নিউজটি পড়া হয়েছে 223

সুলতান মনসুর কি ভুলে গেলেন তিনি এখন যে জিন্দাবাদের লোক ? : মো. আখলাকুর রহমান।

সুলতান মনসুর কি ভুলে গেলেন তিনি এখন যে জিন্দাবাদের লোক? 
 মো. আখলাকুর রহমান।

গত ২৪ অক্টোবর সিলেটে নবগঠিত জাতীয় ঐক্যকোটের জনসভায় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ‘জয়বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে। এ কাজটা কি ভুলবশতঃ না কি তার ইচ্ছাকৃত তা বুঝতে পারা কিছুটা কঠিন। কেউ হয়তো বলবেন, সারাজীবনের অভ্যাস, তাই হয়তো তা মুখ ফসকে বেরিয়ে এসেছে। অন্য কেউ হয়তো বলবেন নুতন এ ঐক্যফ্রন্টে ডানহাতে জিন্দাবাদের সাথে বামহাতে জয়বাংলাও যে আছে, তা জানান দিয়ে একটু ভারসাম্য রাখার জন্যে হয়তো তিনি এটা করেছেন। আবার তিনি তার বর্তমান প্রতিপক্ষকে একটু খোঁচা দেয়ার জন্যেও এটা করতে পারেন। এর কোনোটাই সম্ভবত ঠিক নয়। এ সময়ে ক্রোধান্ধ সুলতান মনসুর আসলে ‘জয়বাংলা’কে মুলত নর্দমায় ফেলে দেয়ার কাজটাই করে নিলেন।

‘৮৯ সালের শেষদিকের কথা। একদিন আমি সিলেট শহরে আম্বরখানা পয়েন্টের পশ্চিম পার্শ্বে ট্রাফিকজ্যামে আটকা পড়ে গেলাম। তখন এখানেই ছিলো সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের বাসস্ট্যান্ড। এর আগে এক সময়ে সিলেটের প্রায় সকল রুটের স্টপেজের পাশাপাশি প্রথমে তা ছিলো কোর্ট পয়েন্টে। পরে এ স্ট্যান্ডটা স্থানান্তরিত হয় মাছুদীঘির পারে এবং এরপরে আসে আম্বরখানায়। অবশ্য ২০০০ সালে তা শহরের বাইরে কুমারগাঁওয়ে স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য রুটেরও স্টপেজগুলো ক্রমান্বয়ে সিলেট শহরের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু তা আম্বরখানায় থাকা কালে তখন প্রায় প্রতিদিনই বিশেষ করে দুপুর থেকে সন্ধ্যাবেলা পর্যন্ত এ স্ট্যান্ডের মুখে জ্যাম লেগে থাকতো।

আমি একদিন আমার ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে সুবিদ বাজার যাওয়ার পথে সেখানে এসে আটকা পড়ে যাই। এ দিন দুপুরবেলায় প্রচন্ড জ্যাম পড়েছিলো। আমি প্রথমে রাস্তার বামপাশে সঠিক অবস্থানেই ছিলাম। বিপরীত দিকে প্রচুর রিক্সা এসে আমার সামনে যাওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছে। আগে-পিছে, ডানে-বায়ে কেবল রিক্সা আর রিক্সা, কিছু অটো গাড়ীও ছিলো। রিক্সাচালকরা এতোটাই বেপরোয়া যে মনে হচ্ছিলো আমার গাড়ীর সাথে তাদের বাহনকে বাজিয়ে দিচ্ছে। বেশির ভাগ উৎপাত ছিলো বিপরীত দিক থেকে আসা ও বামপাশে থাকা রিক্সার। আমি আমার গাড়ির সেফটির কথা ভেবে একটু একটু করে সরে যাচ্ছি। কিন্তু নিরাপত্তার ঝুঁকি তবুও যেনো আরো বেড়ে যাচ্ছে। এ ভাবে একটু একটু করে এক সময় চেয়ে দেখি আমি একেবারে রাস্তার ডানপাশে চলে এসেছি। মাথার উপরে খাঁড়া রোদ, প্রচন্ড গরমে হাফিয়ে উঠেছি। এর মাঝে বাড়তি সমস্যা ছিলো এতোক্ষণ আমি অন্যদের দোষী ধরে নিয়ে ধমক টমক দিয়েছি আর এখন কি না অন্যরা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছে, এ গাড়িটা এখান এলো কেনো ? তখন আসলেও আর আমার কাউকে কিছু বলার ছিলোনা। আমি কা’কে বুঝাবো যে পরিস্থিতির শিকার হয়ে বামপাশ থেকে ডানপাশে যে এসেছি? আমি রং সাইডের রং পার্সন, যা কিনা ভুল অবস্থানে থাকা একজন ভুল মানুষ ? কারণ শেষ বিচারে আমার অবস্থান ছিলো ভুল।এটাই সত্য, তাই দায় এড়াই বা কি করে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একইভাবে বামের কতো লোকের অবস্থান যে পরে চরম ডানে চলে গেছে তার হিসেব দিয়ে শেষ করা যাবেনা। আগামী নির্বাচনকে উপলক্ষ করে সম্প্রতি যে সম্মিলিত মোর্চা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে, এর মাধ্যমে সর্বশেষ প্রগতিশীল রাজনীতির দাবিদার বেশ ক’জনই সে রকম পরিবর্তনকে গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে সাবেক আওয়ামি লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও সুলতান মনসুর আহমদ অন্যতম। দু’জনই ছিলেন আওয়ামি লীগের মতো দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। মান্না জাসদ/বাসদ হয়ে আওয়ামী লীগে এসেছিলেন, তিনি কখনো মুজিব কোর্ট গায়ে তুলেননি। কিন্তু সুলতান মনসুর আজীবন আওয়ামী লীগার ছিলেন, তিনি গা থেকে তাই এখনো মুজিবকোর্ট নামাতে পারছেন না। সিলেটের এ জনসভার দিন এক বেরসিক মাস্তান ছেলে তার মুজিব কোর্ট জোর করে খুলে নেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। সে নাকি আবার ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত এক কর্মী। সে চোর, ডাকাত, বদমাস যা-ই হোক মুজিব কোর্টের জন্যে তার দরদ থাকতেই পারে। কিন্তু সে তো সুলতান মনসুরের মতো এখনো রঙ পাল্টায় নাই, তাই এমন কাজটাকে সে হয়তো নেহায়েত কর্তব্যজ্ঞান মনে করেছে। এতে তাকে খুব বেশি দোষারোপ করা যাবে কি?

