ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে গুজব

 সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির আশঙ্কার গুজব ছড়িয়ে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে কিছু এনজিও’র বিরুদ্ধে। পুনর্বাসন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ফলে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা ভাসানচরে যেতে চাচ্ছে না। তবে প্রশাসন বলছে, কোনো ষড়যন্ত্রই ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া থামাতে পারবে না।

কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেয়াদের মধ্যে থেকে লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে এরইমধ্যে বেড়িবাঁধ, বাসস্থান, সাইক্লোন শেল্টার ও বিদ্যুতায়নসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা। 

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির আশঙ্কাসহ নানা গুজব ছড়িয়ে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভাসানচরে যেতে রাজি হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের অনেকে। তারা জানায়, ‘ভাসানচরে আমাদের যেখানে নেয়া হবে তার চারপাশেই পানি, সেখানে বন্যার ফলে প্রায়ই মানুষ মারা যায়।’

কিছু এনজিওর পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ ভাসানচরে পুনর্বাসন নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। 

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী জানান, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সাথে অনেক এনজিও জড়িত রয়েছে, তারা তাদেরকে যেভাবে বুঝায় তারা সেভাবেই বুঝে। গুজব ঠেকাতে হলে যে এনজিওগুলো এসব ছড়াচ্ছে প্রশাসন আরো কঠোর হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরকে বসবাস উপযোগী করে তুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘সরকার এবং সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে বসবাস উপযোগী সব ধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে। কিন্তু ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে আমাদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ এসেছে। আমরা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছি, আমাদের মনে হয় না এসব গুজব রোহিঙ্গা স্থানান্তরে তেমন কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’

গত বছরের ২৫শে আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো হয়। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। আর তার আগে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে তিন লাখ রোহিঙ্গা।

সব মিলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে, জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, রাখাইন এখনও রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx