ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৫)

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৫)

 

২১। তার সময়ে বাংলাদেশ জতিসংঘে তিন তিনটি রিজোলিউশন বিশেষতঃ (১) মানুষের ক্ষময়াতন বা পিপুলস এমপাওয়ারমেন্ট, (২) অটোইজম ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক এবং (৩) শান্তির সংস্কৃতি প্রস্তাবসমূহ সমযোতার মাধ্যমে সর্বসম্মতিতে পাশ হয়।

২২। অধ্যাপক মোমেন ১৯৯০-৯৬ সালে নারী ও শিশু পাচার বন্ধের জন্য বিশ্বব্যাপী এক জোরালো আন্দোলন শুরু করেন। বিশ্বের বড় বড় প্রচার মাধ্যম বিবিসি, সিএনএন, এবিসি, এন বিসি, সিবিএস, এনএন, ইকোনমিস্ট, টাইম, মনিটর, বোস্টন গ্লোব, নিউ ইয়র্ক টাইমস, এলএ টাইমস, ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি জনমত গঠন করেন এবং জাতিসংঘেও তিনি নারী ও শিশু পাচার বন্ধের রেজুলেশন পাশ করান ।

২৩। যুক্তরাষ্ট্রের ১৩২ জন প্রভাবশালী সিনেটর/কংগ্রেসম্যানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে উটের জকি হিসেবে শিশুদের ব্যবহার বন্ধ করার জন্যে তিনি চিঠি সংগ্রহ করে চাপ সৃষ্টি করলে তা মোটামুটি বন্ধ হয়। পাচারকৃত অনেক শিশু ও মহিলাকে স্বদেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থাও করেন।

২৪। তিনি শিশুশ্রম বন্ধের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীর যোনীদেশ বন্ধকরণ, নারী ও শিশু পাচার রোধকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, কমার্স ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন ফোরামে এবং একাধিক গণ শুনানীতে জোরালো বক্তব্য রাখেন। ফলে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন উপযুক্ত আইন পাশ করেন এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে শিশু শ্রম বন্ধে “উইন উইন” মডেল সৃষ্টি হয়।

২৫। তিনি আমেরিকার মেডিকেল রিসোর্স ফাউন্ডেশনের (AMRF) এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কয়েক কোটি টাকার মেডিকেল সরঞ্জামাদি পাঠান।

২৬। তিনি ১৯৭৪ সালে দূর্ভিক্ষের সময়ে নারোর প্রেসিডেন্টের সাথে আলাপ করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের জন্য তিন মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেন।

২৭। যখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজীর একান্ত সচিব ছিলেন তখন তার উদ্যোগে ওয়েজ আর্নার স্কীম চালু করেন যা বঙ্গবন্ধু সরকারের অন্যতম একটি মাইলফলক। এই নীতিমালার ফলে প্রবাসীরা নিজেদের অর্থে স্বদেশে পণ্য রপ্তানী করতে পারতেন । ফলে স্বদেশে দ্রব্যের’ অপ্রতুলতা যেমন কমে, মুদ্রাস্ফীতি ও হ্রাস পায়।

২৮। ১৯৯৪ তিনি প্রেসিডেণ্ট বিল ক্লিনটনের সহায়তায় বাংলাদেশী সেনাবাহিনীকে এবং পরবর্তীতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হাইতিতে পীসকিপিং এ নিয়োজিত করেন।

২৯। সামরিক সরকার ১৯৮২ সালে তাকে পিও-অর্ডার ৯ (P O Order 9) এর সরকারি আওতায় চাকরি থেকে জোরপূর্বক অবসর প্রদান করলে তিনি স্বদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তৎপর হন ।

৩০। ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রে “কমিটি ফর ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর কো-কনভেনার নির্বাচন হন এবং দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্টার জন্য নিরলস কাজ করেন ।

৩১। তিনি আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটি, নৰ্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসারচেষ্ট, মেরিমেক কলেজ, সেলেম ইউনিভারসিটি, ক্যামব্রীজ কলেজ ইত্যাদিতে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

৩২। তাঁর প্রচেষ্টায় যুদ্ধ অপরাধী সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ওআইসির মহাসচিব পদে নির্বাচিত হতে পারেননি।

৩৩। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হবার পূর্বে তিনি ফ্লেমিংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ও ইকোনমিক বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি অধ্যাপনায় স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করলে তার বিশ্ববিদ্যালয় তাকে “এমিরেটাস প্রফেসার” সম্মানে ভূষিত করেন।

৩৪। ড. মোমেন বহু মানবিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন । যেমন তিনি বাংলাদেশ তৃতীয় ফোবানা সম্মেলনের চেয়ারম্যান (১৯৮৯), বস্টনের নিউ ইংল্যান্ড সমিতির সভাপতি (১৯৮৭-৮৯), আমেরিকার এন্টি-স্লেভারি এলায়েন্স-এর পরিচালক, বস্টনের উইমেন ও চিলড্রেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামাইন এসোসিয়েশন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন, বস্টনের নিউ ইংল্যান্ড ইসলামিক সোসাইটি ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য ।

৩৫। তিনিই জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে বাংলাদেশ বিষয়ক দু’টি প্রকাশনা‘বাংলাদেশ: কান্ট্রি অব ইমটপাওয়ারিং পিপল’ ও ‘বাংলাদেশ : ফরটি ইয়ারস ইন দি ইউ এন’ প্রকাশ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ সমূহের বিবরণ বাংলাদেশ মার্চিং টুয়ার্ডস প্রোগ্রেস’ শীৰ্ষক পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিতরণ করেন। তিনি একজন স্বনামখ্যাত কলামিস্ট, লেখক এবং তার কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া কয়েক শো প্রবন্ধ স্বদেশী-বিদেশী জারন্যাল বা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।চলবে…

লেখকঃ কায়েস চৌধুরী
কান্টি ডিরেক্টর, কিউভিস টেকনোলজি, ইউকে

ফেসবুক মন্তব্য
xxx