আওয়ামী লীগ তার শক্তি ও ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসে : প্রধানমন্ত্রী

সিলনিউজ অনলাইনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে।

আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় দলের যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আমরা অবশ্যই জয়লাভ করব। কেননা, দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে আজীবন বহিস্কার করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করব। সেসময় স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি ক্ষমতায় থাকবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি যদি ক্ষমতায় না থাকে তাহলে যথাযথভাবে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হবে না। তিনি বলেন, পাকিস্তান প্রেমীরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে না। এটাই বাস্তবতা।

জনগণের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ তার শক্তি ও ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসে।

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের ছোঁয়া প্রত্যেকের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এবং তাদেরকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিয়েছে।
জনগণ সরকার গঠনে আওয়ামী লীগকে আরেকবার নিশ্চিত সুযোগ দিয়ে পরিবর্তনের এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে দেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।

তিনি বলেন, আমরা ভাগ্যবান যে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ যখন রজতজয়ন্তী উদযাপন করে তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। আমার আমন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপ্লবী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম ইয়াসির আরাফাত ও তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল সেই উদযাপনে যোগ দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অসাধারণ উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ পুনর্নির্বাচিত হলে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা আবার ক্ষমতায় এলে জনগণ আরো সুন্দর জীবন পাবে এবং প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করা হবে। গ্রামে থেকেই জনগণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং তাদের কোন কষ্ট করতে হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতি দেন। যাতে তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রতিটি গ্রামকে শহরের মতো করে সাজাবো।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছি এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে আমার এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। তাঁর সরকার জাতিকে ক্ষুধার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পেরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ করা হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দেশকে আগামী শতাব্দিতে সবচেয়ে উন্নত দেশে পরিণত করতে এবং এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্রের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ‘এই হার আরো ৪/৫ শতাংশ কমানো গেলে আমরা বাংলাদেশকে একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ বলতে পারব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তিনটি শর্ত পূরণ করে স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা এ সাফল্য ধরে রাখতে চাই এবং এটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে না তাদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন তাদের এক নেতা বলেছেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে বেশি উন্নতি করেছে। প্রকৃত পরিস্থিতি দেখার জন্য তাকে পাকিস্তানে পাঠানো উচিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরব ইসলামাবাদের ঋণ পরিশোধ করার জন্য পাকিস্তানকে ৩শ’ কোটি ডলার দিয়েছে। এটিই হলো পাকিস্তানের অবস্থা।

তিনি বলেন, আমরা মোটেই ঋণখেলাপি নই। আমরা নিয়মিত ঋণ শোধ করছি এবং ঋণ পরিশোধের জন্য আমাদের কারো কাছে হাত পাতার প্রয়োজন পড়ে না। তবুও যদি কেউ আমাদের উন্নয়ন দেখতে না পায়, আমরা বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।

নতুন জোট গঠনকারী ড. কামাল হোসেনের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ১০-ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষীদের নিয়ে জোট গঠন করেছেন। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং তাত্ত্বিক মন্তব্য করেন তারা দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে জোট করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকার গঠনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে কোন অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি প্রশ্ন করেন, এরপরও কিছু বড় বড় আইনজীবী কিভাবে এ ধরনের একটি সরকারের দাবি করেন? এ ধরনের দাবির মাধ্যমে তারা কার স্বার্থ পূরণ করতে চান?
প্রধানমন্ত্রী ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেসিনের (ইভিএম) বিরোধিতাকারীদেরও সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ইভিএম আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং এতে কেউ কারচুপি করতে পারে না। কারণ, প্রত্যেকেরই বায়োমেট্রিক পিঙ্গার প্রিন্টসহ স্মার্ট কার্ড থাকে। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কেন তারা ইভিএম-এর ব্যাপারে আপত্তি তুলছেন? তারা কি নির্বাচন চান, না অন্য কিছু ভাবছেন? শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা অযৌক্তিক দাবি তুলছেন। তিনি বলেন, তারা দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান।

সরকার সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না বলে জোটের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, সিলেটে তাদেরকে জনসভা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ইতোমধ্যে সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমতি দিতে। কেননা, দেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। তারা যা বলতে চান বক্তৃতায় তাই বলবেন, এ ব্যাপারে কেউ তাদের বাধা দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাতের কারণে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে গেছেন, রাজনৈতিক কারণে নয়।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে একডজন মামলা দায়ের করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আরো ৫/৬টি মামলা করে। ‘একটি মামলাও প্রত্যাহার করা হয়নি এবং প্রত্যেকটিরই তদন্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংক তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে। কিন্তু তারা দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। বাসস

ফেসবুক মন্তব্য
xxx