নিউজটি পড়া হয়েছে 134

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (৭ম এবং শেষ পর্ব )

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৬)

স্বদেশে ফিরে আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সিলেটে কাজ করতে বলেন এবং তিনি একাধিক প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেন যার কিছু তথ্য নিম্নে লিপিবদ্ধ হলো। যে যে বিষয়ে ড. এ-কে আব্দুল মোমেন সাম্প্রতিকালে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন তার কিছু নমুনা তুলে ধরা হলোঃ

দৃশ্যমান অবকাঠামো

ক)রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন

১) সিলেট -ঢাকা ৬ লেনে উন্নীতকরনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় তদবির ও অনুমোদন। ১৯৯২ সালে চার লেনে রাস্তাটি সপ্রসারণের দাবী উঠলেও তা এখনো পড়ে আছে।

২) সিলেট – বাদাঘাট ৪-লেনের বাইপাশ অনুমোদন।

৩) সিলেট -সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রাস্তার বাজেট অনুমোদন ও উন্নয়ন কাজ চলছে।

৪) ত্রীমূখী থেকে নব-নির্মিত কেন্দ্রীয় জেলের রাস্তার উন্নয়ন। 

৪) সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে চৌকিদীঘি চারলেনে উন্নিতকরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

৫) আম্বরখানায় ত্রিমূখী ফ্লাইওভারের সুপারিশ প্রদান।

৬) সিলেট-জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার ও অন্যান্য রাস্তার উন্নয়ন। 

৭) সিলেটে ভবিষ্যতে যানজট কমানোর জন্য দুই-দুইটি রিং রোড নির্মান, ইত্যাদি।

খ) বিমান

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে সত্যিকার ভাবে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে উন্নতকরণের জন্য কয়েকগুন সম্প্রসারণ, ৬/৮ টি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন,  রানওয়ে বৃদ্ধি, এয়াপোর্টে বিরাট মডার্ণ Tax-Exempt Mall তৈরী ইত্যাদি যাতে এটি অত্র অঞ্চলের এমনকি করিমগঞ্জ, শিলং ইত্যাদির Airport Hub  হয় এবং এইখান থেকে বিমান বিভিন্ন দেশে সরাসরি যেতে পারে।

গ) নদী

সুরমা-কুশিয়ারা নদীর নব্যতা বৃদ্ধি করে নৌ চলাচলের সুব্যবস্থা। সারা বছর যাতে বাংলাদেশের একমাত্র River Cruise যা সুরমা নদীতে চালু আছে তা সহজজতর করা।

ঘ) রেল

ঢাকা-সিলেট এবং সিলেট-চট্রগ্রাম রেল লাইন ডাবল লাইন তৈরি করে যাতে ৩/৪ ঘন্টায় যাতায়াত সম্ভব হয়। তাছাড়া আধুনিক রেল ও কমপার্টমেণ্টের ব্যবস্থা করা। দূর্ভাগ্যবশতঃ সিলেট-চাটগা লাইনে একটিও এসি কমপার্টমেণ্ট নেই। তাছাড়া সবগুলো কমপার্টমেণ্ট আদিকালের, ময়লা, দূর্গন্ধযুক্ত যেখানে ইদুর, তেলাপিকা ও ছারপোকা রয়েছে।

ঙ। শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন

তার প্রচেস্টায় প্রায় ৬৭ বছর পর গেল বছর বৃহত্তর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপিত হলো। তবে এখনো আরো কাজ বাকী আছে।

চ।  তিনি মনে করেন অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ত্বরান্বিত হবে।

ছ। সিলেটকে দৃষ্টি নন্দিন ও Environment Friendly নগরে পরিবর্তন করন।

জ। সিলেটের সুরমা নদী, চা-বাগান, নদীনালা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুন্ন রেখে নাগরিক সুবিধাদি যাতে বৃদ্ধি করা যায় তার জন্য “আগামীর সিলেট” মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সব দেশে নদীর তীর ধরে প্রধান প্রধান সড়ক নির্মিত হয় এখানেও তার সুযোগ আছে এবং তা আলোচনায় নিয়ে আসতে হবে।

ঝ। সিলেটে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান মাজার সমূহে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন এবং তাদের সেবা বৃদ্ধির জন্যে এবং একে দৃষ্টিনন্দিত করার জন্য দুটো পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যা ইতি মধ্যে শুরু হয়েছে। এর ফলে এ পবিত্র স্থান সমূহে জনগনের সেবা অনেক বৃদ্ধি হবে।

ঞ। সিলেট সারা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম ডিজিটাল সিটিতে রূপান্তরকরণ। কাজটি অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।অনুমোদন নেয়া হয়েছে, বাজেট বরাদ্ধ হয়েছে, পিডি নিয়োগ হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ন হলে জনগনের কাছে বিভিন্ন নাগরিক সেবা অনেক অনেক উন্নত হবে, দ্রত হবে, লো-এণ্ড-অর্ডার উন্নত হবে এবং জীবন যাপনও সহজতর হবে।

ট। সিলেট সিটি মাত্র ২৬.৫ বর্গ কিলোমিটার ছোট্ট সিটি যার ফলে এর বাজেটও ছোট। একে ১৭৮.৬ বর্গ কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করে – খাদিমপাড়া ইউনিয়ন থেকে সুনামগঞ্জ বাইপাস পর্যন্ত– বৃদ্ধি করে অত্র এলাকার সকল জনগনকে সিটির সেবা প্রদান নিশ্চিত করা। এটা হলে বাজেট ও বাড়বে এবং সেবার পরিধি ও বাড়বে।

ঠ। প্রত্যেক বড় বড় শহরে যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ইত্যাদিতে নগর উন্নয়ন সংস্থা রয়েছে যারা নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করে। সিলেটে “সিলেট নগর উন্নয়ন” সংস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রচেসটা নেয়া হয়েছে।

ড। সিলেটে অনেক বড় বড় ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়ন এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ক্ষেত্রে সবিশেষ জোর দিতে হবে।

ঢ। সিলেটে পাকিস্তানীযুগের দুটো আবাসিক এলাকা রয়েছে যেমন হাউজং স্টেট ও উপশহর -এ দুটো যথেষ্ট নয়। প্রবাসীসহ নাগরিকদের জন্য শহরের অনাতিদূরে একটি আধুনিক ও সুন্দর আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠা করা  প্রয়োজন।

ণ।  সিলেটে সারা বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সবচেয়ে কম এবং এর ফলে সারা বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষার হার সিলেটে সবচেয়ে কম এবং শিশু মৃত্যু ও মাতৃ মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া অপুষ্টিও সর্ববোচ্চ। এ অবস্থা থেকে উন্নয়নের জন্য যথোপোযুক্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহন প্রয়োজন। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্র ইত্যাদির সংখ্যা কম হওয়ায় এ অঞ্চলের বড় সংখ্যক জনগন উন্নয়নের মহা সড়কের সুবিধা নিতে বঞ্চিত হচ্ছে। যেমন সারা বৃহত্তর সিলেট জেলায় সর্বমোট ১৩৭ টি সরকারি ও বেসরকারি কলেজ রয়েছে যা ঢাকা জেলার তুলনায় প্রায় ৮ গুন কম। মাননীয় অর্থমন্ত্রী সম্প্রতিকালে ১২৮ টি স্কুল ও কলেজে নতুন বিল্ডিং বা  ক্লাশরুম বৃদ্ধি করেছেন এবং শতবর্ষ পরে এইবারই প্রথম দুটো সরকারি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন তবে তা যথেষ্ট নয়।

ত। সিলেটে মেডিকেল সেবা অত্যন্ত সীমিত। ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালকে ৫০০ বেডের পরিবর্তে ৯০০ বেডে উন্নীত করলেও প্রতিদিন প্রায় ২২০০ লোক সেবার জন্য উপস্থিত হন। তাছাড়া সেবক, নার্স, ইন্টারনী ডাক্তার প্রমূখের জন্য বাসস্থানের অভাব। এগুলো দূর করার জন্যে ৫০০-৫০০ বেডের দুটো হোস্টেল তৈরী হচ্ছে। তাছাড়া ২০০-বেডের মা ও শিশু হাসপাতাল, ২৫০-বেডের সদর হাসপাতাল, মেডিকেল ইউনিভার্সিটি স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

থ। সিলেট এলাকার একজন প্রবাসী প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ চাকুরির সংস্থানের জন্য একটি “প্রাইভেট ইকনোমিক জোন” করার উদ্যোগ নিয়েছেন- তাকে সাহায্য করা যাতে উন্নতমানের চাকুরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া সরকার কোম্পানীগঞ্জে যে আইসিটি পার্ক করছেন তাকে ত্বরান্নিত করা।

দ। যদিও সিলেট সারা বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ করে তবে অত্র এলাকায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া বাসা বাড়িতে গ্যাস না থাকায় গণ অসন্তোষ রয়েছে। স্থানীয় লোকের গ্যাসের সরবরাহ যাতে বাড়ানো যায় তার জন্য চেষ্টা করা।

ধ। সিলেটে ব্যাংক ডিপোজিট অনেক বেশি। তবে দুঃখের বিষয় যে, অত্র অঞ্চলে ব্যাংক ঋনের পরিমান ১৩ বা ১৪% ভাগ মাত্র।উদ্যোক্তা যাতে সহজে ব্যাংক ঋণ পেতে পারেন তার ব্যবস্থা করা।

ন। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর উদ্দ্যোগে সিলেটের জলাবদ্বতা মোটামুটি দূর হয়েছে। তবে নর্দমা ও পানি নিষ্কাসন এখনো উন্নত হয়নি। গারভেজও নয়। এগুলোর উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করা।

প। অর্থমন্ত্রীর উদ্দ্যেগে সুপেয় পানির জন্য একটি Water Treatment Plant  স্থাপন হয়েছে, তবে আরো একটি প্রয়োজন।

