রাজপথের রাজা বাদশাগণ : অর্থের কাছে দল, মতবাদ অচল

সিলনিউজ২৪.কমঃ  আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি থেকে শুরু করে বাম দলের নেতারা সবাই মােটামুটি আপুসে মিলেমিশে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনীতিতে মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও এখানে সবাই  মিলেমিশে একাকার। পরিবহন শ্রমিক-মালিক সংগঠনে আছেন মন্ত্রিসভার দুই সদস্য নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা। শ্রমিক সংগঠনে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী বর্তমানে কারাবন্দী অ্যাডভােকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ নেতা নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। এই ফেডারেশনের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নেতা ওসমান আলী। খুলনা মহানগরী শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক। ফেডারেশনের অন্যতম সহ-সভাপতি জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু, আরেক সহ-সভাপতি সিলেটের পরিবহন নেতা সেলিম আহমেদ ফলিক চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে ‘কাউয়া’ আওয়ামী লীগার বলে সূত্র জানায়। শ্রমিকনেতা হলেও এ বছর দ্বিতীয় বারের মতাে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল লিজ নিযেছেন ৮৭ লাখ টাকায় বিএনপির কালাম চেয়ারম্যানের সঙ্গে। শ্রমিক ফেডারেশনের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির খান, শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সম্পাদক করম আলী দোহার থানা বিএনপির নেতা।

দেশের সড়ক পরিবহন খাতে তৎপর মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলাে মূলত চাঁদাবাজির কারণেই সংগঠিত। যানবাহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ছাড়া মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের আর কোনাে সাংগঠনিক তৎপরতা চোখে পড়ে না। এই অবৈধ চাঁদার স্বার্থের সংঘাতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানে সমিতিতে সমিতিতে কিংবা ইউনিয়নের মধ্যে বিরােধ, পরিবহন ধর্মঘট, রুট দখল-পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটছে। এক জেলার বাস যেতে পারে না অন্য জেলার ওপর দিয়ে। সড়ক, মহাসড়ক ও ফেরিঘাটে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে বেহাল অবস্থা বাস-ট্রাক মালিকদের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিকদের জন্য মালিক সমিতি কিংবা শ্রমিক ইউনিয়নগুলাে তেমন কোনাে ভূমিকাই রাখে না। তারা মূলত পরিবহন খাতের অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং  চাঁদাবাজির বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

সূত্রঃ সময় এখন.কম

ফেসবুক মন্তব্য
xxx