ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৪)

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৪)

৭। ড. মোমেন নিজেও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে দেশের জন্যে সম্মান বয়ে নিয়ে আসেন। যেমন—(১) ইউনিসেফের প্রেসিডেন্ট, (২) সাউথ-সাউথ ইউএন হাইলেভেল কমিটির প্রেসিডেন্ট (৩) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (৪) সেকেন্ড কমিটি বা ইকোনোমিক কমিটর চেয়ারম্যান (৫) পীস কিপিং কমিশনের প্রেসিডেন্ট (৬) ভাইস প্রেসিডেন্ট (৭) ক্রীডেনশিয়াল কমিটির প্রেসিডেন্ট (৮) ইকোসক (ECOSOC) (৯) ইউএনডিপি (১০) ইউএন উইমেন (১১) ইউএনএফপিএ ইত্যাদির ভাইস প্রেসিডেন্ট (১২) কাউন্টার টেরোরিজমের ফেসিলিটেটর (১৩) স্বল্প উন্নত দেশগুলোর (LDCs) চেয়ারম্যান দুই-দুবার (১৪) ন্যামের কোর্ডিনেটর (১৫) সেক্রেটারী জেনারেলের সিনিয়র উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য (১৬) এশিয়া-প্যাসিফিক রাষ্ট্রসমূহের চেয়ারম্যান প্রভৃতি। তাছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংস্থার বোর্ড মেম্বারও ছিলেন।

৮। তিনি জাতিসংঘের প্রধান ভবনের ভেতরই এক টুকরো বাংলাদেশ “বাংলাদেশ লাউঞ্জ” স্থাপন করতে সক্ষম হন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মাত্র ৫টি দেশের এধরণের লাউঞ্জ আছে।

৯। অধ্যাপক মোমেনের প্রচেষ্টাতেই প্রায় ৩৭ বছর পর জাতিসংঘের সদস্য পদ পাওয়ার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সরকারের জন্যে একটি স্থায়ী মিশন এবং ৩৯ বছর পর রাষ্ট্রদূতের জন্য একটি “স্থায়ী আবাস” ক্রয় করা সম্ভব হয়। এর ফলে প্রদেয় ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে সরকারের প্রায় ৪৫ হাজার ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। তাছাড়া বাড়িও অফিসের মালিক এখন বাংলাদেশ।

১০। তিনি বিএনপি সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া জাতিসংঘ রেডিও’তে বাংলা সম্প্রচার পুনরায় চালু এবং বাংলায় ওয়েব পেইজ চালু করেন।

১১। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন তাকে -Ambassador of Consensus Building এবং তার সহকারী বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ তাকে “আওয়ার লিডার বা আমাদের নেতা ”  হিসেবে সম্বোধন করতেন।

১২। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে আখ্যায়িত করেন “জনতার রাষ্ট্রদূত”। জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তিনি প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতেন।

১৩। নিউইয়র্কের বাংলা সাপ্তাহিক ‘বাঙালী’ তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে- ‘রাষ্ট্রদূত মোমেনের লিগেসি অন্য কেউ পূরণ করতে পারবে কিনা সন্দেহ’।

১৪। রাষ্ট্রদূত  থাকাবস্থায় ড. মোমেন পীস কিপিং-এ  সর্বোচ্চ সংখ্যক সৈন্য, পুলিশ ও মহিলা পুলিশ নিয়োগে সক্ষম হন। এমনকি নৌবাহিনীর লোকদেরও নিয়োগের সুযোগ করে দেন।

১৫। রাষ্ট্রদূত থাকাবস্থায় পীস কিপিং-এ সর্বোচ্চ পরিমান ইকোপমেন্ট ভাড়া দিয়ে দেশের জন্যে অনেক অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অজর্ন করেন।

১৬। তিনি পীস কিপারদের মৃত্যুর কমপেনসেশন ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৭। প্রায় বিশ বছর স্থগিত থাকার পর পীস কিপিং-এ অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের বেতন ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি প্রায় ৩৭% বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

১৮। তাঁর প্রচেষ্টার ফলে ঐ সময়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী সম্পদ পাঠায়।

১৯। তিনিই সর্বপ্রথম জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে বিজয় দিবস, জাতীয় শোক, একুশে শহীদ দিবস, নববর্ষ দিবসসহ সকল জাতীয় দিবসসমূহ পালনের রেওয়াজ চালু করেন। তার পূর্বে এগুলো কখনো বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পালিত হয়নি।

২০। বিদেশী নাগরিক যারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তা দেন তাদের সম্মাননা দানের জন্যে তাঁর প্রস্তাবটি সরকার গ্রহণ করে অনেককে সম্মাননা দিয়ে প্রথমতঃ বিদেশী বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দ্বিতীয়তঃ বিদেশে সরকারের বহু একনিষ্ঠ সমর্থক সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। ইতিপূর্বে তিনি ১৯৯৬ সালে  মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীকে দিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিউ ইংল্যান্ডের (বোস্টনের) ১৫ জন বিদেশী যারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলেন তাদের সম্মাননা প্রদান করেন। চলবে…

লেখকঃ কায়েস চৌধুরী
কান্টি ডিরেক্টর, কিউভিস টেকনোলজি, ইউকে

ফেসবুক মন্তব্য
xxx