আর্কটিকের তেল-গ্যাসের রহস্য উন্মোচন!

সিলনিউজ অনলাইনঃঃ অনাবিষ্কৃত তেল ও গ্যাসসম্পদের সন্ধান এবং সুমেরু অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে আরেকধাপ এগুলো চীন। আর্কটিক অঞ্চলে নবমবারের মতো অভিযান চালালো চীনের জাহাজ ‘জুলং’, ইংরেজীতে যাকে বলা হয় স্নো ড্রাগন। ৬৯ দিনের এ অভিযান উন্মোচিত করেছে বরফঢাকা অঞ্চলটির নানা রহস্য। 

এ বছরের শুরুতে মেরুঅঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘পোলার সিল্ক রোড’ নিয়ে কাজ শুরুর ঘোষণা দেয় চীন। 

সে লক্ষ্যে বরফঢাকা সুমেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক অভিযান শুরু করে দেশটি। এবারের অভিযানে ‘জুলং’ পাড়ি দিয়েছে ১২ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইল যার মধ্যে, প্রায় ৪ হাজার নটিক্যাল মাইল ছিল বরফের নিচে। অভিযানে নিজস্ব অনুসন্ধানী যন্ত্র ব্যবহার করেছে চীন, যার মধ্যে বেশিরভাগই প্রথমবারের মতো এমন বরফঢাকা পরিবেশে ব্যবহার করা হলো। 

নবম আর্কটিক অভিযাত্রী দলপ্রধান জু জিয়ানগেং বলেন, আমরা সুমেরু অঞ্চলে সফলভাবে গ্লাইডার ছেড়েছি এবং ফিরিয়েও এনেছি। বেরিং সাগরে গ্লাইডারটি বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং আমাদের পুরো গবেষণার পরিধি আরো বাড়িয়েছে।

অঞ্চলটিতে স্থাপন করা হয়েছে ‘জনশূণ্য বরফ ঘাঁটি’, যার মাধ্যমে সেখানকার সারা বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। জানা যাবে, ওই অঞ্চলের তাপমাত্রার বৃদ্ধি বা সমুদ্রে বরফের উচ্চতা কমার তথ্য।

মানুষের উপস্থিতি সেখানে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা বোঝা এবারের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। 

বিজ্ঞানী জাং ডংকি বলেন, মধ্য ও নিম্ন অক্ষাংশে মানুষের যে কোন কাজকর্ম বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা দেখেছি, ব্ল্যাক কার্বন, কার্বন মনোক্সাইড ও ওজোন, জাপান সাগরের মতো নিম্ন অক্ষাংশে বেশি ঘণীভূত হয়, কিন্তু আর্কটিকে সে তুলনায় অনেক কম। এর অর্থ সেখানে মানুষের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।

ধারণা করা হয়, বিশ্বের মোট অনাবিষ্কৃত তেলসম্পদের ১৩ শতাংশ এবং অনাবিষ্কৃত গ্যাসের ৩০ শতাংশ সুমেরু অঞ্চলে মজুদ রয়েছে।

/এমবি/

ফেসবুক মন্তব্য
xxx