পরকীয়া অপরাধ নয়, ঐতিহাসিক রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী এক রায়ে জানিয়ে দিলেন, পরকীয়া আর ফৌজদারি অপরাধ নয়। পরকীয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধও নয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তাঁর রায়ে জানান, ভারতের মাটিতে ১৫৮ বছরের পুরোনো এ আইনের কোনো দরকার নেই। এটা অসাংবিধানিক। এই আইন স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। নারীদের স্বাতন্ত্র্য খর্ব করে।

দীপক মিশ্র বলেন, স্ত্রী কখনো স্বামীর সম্পত্তি হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে সেটা কোনো অপরাধ নয়।

ভারতের মাটিতে প্রায় ১৫৮ বছরের পুরোনো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারাকে অসাংবিধানিক বলে আজ এ রায় দিলেন সর্বোচ্চ আদালত। এত দিন ধরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারামতে পরকীয়া ছিল অপরাধ। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেন, কোনো নারী তাঁর স্বামীর সম্পত্তি নয়। সভ্য সমাজে কোনো আইন ব্যক্তির মর্যাদা খর্ব করতে পারে না।

পুরোনো আইনকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। এর আগে আদালতে মামলাকারীরা দাবি করেন, এই আইনে নারীদের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার নিরিখে ওই আইন বাতিল করা হোক। যদিও সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, পরকীয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হোক, তাতে বিবাহের পবিত্রতা রক্ষা পাবে। পরকীয়ার জন্য নারীর পরিবার ও সন্তানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। কিন্তু এই ধারার অবলুপ্তি চেয়ে মামলাকারীরা জানায়, ভারতের ঔপনিবেশিক শাসনকালে পুরুষরা নারীদের সম্পত্তি হিসেবে মনে করত। তাই এই আইন অবিলম্বে বাতিল করা হোক।

ভারতে ১৮৬০ সালে তৈরি হওয়া ৪৯৭ ধারায় পরকীয়া ছিল অপরাধ। যে পুরুষ বা নারী এ ধরনের সম্পর্কে যুক্ত থাকবেন বলে আদালতে প্রমাণিত হবে, তার কারাভোগ এবং জরিমানা ছিল কার্যত অবশ্যম্ভাবী।

বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির  সাংবিধানিক বেঞ্চ সাফ জানান, কোনো নারী তাঁর স্বামীর সম্পত্তি নয়। কোনো আইন ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। বিশেষত এই আইন নারীদের অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে। ইংরেজ আমলে তৈরি হওয়া এই আইনের সাংবিধানিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দেয়।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, ‘পরকীয়া শব্দটিকে আগে যেভাবে দেখা হতো, এখন আমরা নিশ্চয়ই সেভাবে দেখি না। অন্যদিকে, পরিবার-সমাজ এগুলোকেও রক্ষা করা প্রয়োজন। তাই দেড়শ বছরের বেশি পুরোনো এই আইনের ধারাটার বদল ঘটানো প্রয়োজন সবদিকে সামঞ্জস্য রেখে। এদিন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের মধ্যে কিছু বিচারপতি যদিও মনে করেন, ৪৯৭ ধারা থাকা প্রয়োজন। তবে অন্য বিচারপতিরা  জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আইনের অবলুপ্তি ঘটেছে। তাই ভারতের বর্তমান সমাজেও এই আইন থাকার কোনো দরকার নেই।’

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র জানান, কোনো আইন যা ব্যক্তিগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে, তা রাখার কোনো অর্থ নেই। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। নারীদের কোনোভাবেই অসম্মান করা যাবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সূত্রঃ এনটিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx