নির্বাচন আয়োজনে সরকার সবধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে : অর্থমন্ত্রী

সিলনিউজ২৪.কমঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে নির্বাচন জালিয়াতির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ অনেক দেন দরবার করে এটা নিশ্চিত করেছে।

তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ( রোববার) রাতে নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুর রহমান বাদশাহ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে না এলে বিএনপি নামে কোন দল এদেশে থাকবে না। আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এ নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে। শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। তাই, এখন থেকে নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী মনোভাব রেখে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।

সিলেট-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী দুইজন- উল্লেখ করে আবুল মাল মুহিত বলেন, প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই আসনে ২জন জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। একজন আমার ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন, আরেকজন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। দলের পার্লামেন্টারী বোর্ড সেটা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সময় কম। এর মধ্যে ঘর গোছাতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী করে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী কাজ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, জোটবদ্ধ নির্বাচনে শেখ হাসিনা সকল সময় আগ্রহী। তিনি দেশ পরিচালনায় সবাইকে সাথে রাখতে চান।

বিগত ১০ বছরে দুই মেয়াদে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন কোন অভাব নেই। অর্থনৈতিক জাগরণ ও উত্থান সর্বত্রে লক্ষ্যণীয়। গ্রাম ও শহরের মধ্যে এখন কোন তফাৎ নেই।

সরকারের মতলব ভাল ছিলো বলে এতসব উন্নয়ন হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে দেশের অর্থনৈতিক বাজেট ৭গুণ বেড়েছে। দেশ থেকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার বিদায় হয়ে গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর মাধ্যমে মানুষের দ্বোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্যানিটেশনে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রেষ্ট হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ২২ শতাংশ গরিব লোক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে গবির মানুষ তেমন নেই, তবে, অস্বচ্ছল লোক আছে। মাত্র ৯শতাংশ অতি গরিব লোক দেশে রয়েছে। আবার ক্ষমতায় এলে এর হার ৫ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
জনসেবায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে সেটার জন্য আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ গর্বের সঙ্গে জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারে বলে দাবি করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাবেক প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশফাক আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মখলিছুর রহমান, মাসুম আহমদ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ও খাদিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আফসর আহমদ, প্রচার সম্পাদক মকসুদ আহমদ মকসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, আমিন উদ্দিন আহমদ, জালালাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মছদ্দর আলী, হাটখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশাহিদ আলী, খাদিমনগর ইউনিয়ণ আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তেরা মিয়া, কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সভাপতি আজম আলী, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিলাল, টুকের বাজার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত, মোগলগাঁও ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক মিয়া প্রমুখ। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুহিত আলম শফিক। সভায় উপজেলার ৮ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সর্বস্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

ফেসবুক মন্তব্য
xxx