমনা মানুষকে স্বাবলম্বী করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১মাস ধরে এলাকায় ওএসএস এনজিও’র নাম করে সঞ্চয়ের নামে অগ্রিম জামানতের কথা বলে জন প্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করে। প্রতারণা শিকার শত শত দিন মজুর অসহায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পথে পথে ঘুরে ভেড়াচ্ছেন।

গতকাল (সোমবার) বিকালে প্রতারণায় শিকার ভুক্তভোগীরা নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের মা শপিং সিটির ৩য় তলায় প্রায় একমাস পূর্বে হায় হায় কোম্পানী ওএসএস এনজিও একটি অফিস খুলে মহিলাদের স্বাবলম্বী করার কথা বলে ঋণ দেবার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালায়। উক্ত অফিসে জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ওই মার্কেটের মালিক এনামুল হক চৌধুরী।

বিনা শর্তে শুধু এনআইডি কার্ড দিয়ে ঋণ দেবার কথা প্রচার করা হলে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েন। প্রতিদিন ভীড় জমে উঠে ঐ মার্কেটের তৃতীয় তলায়। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা দেবার কথা বলা হয়। গরীব অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পুরুষ ও মহিলাদের ঋণ দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে চুক্তি করে সঞ্চয় বাবদ ১লক্ষ টাকা ঋণ নিলে ওএসএস এনজিও ফান্ডে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হবে।এভাবে তিন লক্ষ টাকা নিলে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবে প্রতিদিন শত শত মানুষের কাছে থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়। ওই অফিসের কর্মকর্তা শামসুনাহার, সহকারী মাসুদা বেগম, বকুল বেগম মাঠকর্মী হিসাবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ব্যাপক প্রচারণা করেন।

সাধারণ লোকজন এ খবর পেয়ে মা শপিং সিটিতে আসলে সেই মার্কেটের মালিক এনামুল হক চৌধুরী অনেকের নিকট বলেন, আমি উক্ত এনজিও’র জিম্মাদার আপনারা আগে সঞ্চয়ের টাকা অফিসে জমা দিন, আপানদের টাকা কোন কিছু হলে এর ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব আমি নিবো।তাদের সহযোগিতা করেন আউশকান্দি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাহারপুর গ্রামের রুজিনা বেগমসহ একটি চক্র।

মিছকিনপুর গ্রামের বাসিন্দা পারভিন রহমান শিউলি ও শিবলি বেগম সহকারে ওই গ্রামের ২০জনের কাছ থেকে আগ্রিম সঞ্চয় হিসেবে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। পারকুল গ্রামের ২৬ জনের কাছ থেকে একই হারে টাকা নেয়া হয়। এরকম অত্র এলাকার বনগাঁও, পাহাড়পুর, দক্ষিণ দৗলতপুর, পিঠুয়া, আজলপুর, উমরপুর, দীঘরব্রাহ্মণ, আমুকোনা, বেতাপুর, ফরিদপুর, আউশকান্দি, কারখানা, দেওতৈল গ্রামসহ এলাকায় প্রচারণা করে গণহারে সঞ্চয় বাবদ টাকা নেয়া হয়। প্রতিটি গ্রাম থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা থেকে ,৩০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এব্যাপারে গত ৩ নভেম্বর শনিবার সকালে ভুক্তভোগী জনগণ মা শপিং সিটিতে এসে দেখতে পান অফিসে তালা ঝুলছে। পরে ভুক্তভোগীরা মার্কেটের মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এসে অফিসের তালা ভেঙ্গে অফিসে রক্ষিত কাগজপত্র ও মালামাল বাড়িতে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীদের মালিক এনামুল হক জানান, তারা কোথায় চলে গেছে আমি জানিনা আপনারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

তাই নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মুহিবুর রহমান হারুন ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার খালেদ আহমেদ জজ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করে কোন সুরাহা না হওয়াতে অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। যেসব মোবাইল নাম্বারে ভূয়া এনজিওর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কথাপোকথন হয়েছে তার নাম্বার হচ্ছে ০১৭২২১০৮৪৮০ ও ০১৯৮৭০৯৪১৬৩। প্রতারকচক্র পালিয়ে যাবার পর উক্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে ওই নাম্বারটি বন্ধ পাওয়াতে ঋণ গ্রহীতারা হতাশায় ভুগছেন।

আউশকান্দি ইউনিয়নের মিছকিনপুর গ্রামের মান উদ্দীনের স্ত্রী ভুক্তভোগী পারভিন রহমান শিউলি বলেন, ওই এনজিও’র অংশিদার হিসেবে পরিচয়দানকারী এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

মা শপিং সিটিতে আসলে ওই মার্কেটের মালিক এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আমার মার্কেটে ওরা ভাড়া ছিলো তাই আমি তাদের জিম্মাদার ছিলাম, তাই বলে কি আমি টাকা দিতে না কি? আমি এ ব্যাপারে কোন কিছু জানি না। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার মার্কেটে ভাড়া ছিলো তাদের সঠিক পরিচয় জানিনা।সাংবাদিকদের কাছে কোন ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নই। আমি অসুস্থ্য মানুষ আমাকে বিরক্ত করবেন না।

স্থানীয় আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, ভুক্তভোগী জনসাধারণ আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমি মার্কেটের মালিকের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবো। কারন অসহায় মানুষের টাকা মেরে কেউ রেহাই পেতে পারে না। আমরা ঐ বাজারের প্রতিটি মালিককে নোটিশ এবং মাইকিং করে জানিয়েছি অপরিচিত কাউকে ভাড়া না দিতে। কেন মালিক নাম সর্বস্ব কোম্পানী কোন ডিড ডকুমেন্ট ছাড়া ভাড়া দিলো সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে আমি এব্যাপারে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কারন বিষয়টি অত্যান্ত জটিল এই প্রতারক চক্রের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মার্কেটের মালিক পরিচয় না জেনে একটি প্রতিষ্ঠানকে কি করে ভাড়া দিলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx