নিউজটি পড়া হয়েছে 193

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ : একজন হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা হউক তুরুপের তাস

বাংলাদেশের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র দুই মাস পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর হিসেব-নিকেশ। কোন রাজনৈতিক দল কার সাথে জোটবদ্ধ হবে, চলছে আসন নিয়ে দর কষাকষি। ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর দাম যেন খুব চওড়া। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের কমিটি ছাড়াই ঐ দলগুলোর দাম আকাশচুম্বী। এমন দল আছে যাদের ৬৪ জেলায় ৬৪ টি কমিটি আছে কিনা সন্দেহজনক। তারাই আবার জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। যাদের জনগণের সাথে কোন সম্পর্ক নেই তারা জাতীয় নেতৃত্বে আসতে চায়। ইতিমধ্যে তারা যুক্তফ্রন্ট নামের জাতীয় ঐক্য তৈরি করেছেন। যেখানে বিএনপির মত বড় রাজনৈতিক দল একাত্মতা ঘোষণা করেছে। খুব ভালো, এটা কোন সমস্যা না। কিন্তুু বিএনপি মনে হয় বুঝতে পারেনি ঐ কমিটিবিহীন ও জনগণবিহীন টকশোর দুর্দান্ত পারফরমেন্সকারী নেতারা তাদের কাঁধে বন্দুক রেখে উপরে উঠতে চায়। তবে এটা সত্য নির্বাচনের আগে ছোট ছোট দলগুলোই ফণা তুলে দাঁড়ায়। জোট হবে। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হবে। বড় দলগুলো ছোট দল থেকে সুবিধা আর ছোট দলগুলো বড় দল থেকে সুবিধা নিবে এটাই স্বাভাবিক। সবাই চায় ক্ষমতায় যেতে। যে যত বেশি বুদ্ধি প্রয়োগ করবে সে ক্ষমতার নেতৃত্ব দিবে। এটাই চিরন্তন সত্য। রাজনীতি মানেই দরকষাকষি আর বুদ্ধির খেলা । একাদশ নির্বাচনের গতি প্রকৃতি বুঝা বড় দায়। কে কার সাথে যে বেঈমাণি করবে! ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু আদর্শের একজন অনুসারী সেই পথে হেঁটেছেন। আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগ থেকে দল বদলের হিসেবটা বেশি হতে পারে। অতি লোভের আশায় অথবা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নীরবে এই কাজটা করতে পারে অনেকে। তবে এই অবস্থা থেকে তুলে আনার শেষ রক্ষাকবচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখনো কিছু বুঝা যাচ্ছে না রাজনীতির হালচাল। সময় যত ঘনিয়ে আসছে আশার সাথে অশুভ শক্তির ছায়াও হাতছানি দিচ্ছে। তবে ভোটের ও রাজনৈতিক দলগুলোর হিসেব-নিকেশ বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যের নেতারা শুধু করছেন তা নয়, আওয়ামী লীগও করছেন। আর জাতীয় পার্টির হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদতো নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। সব মজা উনিই নিচ্ছেন। এমন অবস্থা ছাড়লেও আছি আর না ছাড়লেও আছি। উনাকে সবাই অনেক ওল্টা পাল্টা কথা বলে কিন্তু উনার মাথায় অনেক বুদ্ধি। পাগলামি করলেও সত্যিই জিনিয়াস। একজন ক্ষেপাটে রাজনৈতিক ব্যক্তি। চমকের অপেক্ষায় ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যাই হউক, মূল কথায় আসা যাক। যে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দৃষ্টি আর্কষণ করছি। সবদলই যেহেতু জোটের হিসেব-নিকেশ করছে তাহলে আওয়ামী লীগেরও করা উচিত। ইতিমধ্যে সেই জোট আছে। তবে একটু ভিন্ন ও নতুন ধারায় ভাবা উচিত। কারন আগামী সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনতে নতুন পরিকল্পনার কোন বিকল্প নেই। একটা রাজনৈতিক দলের জন্য ১০ বছর অনেক সময়। দেশের উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীল সরকার অবশ্যই দরকার। তবে যতটুকু উন্নয়ন গত ১০ বছরে হয়েছে সম্পূর্ণ বাহবা আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিবো। তার বুদ্ধি দীপ্ত প্রজ্ঞার কারনেই আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরা অনেক সুবিধা নিয়েছেন। অনেক এমপি ও মন্ত্রীরা অনেক সুযোগ থাকা স্বত্বেও জনগণের জন্য কিছুই করতে পারিনি। আবার অনেক এমপি ও মন্ত্রীরা প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। জনগণের সাথে সখ্যতা ছিল। এলাকার জন্য কাজ করেছেন। তারাই এবারও হয়তো মনোনয়নে এগিয়ে থাকবেন। জনগণ তাদেরকেই নির্বাচন করবেন। আর যারা কিছুই করেনি তাদের কপাল পুঁড়া হবে। জনগণবিহীন নেতা আমরাও চাই না। তাদের কিছু কর্মকান্ডকে সামাল দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক বেগ পেতে হবে। তবে তিনি তার যোগ্য নেতৃত্বে সেটাকে সামলে নিবেন। এই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা কাজ করতে পারেন। একজন হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালাকে ডাকতে পারেন আপনার প্রচারণায়। আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা গত ১০ বছরে আপনার এত উন্নয়নের পরেও যা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারিনি ও জনগণকে মোটিভেট করতে পারিনি। তাদের জন্য একটি উদাহরণ হবে। যার কথা বলছি সে নিজেও চায় দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন। আপনার মত বেকারত্ব মোচনে অনেক ভূমিকা রাখতে চায়। আপনার মতো উন্নত দেশের স্বপ দেখে উন্নয়নশীল দেশের নয়। আপনার একজন সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবে। আপনি তো অনেক ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদেরকে রাজনীতিতে এনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আপনি ব্যবসায়ী আনিসুল হককে বানিয়েছিলেন জনগণের প্রিয় নেতা। সাম্প্রতিক সময়ে আপনি ব্যবসায়ী ও সাবেক ফুটবলাার সালাম মুর্শেদিকে বানিয়েছেন জনগণের নেতা। এ ধরনের শত শত উদাহরণ আছে। সুতরাং আপনার পক্ষে সব কিছুই করা সম্ভব। নির্বাচনের আগে রাজনীতির হালে আপনি আরেকটা চমক দিতে পারেন। একজনকে জনগণের মোটিভেটর হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। আমি যার কথা বলছি আপনি উনাকে ভাল করে জানেন ও চিনেন। শেষ সময়ে আপনার তুরুপের তাস হতে পারে। এই ব্যক্তির সাথে আছে ৪৫ লক্ষ মানুষের কানেকশন। যা আপনার দলের অনেক নেতার সাথেই নেই। উনাকে কাজে লাগান। গত ৭বছর ধরে জেলের ভিতর উনি পঁচে মরছেন । এই মেধাবী মানুষটাকে আপনি বের করে নিয়ে আসেন। অতীতকে ভুলে আগামীর স্বার্থে উনাকে সুযোগ দেন। সময় খুব অল্প। যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। আমার মনে হয় উনাকে আপনি নিয়ে আসেন তার বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও মোটিভেশনের কাছে আপনি ছাড়া আর কেউ দ্বারে কাছেও আসতে পারবে না। আপনি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন রাজনীতির প্রাণ। জেল থেকে উনাকে বের করে নিয়ে আসেন দেখবেন জনগণের মাঝে কি পরিমাণ উৎসাহ উদ্দিপনা আসবে। এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান। আর আমি যার কথা বলছি, তিনি আর কেউ নন ডেসটিনি গ্রুপের এমডি জনাব মো. রফিকুল আমীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনাকে সুযোগ দেন। আপনার সৃজনশীল চিন্তা-চেতনার পাশে উনি সহযোগীতা করতে পারবেন। রাজনীতির মেরুকরণে আপনার মাধ্যমেই ঘটুক আরেকটি চমক। জাতীয় ঐক্যের ঘনঘটায় উনাকে বানান তুরুপের তাস। মোটিভেশন কি জিনিস মানুষ তা বুঝতে পারবে। আর রফিকুল আমীনের জন্যও হবে এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। আপনার বুদ্ধি ও সহযোগীতা পেলে উনি বিপ্লব ঘটাতে পারবে। যা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না । আপনার সু-নজরে ৪৫ লক্ষ পরিবারের প্রতিষ্ঠানটিও বাঁচবে আর রাজনীতির ভোটের হিসেবে তারা অবদান রাখতে পারে। সবাই রফিকুল আমীনকে চায় ও সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে চায়। রাজনীতির দাবার খেলায় এটা হউক একটি দাবার চাল। রফিকুল আমীনকে মুক্তি দিয়ে আপনি বাড়ান শক্তি। আর বাড়ুক আপনার প্রতি জনগণের ভক্তি।

“জয় হউক আপনার সু-নজরের, জয় হউক হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার “

অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক: কলামিস্ট ও সাংবাদিক

২৬/০৯/২০১৮

ফেসবুক মন্তব্য
xxx