ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-৩)

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
(পর্ব-৩)

অধ্যাপক মোমেন যখন ফ্রেমিংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ‘ইকোনমিকস ও বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের চেয়ারপার্সন’ ছিলেন তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে প্রথমতঃ সৌদী আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ দিতে সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তীতে তাকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে ২০০৯ সালে নিয়োজিত করেন। তিনি দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময় অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৫ সালের ২৭ শে নভেম্বরে সিলেটে ফিরে আসলে সিলেটবাসী তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইর্য়কে ঈদ উৎসবে উন্মুক্ত সভায় ঘোষণা দেন যে ‘আমি মোমেন সাহেবকে গুরুদায়িত্ব দেয়ার জন্যে দেশে নিয়ে যাচ্ছি’৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ২০০৯ সালে গুরুদায়িত্ব দিয়ে জাতিসংযে নিয়োজিত করলে স্বীয় মেধা, কর্মদক্ষতা, কুটনৈতিক বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে স্বীয় পদকে তিনি অলংকৃত করার পাশাপাশি বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্বল করেছেন। তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই  সফলতা অর্জন করেছেন।

দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশের জন্যে অনেকগুলো দূর্লভ এ্যাওয়ার্ড বা সন্মান নিয়ে আসেন। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা, অক্লান্ত পরিশ্রম, সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং ধীশক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার গোটা বিশ্ববাসীর কাছে আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়।

তার অক্লান্ত পরিশ্রম, কর্মপরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাফল্যের কারণেই বাংলাদেশ সে সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে নেতৃস্থানীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,

১। তিনি জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অবস্থানে নিয়ে যান।

২। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব তিন তিনবার পালন করেন। মরহুম স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর বালাদেশে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এ দায়িত্ব পালন করার সম্মান অজর্ন করেন।

৩। তিনি বিশ্ব ফোরামে বাংলাদেশকে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেন।

৪। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্ৰ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রপথিক।

৫। দূর্যোগ মোকাবেলায় তিনি বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বে ‘অনন্য উদাহরণরূপে’ প্রতিষ্ঠা করেন।

৬। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ছয় বছরে বাংলাদেশ যতগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে তার সবকটিতে (প্রায় ৫২টি) জয়লাভ করে। তার  মেয়াদকালে বাংলাদেশ কোন নির্বাচনে কখনো পরাজিত হয়নি।

লেখকঃ কায়েস চৌধুরী
কান্টি ডিরেক্টর, কিউভিস টেকনোলজি, ইউকে

ফেসবুক মন্তব্য
xxx