ফ। বৃহত্তর সিলেট বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল মৌলভিবাজার এলাকায় দেশের ৯৩% ভাগ চা উৎপাদিত হয়। এতদিন চা চাটগায় নিয়ে সেখানে তা নিলামে বিক্রি হতো এবং এই প্রসেসের জন্য প্রতি বছর যাতায়াত খরচ ২০০ কোটি টাকা নষ্ট হতো।  তাছাড়া দীর্ঘ সুত্রিকার কারনে চায়ের মান নষ্ট হতো। সম্প্রতিকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বানিজ্য মন্ত্রীর সহায়তায় আমরা শ্রীমঙ্গলে দেশের ’দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র” চালু করেছেন। তবে একে পূর্নাঙ্গরুপ দিতে ঐ এলাকায় অধিকতর ওয়ার হাউজ নির্মান যেমন দরকার একি সময়ে রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগ উন্নত করা অতীব প্রয়োজন।

ব। সিলেটের অতি প্রচীন জেলকে বাদাঘাটে নির্মাণাধীন নতুন জেলে স্থানান্তর করন এবং পুরোনো জেল এলাকার দৃষ্টি নন্দিত পার্ক বা উদ্দ্যান তৈরী করে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং এর ব্যবস্থা করে এবং পার্শ্ববর্তী জেলের এলাকায় আধুনিক মল, অডিটরিয়াম, মূভি থিয়েটার ইত্যাদি প্রতিষ্টা করা ।

প্রবাসীদের উন্নয়নের মহাসড়কে সংপৃক্তকরণ

সিলেট তথা বাংলাদেশের এক বিরাট সংখ্যক জনগণ প্রবাসে থাকেন এবং তারা বিভিন্নভাবে দেশের উন্নয়নের কাজে সংপৃক্ত হতে আগ্রহী। তারা প্রতিবছর বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান এবং নতুন নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেন, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা আমলাতান্তিক জটিলতায় খৈই হারিয়ে ফেলেন। তাছাড়া অনেক প্রবাসী হরেক ধরণের হয়রানির শিকার হন এবং আনেকেই ভূমি দস্যুদের কারণে নিজদের জমিজমা এমনকি বসতবাড়ীও হারান। তাদেরে দেশের কাজে সংপৃক্ত করার জন্যে এবং তাদেরে যথার্থ সেবা দানের জন্যে প্রধান মন্ত্রীর দফতরে একটি টাক্সফোর্স তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের সংপৃক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ৩০শে ডিসেম্বরকে “প্রবাসী দিবস” হিসাবে দেশে-বিদেশে পালণের ঘোষনা দেয়া হয়। ড. মোমেন এসব ক্ষেত্রে অগ্রণীর ভূমিকায় আছেন এবং তিনি টাক্সফোর্সের একজন সম্মানীত সদস্য ।

মোট কথা ড. মোমেন বাংলাদেশের ২০২১, ২০৩০ এবং ২০৪১ রুপরেখা সমূহ অর্জন করে একে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে সহায়কের ভূমিকা পালন করার সুযোগ চান এবং বিশেষভাবে সিলেটকে একটি উন্নত, আধুনিক ও আলোকিত শহর হিসাবে দেখতে চান। তিনি আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও সক্রীয় সাহায্য প্রার্থনা করেন।

সিলেটের উন্নয়ন ও সিলেটের স্বার্থ রক্ষায় এবং দেশের আর্থসামাজিক জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে  মোমেনের এই দূর্লভ অভিঞ্জতা এবং বিরল দক্ষতা আজ কাজে লাগানোর সময় এসেছে। আসুন আমরা সবাই মিলে আপামর সিলেটবাসী দলমত নির্বিশেষে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সিলেটের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে বিজয়ী করে আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করি।

প্রচারে: সচেতন সিলেটবাসী

 মিশন ও ভিশন

বাংলাদেশের জনগনের মঙ্গল অর্জন, দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্তি, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান)ও উৎকর্ষ সাধন এবং শিক্ষার ব্যাপক প্রসার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রুপরেখা ২০২১, ২০৩০ এবং ২০৪১ সাল অর্জন। তার অর্থ হচ্ছে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত, স্থিতিশীল,  সমৃদ্ধশালী ও অসাম্প্রদায়িক অর্থনীতি যেখানে ধনী দারিদ্রের আকাশসম ফারাখ থাকবে না, যেখানে সকল নাগরিকের সম অধিকার ও সমান সূযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে, যেখানে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা সবার জন্য নিশ্চিত হবে। এবং সেই সাথে বৃহত্তর সিলেটকে একটি উন্নত, পরিবেশ-বান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তুলার প্রত্যাশা রয়েছে তার।

লেখকঃ কায়েস চৌধুরী
কান্টি ডিরেক্টর, কিউভিস টেকনোলজি, ইউকে

ফেসবুক মন্তব্য
xxx