ওটা ছিলো নুতন জোটের প্রথম জনসভায় আসার পথের ঘটনা। আর জনসভায় এসে তার দেয়া বক্তব্য শেষে সুলতান মনসুর বক্তৃতার শেষে ‘জয়বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বাঁধালেন আরেক বড় গন্ডগোল। এখন বাসর ঘরেই যেনো নববধুর ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা ! কি করবেন এখন তিনি, তা তাকেই ঠিক করতে হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, তিনি কেনো ভুলে গেলেন যে তিনি এখন আর ‘জয় বাংলা’র লোক নন? যেদিন থেকে তিনি আনুষ্টানিকভাবে ঐ নুতন মঞ্চে পা রেখেছেন সেদিন তিনি, তার নুতন নেতা কামাল হোসেন, রব, মান্নারা ‘জিন্দাবাদ’ ঘরানার লোক হিসেবে রুপান্তরিত হয়ে গেছেন। তিনি তা বুঝতে চান নাই, তাই হয়তো মুজিবকোর্ট পরেই সে মিটিং ছুটেছিলেন। কিন্তু কিছু সময় পরেই তো ঠিকই বুঝতে পেলেন, তিনি কোথায় আছেন। এরপরে গোস্তাকীর জন্যে হয়তো কান ধরে উঠ-বস করার তালে আছেন। এর বিকল্প আর কিছু কি থাকতে পারে?

সুলতান মনসুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমার থেকে এক বছরের সিনিয়র। সিলেট এমসি কলেজে আমি যখন দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র তিনি তখন বিএ প্রথমবর্ষের ছাত্র ছিলেন। এ সময় এমসি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের সাক্কু-সুলতান পরিষদের প্যানেল হয়েছিলো। আমি তখন তাদের প্যানেলের জন্যে ভোট সংগ্রহের কাজ করেছি। সে সময় থেকে তার সাথে আমার ভালো পরিচয়। সে নির্বাচনে অবশ্য জাসদ ছাত্রলীগের সাত্তার-মুনতাকিম পরিষদ জয়লাভ করেছিলো। এর কিছুদিন পরেই ঘটেছিলো পঁচাত্তর ট্র্যাজেডি। সুলতান মনসুর তখন সাবেক বঙ্গবীর ( আমি যতদূর জানি তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্যে প্রদত্ত খেতাব নিজেই এ রকম ক্রোধান্ধ ফিরিয়ে দিয়েছেন ) কাদের সিদ্দিকীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশত্যাগ করেছিলেন। কয়েক বছর পরে ‘৭৯ সালে দেশে ফিরে এসে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী   হলেন। এ সময় তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে ঘটেছিলো একটা বড় টানাপোড়নের ঘটনা। যে ঘটনায় সুলতান মনসুরের ভালো রকমেরই সম্পৃক্ততা ছিলো। সে সময় ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্ধ দেখা দেয় যা দৃশ্যমান হয়েছিলো পরে ফজলু-চুন্ন বিরোধ নামে।

এ বিরোধটা ছিলো আসলে এক পাতানো খেলা। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল বিরোধীতাকারীরা আওয়ামী লীগেই অধিক সংখ্যায় ছিলেন। কারণ তাদের কাছে তখন রাজনীতির চেয়ে শ্রেণিস্বার্থই বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশের সর্বস্তরে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। যার ফলে হয়তো দেশের ২০% ধনী, নব্য ধনী ও পূঁজিপতিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো তবে উপকৃত হতো দেশের ৮০% গরিব মেহনতি মানুষ। তবে সমস্যা হলো আওয়ামী লীগ এবং অন্যসব দলেরও রাজনীতির চালিকাশক্তি ছিলো ঐ ২০% এর ভেতরেই। যে কারণে বঙ্গবন্ধু এতো মহৎ একটা কাজে হাত দিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং তাকে জীবনও দিতে হয়েছিলো।

তখন শেখ হাসিনা আওয়ামি লীগের সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর দেশে ফিরেছেন। রাজনীতি সম্পর্কে তার তেমন একটা ধারণাও তখন তৈরি হয়নি। কিন্তু দলের ভেতরে বাকশালের পক্ষ-বিপক্ষ বিরোধ চলছিলো। বিপক্ষের সংখ্যা বোধগম্য কারণেই অনেক বেশি ছিলো। তারা ছাত্রলীগে উস্কে দেয়া বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বাকশাল সমর্থকদের দল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করলো। এ সময় দলের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল নুতন করে গঠিত হয়। তার আগে সুলতান মনসুর সিলেটে এসেছিলেন এ নুতন বাকশাল গঠনের তৎপরতা চালাতে।

তখন আম্বরখানা পয়েন্টের দক্ষিণে সড়কের পূর্বপাশ্বে আমাদের সময়ে ফাতেমা টি-স্টল নামের একটা বেশ জনপ্রিয় চায়ের দোকান ছিলো। সেখানে মাঝে মাঝে চায়ের আড্ডায় বসার লোভ অনেকের মতো আমারও ছিলো। একদিন বিকেলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তিনি সে স্টলে এলেন। সে সময় আমার এক ঘনিষ্ট সহপাঠী প্রয়াত লুৎফুর রহমান, আমি ও সুলতান মনসুর অনেক সময় ধরে সিলেটে বাকশাল গঠন করা নিয়ে আলাপ আলোচনা হলো। আমি সেদিন সুলতান মনসুরের ব্রিফিংকালে তার অনেক বিষয় নিয়ে দ্বি-মত বা প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি আমাদের সবকিছুর শেষে একটা কথা খুব জোর দিয়েই বলেছিলেন, ‘ভাই শুনো, শেখ হাসিনার সাথে কিন্তু রাজনীতি করা যায়না’।

পরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় ভাবে আব্দুর রাজ্জাক এবং ন্যাপ থেকে নুতন করে যোগদানকারি মহীউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বাকশালের কমিটি ঘোষিত হলো। সিলেটে আমরা মরহুম দেওয়ান গোলাম কিবরিয়া এডভোকেটকে সভাপতি এবং শাহ আজিজুর রহমানকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠন করলাম। কিন্তু বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম সুলতান মনসুর কোথাও নেই। এ ছাড়া যে কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা বাকশালে থাকার কথা তিনি আমাদেরকে বলেছিলেন, তারাও কেউ বাকশালে নেই। পরে সুলতান মনসুর তো আওয়ামী লীগের ছাতার নীচে থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি(‘৮৫-‘৮৮) ডাকসু’র ভিপি হলেন। আওয়ামি লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছেন। ‘৯৬ সালে এসে এমপি ও নির্বাচিত হলেন। কিন্তু যে কারণেই হোক তিনি শেখ হাসিনার হয়তো  আস্থা অর্জন করতে পারেননি। তিনি যে তা পারেন না তা আমি অন্তত বিশ্বাস করি।

এ রকম ঘটনা সুলতান মনসুর তার রাজনৈতিক জীবনে কয়েকবারই করেছেন। তিনি এক এগারো’র সময় মাইনাস-টু ফর্মুলায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তার জের হিসেবে সে সময়ে গজানো কূশীলবদের লেজ ধরেই গত কিছুদিন আগে জাতিকে গণতন্ত্রের সাধ পাইয়ে দিতে কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এজেন্ট তিনি হলেন? এ কাজটা কোন নিকেশ থেকে হলো তা আমার মাথায় আসেনা। যারা সেখানে বসে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষ হওয়ার চেষ্টাকে প্রমাণ করতে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন, তাদের এ সব কাজ যে পুতুল নাচের রঙ্গমঞ্চের স্রেফ নাটক, সেটাতো ছোট্ট একটা শিশুও বঝে। এ জোটের কাজে কে লাভবান হবে না হবে, এটা কি এ দেশের মানুষকে এতো বেশি বুঝানোর প্রয়োজন আছে?

শেখ হাসিনা প্রথমে একেবারেই সরল সহজ একজন মহিলা ছিলেন যার রাজনীতির মারপ্যাঁচ সম্পর্কে এতোটা সম্যক উপলব্ধি ছিলোনা। কিন্তু অলৌকিক ভাবেই যেনো দ্রুততার সাথে এ দেশের রাজনীতির চালকের আসনে তর তর করে উঠে এলেন এ মহিলা !

মনে পড়ে ভারতে জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর কংগ্রেস নেতৃত্বে ব্যাপক টানাপোড়ন শুরু হয়েছিলো। ‘৬৪ সালে তার পিতার মৃত্যু হলে তখনকার রাষ্ট্রপতি তাকে রাজ্যসভার সদস্য নিয়োগ করেন। পরে তিনি লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভার সদস্য নিযুক্ত হন। তিনি তখন তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু লালবাহাদুর শাস্ত্রী ‘৬৬ সালে আচমকা মৃত্যুবরণ করলে তখন কংগ্রেসে ঐক্যের প্রতীক বিবেচনা করে নেহেরু কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী করা হয়। কংগ্রেসে এবং লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় তখন অনেক ঝানু নেতারা ছিলেন। কিন্তু পারস্পরিক দ্বন্ধের কারণে কেউই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিলেন না। তাই সংকট থেকে উত্তরণের জন্যেই ইন্দিরাকে তারা বেঁচে নিয়েছিলেন।

তখন কিছু কংগ্রেস নেতার এমনটাই ধারণা ছিলো যে, আপাতত সংকট দুর হোক। আর ইন্দিরা গান্ধী সামান্য মহিলা এক সময়ে ঠিকই হাঁফিয়ে উঠবেন, তখন সময় ও সুযোগ তৈরি হবেই তাদের। কিন্তু পরে দেখা গেলো পুরো বিপরীত চিত্র। ইন্দিরা অতি দ্রুতই সবদিক সামাল দিয়ে সর্বেসর্বা হয়ে দাঁড়ালেন। তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রাজনীতির বলয় থেকে বুলেটবিদ্ধ হওয়ার কারণে তিনি মাইনাস হয়েছিলেন। আর সে সকল দুরদর্শী বয়োজৈষ্ঠ্য কংগ্রেস নেতারা কেবল করুণ বঞ্চণারই শিকার হয়েছিলেন। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে টেনে আনার পেছনে কতিপয় বিগ আংকেলের এ রকমই নিকেশ ছিলো। কিন্তু বিস্ময়কর ভাবে সবকিছু ভন্ডুল হয়ে গেলে তারা একই ভাবে নানা রকম মানসিক ভোগান্তিতে পড়ে যান। নব্বুই দশকের গোড়াতে বাকশাল গঠন করাসহ অনেক দলবাজি করেছেন সে সব নেতারা, কিন্তু কোনো রকম কূল কিনারা করতে পারেননি। আর পারবেন বলেও মনে হয়না।

আল্লাহ সর্বশক্তিমান যেখানে শেখ হাসিনার পক্ষে, তখন তার কিছু কপট বান্দারা কি আর করতে পারে? অন্তত বাইশ বার তো শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার জন্য যতোসব ভয়ংকর আক্রমণের ফাঁদ পাতা হলো, কিন্তু শেখ হাসিনাকে থামানো গেলো কই? এই যে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নুতন একটা সাইনবোর্ড লাগানো হলো, তা কি এদেশের মানুষের কাছে নুতন কিছু হলো? তারা সময় মতো ঠিকই এর জবাব দেবে। তবে লোভী কপট লোকেরা ক্রমাগত বড়ো শয়তানের পাল্লায় পড়ে আমল ঈমান কেবল খোয়াতেই থাকবে। কিছু কিছু ধার্মিক লোকের সন্তানও যেমন বেহশতের লোভে জাহান্নামের পথিক হয়। আমাদের লোভী নেতারা এভাবে কেবল পথভ্রষ্ট হতেই থাকবেন বলে ধারণা করা যায়।

লেখকঃ অধ্যক্ষ # জনতা মহাবিদ্যালয়, মঈনপুর # ছাতক, সুনামগঞ্জ।
তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রি.# অস্টিন, টেক্সাস, য়ুক্তরাষ্ট্র।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx