নিউজটি পড়া হয়েছে 107

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৬)

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৬)

৩৬। তিনি বর্তমানে “চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ” এর চেয়ারম্যান, “বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট” এর চেয়ারম্যান, এবং “বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির” সভাপতি পদে দায়িত্বরত আছেন। তাছাড়া তিনি সি-বি-ডি-এল এবং বাংলাদেশ ইনসটিটিউটি অব কেপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) পরিচালক এবং ঢাকাস্থ ‘আমেরিকান ইউনিভারসিটি অব বাংলাদেশে (এআইইউবি) এর পারটাইম অধ্যাপক।

৩৮। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক হানাদার বাহিনী তাঁকে বন্ধী করে এবং নির্যাতন করে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে তিনি যার সাথে মিলে কাজ করতেন সেই অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমদকে ঘাতকরা বিজয়ের দুদিন আগে হত্যা করে ।

 অধ্যাপক ড. এ কে আন্দুল মোমেন একজন মননশীল প্রবন্ধকার, নিবেদিত প্রাণ শিক্ষাবিদ, নিষ্ঠাবান গবেষক, মানব দরদী সমাজসেবক এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অধ্যাপক ড, এ কে আব্দুল মোমেন দীর্ঘ সাড়ে ৩৭ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে ২০১৫ সালের ২৭শে নভেম্বর সিলেটে ফিরে এলে হাজার হাজার সিলেটবাসী তাকে সাদরে গ্রহন করেন।

অধ্যাপক ড. মোমেনের পরিবার

সিলেটের কৃতি সন্তান, সারা দেশের গৌরব, দেশবরেন্য অর্থনীতিবিদ, আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কূটনীতিবিদ, নারীর ক্ষমতায়নে  মহান উদ্দ্যেক্তা, শিক্ষাবিদ, নিবেদিত প্রান, স্বাধিনতা চেতনার অতন্দ্র প্রহরী ইমিরেটাস প্রফেসার আবুল কালাম আব্দুল মোমেনের (একে আব্দুল মোমেন) জন্ম ও বাড়ী সিলেট শহরে৷ দেশে ও প্রবাসে সর্বত্র তার বিচরন থাকলেও তার প্রাণ, মন আর কর্মতৎপরতা সিলেটকে ঘিরে। সিলেটের যে কোন সমস্যা সংকটে অথবা প্রয়োজনে তিনি সবসময় ছিলেন, আজও আছেন এবং ভবিষতেও সিলেটবাসির পাশে থাকবেন। সিলেট শহরের প্রখ্যাত আইনজীবী, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা তৎকালীন  সিলেট জেলা মুসলিম লীগের কর্ণধার এডভোকেট আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ সাহেবের ৬ষ্ঠ পুত্র ড. এ, কে, আব্দুল মোমেনের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৩শে আগষ্ট। তাঁর মা সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত সমাজ সচেতন মহিলা। যিনি সিলেটের প্রায় সকল স্কুল-কলেজের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সংপৃক্ত ছিলেন। তিনি আমৃত্যু সিলেট মহিলা সমিতির সভানেত্রী এবং ১৯৪৫-৫০ সালে সিলেট মুসলিম মহিলা লীগের সহ-সভানেত্রী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে তার অবদান গৌরবদীপ্ত৷ তার দাদা খান বাহাদুর আব্দুর রহিম ছিলেন “আসাম সিভিল সার্ভিসের’ একজন উর্ধতন কর্মকর্তা এবং সিলেটের সব কটি মহকুমায় যেমন সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ইত্যাদিতে দীর্ঘদিন এসডিও বা মহকুমা অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবারের সকল সদস্য ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। তাঁর বাপের মামা  আবদুল হামিদ (পাঠানটুলা) ছিলেন তার সময়ের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত জননেতা । জনাব হামিদ ১৯২৪-৩৭ সালে আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য-সভাপতি ও মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীকালে (১৯৪৭-৫৪ সাল পর্যন্ত) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন । তাঁর আর এক দাদা এস, এম, আকরাম পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি পূর্ব বাংলার গভর্নরের দায়িত্বও পালন করেন। তার নানা ছিলেন জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর গ্রামের প্রখ্যাত জমিদার সৈয়দ আবুল বাশার চৌধুরী। বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীর বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক ও স্টেট কাউন্সিলের সদস্য সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের নেতা সিলেটের দ্বিতীয় মুসলমান গ্রাজুয়েট দানবীর মৌলভী আব্দুল করিম ছিলেন জনাব মোমেন -এর বড় আব্বা । তাঁর নিজের ফুফু সাহেরা খাতুন ছিলেন সিলেটের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্রাজুয়েট এবং তার বোন ডাঃ শাহলা খাতুন সিলেট জেলার প্রথম মুসলিম মহিলা এমবিবিএস (ঢাকা), এমআরসিওজি (এডিনবরা) এফ-আর-সিওজি (লডন), এফআইসিএস (ইউএসএ)। তিনি “জাতীয় অধ্যাপকের” মর্যাদায় অধিষ্টিত হন৷ তারা সাত ভাই ও পাঁচ বোন। সবাই উচ্চশিক্ষিত দেশে ও বিদেশে তারা স্বনামে পরিচিত এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেন স্বাস্থ্য সেবা প্রফেশনাল। তাদের পাঁচ সন্তানদের মধ্যে তিনজন মেয়ে এবং দুইজন ছেলে। তারা সবাই আমেরিকা প্রবাসী সবাই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

স্বদেশে ফিরে আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সিলেটে কাজ করতে বলেন এবং তিনি একাধিক প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেন যার কিছু তথ্য নিম্নে লিপিবদ্ধ হলো। যে যে বিষয়ে ড. এ-কে আব্দুল মোমেন সাম্প্রতিকালে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন তার কিছু নমুনা তুলে ধরা হলোচলবে…

লেখকঃ কায়েস চৌধুরী
কান্টি ডিরেক্টর, কিউভিস টেকনোলজি, ইউকে

ফেসবুক মন্তব্য
xxx