সিলেটে গানের সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদ’র ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

সিলনিউজ২৪.কমঃ আনন্দঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সিলেটে উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী গানের সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

গত শনিবার বিকালে নগরীর রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে সিলেটের সকল রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে এবং সিলেট মোবাইল পাঠাগারের সার্বিক সহযোগিতায় এই উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এম. জাকারিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আব্বাসউদ্দীন আহমদের সুযোগ্য পুত্র উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক আসমা আব্বাসী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা জামান আব্বাসী বলেন, মানুষের ভালোবাসা পাওয়া খুব সহজ কথা নয়। জীবনে সাধনা, মেধা, দক্ষতা এবং কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত আব্বাসউদ্দীন আহমদ তেমনি গানের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বাঙ্গালি তথা বাঙ্গালি মুসলমানদেরকে জাগিয়ে তুলার কাজটি করেছেন। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন ছিলেন লোকসঙ্গীতের আকর। বাঙ্গালি জাতির জাতীয় চেতনার উৎস আব্বাসউদ্দীন আহমদকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সমন্বয়কারী পিপি এ কে এম শামসুল হক দীপু ও রোটারিয়ান পিপি মো. সেলিম খানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ডা. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, ডিজিএন ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ।

উদযাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষে শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোটারি ডিজিই লে. কর্নেল (অব.) এম. আতাউর রহমান পীর। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এম. জাকারিয়া হোসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মোস্তফা জামান আব্বাসী গল্পে গল্পে গান গেয়ে পুরো হলরুমকে মাতিয়ে তুলেন। লোকসঙ্গীত শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের গান গেয়ে দর্শকদেরকে বিমোহিত করেন। এছাড়া ভারতের শিল্পী অভিজিৎ চক্রবর্তী, ইন্দ্রানী চক্রবর্তী এবং স্থানীয় শিল্পী শামীম আহমদ, জান্নাত তাসনোভা চৌধুরী স্মিতা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে স্পন্সর ক্লাবগুলোকে ধন্যবাদপত্র প্রধান অতিথি মোস্তফা জামান আব্বাসীর মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া শুরুতে অতিথিবৃন্দকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনকারী ক্লাবগুলো হল-রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট সিটি, রোটারি ক্লাব অব সিলেট কসমোপলিটন, রোটারি ক্লাব অব সিলেট ইস্ট, রোটারি ক্লাব সিলেট গ্রীণ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট গ্রীণ সিটি, রোটারি ক্লাব অব সিলেট গার্ডেন ভিউ, রোটারি ক্লাব অব গ্র্যান্ড সিলেট, রোটারি ক্লাব অব সিলেট হিলটাউন, রোটারি ক্লাব অব সিলেট মহানগর, রোটারি ক্লাব অব সিলেট নর্থ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট অরেঞ্জ সিটি, রোটারি ক্লাব সিলেট পাইওনিয়ার, রোটারি ক্লাব অব সিলেট প্যারাডাইজ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট সাউথ। অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাবের সদস্যরা ছাড়াও সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনসহ সুধী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ  জ্ঞাপন করেন ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) এম. আতাউর রহমান পীর। র‌্যাফল ড্র’র বিজয়ীদেরকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx