সিলেটে আওয়ামীলীগ-বিএনপি একমঞ্চে শান্তির শপথ নিলেন

সিলনিউজ২৪.কমঃ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে আগত প্রায় ২৩০ জন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সিলেটে একই মঞ্চে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস নির্বাচনের শপথ গ্রহণ করেছেন।

সোমবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএসএআইডি এবং ইউকেএইড এর যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের Strengthening Political Landscape (SPL) প্রকল্পের আওতায় “শান্তিতে বিজয়” ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহনশীল রাজনীতির চর্চা বৃদ্ধিতে, “শান্তিতে বিজয়” ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সাধারণ জনগণকে সচেতন করবে ও তাঁদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ তৈরি করবে।

আঞ্চলিক এই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা (সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সিলেট) থেকে আগত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’এর নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে একসাথে দাঁড়িয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে অঙ্গীকার করেছেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদেরকে মানুষের কাছে যেতে হবে। বিএনপি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাখায়াত হাসান জীবন বলেন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্বশর্ত শান্তি। অতীতের বিষয়কে বাদ দিয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। একে অপরের সাথে কথা বলতে হবে। আলোচনা করতে হবে। তবেই শান্তি আসবে।’ সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে শান্তি আসবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ভোটে সরকার আনতে হবে, তবেই শান্তি আসবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, মানুষের ওপর আস্থা রেখে বিরোধী দল যদি নির্বাচনে আসে তবে দেশে শান্তি বিরাজ করবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আলী আহমদ বলেন সিলেটে আগে যে সহনশীল রাজনীতির পরিবেশ ছিলো তা বর্তমানে যেনো বাঁধার সম্মুখীন। সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তা আবার নিশ্চিত করতে হবে।’

সাধারণ সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘রাজনীতি করতে হবে জনগণের জন্য, জনগণের মধ্যে এই আস্থার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।’

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, যখন দেশে গণতন্ত্র নিশ্চিত হয়, দেশে শান্তি বিরাজ করে। শান্তিতে বিজয় পেতে হলে মৌলিক অধিকার, মতামতের স্বাধীনতা থাকতে হবে। এই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা অধিকারের কথা বলছি। শান্তিতে বিজয় অর্জন করতে হলে অধিকার ও কর্তব্য এ দুটোর সম্মেলন ঘটাতে হবে। নির্বাচনে আমরা যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রসঙ্গে যেন কোন রাজনৈতিক বক্তব্য না দেই। তিনি বলেন, নির্বাচনের স্থায়ী ধারাকে বিদ্যমান রেখে নির্বাচন করে দেশে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।

সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে শান্তির সাথে স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি জড়িত। এটি নিশ্চিত হলে নির্বাচন শান্তিপূণ হবে।

এছাড়া সিলেটে শান্তিতে বিজয় ক্যাম্পেইনের এই আঞ্চলিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আজমল বখত চৌধুরী সাদেক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপি, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অপূর্ব কান্তি ধর, এ টি এম হাসান জেবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ; এড. এনামুল হক সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি। এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিলেট সুশীল সমাজের সদস্যবৃন্দ, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজনৈতিক ফেলো, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ।

`শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হল দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনীতির পক্ষে একাত্ম হওয়ার মঞ্চ তৈরি করা। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করার জন্য সারাদেশে ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আয়োজিত হচ্ছে শান্তি – শোভাযাত্রা, নির্বাচনী প্রার্থীদের সাথে মুখোমুখি সংলাপ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে গোলটেবিল বৈঠক ও কর্মশালা। সেই সাথে দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে শান্তিতে বিজয় কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানগুলোতে ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক এবং স্থানীয় নাগরিকবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার স্বপক্ষে একসাথে কাজ করার জন্য তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছেন।

সূত্রঃ  দৈনিক সিলেট

ফেসবুক মন্তব্য
xxx