ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র (পর্ব-২)

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

(পর্ব-২)

পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে মহিলা ও শিশু পাচার বন্ধ ও তাদের অমানবিকভাবে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার না করার জন্যে বিশেষ করে উটের জকি হিসেবে ছোট শিশুদের ব্যবহার বন্ধের জন্যে তিনি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন শুরু করলে মার্কিন সরকারের চাপে তা বন্ধ হয় এবং তিনি অনেক মহিলা ও শিশুদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনেন। নারী ও শিশু পাচার বন্ধে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সহায়তা করেন। তাছাড়া যৌনদাস প্রথা এবং অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়েদের যৌন বিকলাঙ্গ এবং শিশু শ্রমিক বন্ধের জন্যে তিনি মার্কিন কংগ্রেসে অনেকগুলো শোনানীতে জোরালো বক্তব্য প্রদান করলে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তাকে সাক্ষাত দেন এবং দুটো আইনে সই করেন। ড. মোমেনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে শিশু শ্রমিকের ‘মানবীয়’ সুরাহা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা তাকে এজন্যে বহুবিধ সম্মানে ভূষিত করে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারে এলে তার অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে নারী ও শিশু পাচার বন্ধে তার দুটো প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।

১৯৮৭ সালে বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকা সফর করলে তার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ গঠিত হলে ড. মোমেন এবং ড. এনায়েত রহিমকে যুগ্ম-আহবায়ক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে জয়লাভ করলে ড. মোমেন তাকে বোস্টন ইউনিভার্সিটি পক্ষ থেকে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এটাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ডক্টরেট সম্মাননা ডিগ্রী।

২০০১ সালে সিলেটের কৃতিসন্তান স্পীকার হুমায়ূন রশীদ চৌধরী ইন্তেকাল করলে শেখ হাসিনা ডা. মোমেনকে ফোন করেন। তখন তিনি তার বড় ভাই আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে সিলেটের এক আসনে মনোনয়ন দিতে শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন। কারণ হিসেবে তিনি দেখান আবুল মাল আব্দুল মুহিত একজন কাজের মানুষ, তার মেধা অতুলনীয়। দেশ উন্নয়নের জন্যে তার ভাবনা ও পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী, তিনি একজন সৎ ও উত্তম ব্যক্তিত্ব। পরে শেখ হাসিনা ২০০১ সালে তিনি মুহিত সাহেবকে নিয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হলে ড. মোমেন ‘কারচুপির নির্বাচন-২০০১’ প্রবন্ধ আকারে তিন পর্বে পত্রিকায় প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আবুল মাল আব্দুল মুহিতসহ আরো অনেকের প্রবন্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগের সিআরআই (CRI) এর পক্ষ থেকে ‘কারচুপির নির্বাচন-২০০১’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামাত সরকারের নির্যাতন, লুটপাট, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, ক্রসফায়ার, জমি দখল, বাড়ী দখল, হল দখল, বাস স্টেশন ও অফিস দখল এবং মিথ্যাচার শুরু হলে পরবর্তিতে ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন সরকারের দ্বারা গণতন্ত্র বিঘ্নিত হতে থাকলে ড. মোমেনের লেখনীও আরো জোরদার হয়। ২০০৩ সালে তার বস্তুনিষ্ঠ লেখনী ও প্রচেষ্টার ফলে খালেদা জিয়ায় পছন্দের মনোনীত ‘ওআইসি সেক্টেটারী জেনারেল’ পদপ্রার্থী যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার প্রচেষ্টা সফল হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভিনন্দন জানান। (চলবে)

লেখকঃ কায়েস চৌধুরী
কান্ট্রি ডিরেক্টর, কিউভিস টেকনোলজি, ইউকে

ফেসবুক মন্তব্য
xxx