বাংলাদেশের প্রেরণা তিন বছর আগের হোয়াইটওয়াশ

সিলনিউজ ক্রিকেট ডেস্কঃ  এশিয়া কাপে সেই পুরনো প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তিন বছর আগের হোয়াইটওয়াশ হতে পারে বাংলাদেশের প্রেরণা। ২০১৫ সালে সেই সিরিজের পর বুধবারই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রথম মুখোমুখি দুই দল।

১৯৯৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে ২০১৫ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। কেবল একটি জয় নয়। ঘরের মাঠে ওই সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে মাশরাফি-মুশফিকরা। তরুণ সৌম্যর ব্যাটে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিল। বুধবারও এমন একটি ইনিংসই প্রত্যাশা সৌম্যর কাছে। যদি সৌম্য খেলেন তাহলে নিশ্চিত ভাবে সবাই অপেক্ষায় থাকবেন আরও একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের!

দুইদিন আগে সৌম্যকে উড়িয়ে এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বুধবারের ম্যাচে সৌম্যর খেলার সম্ভাবনা বেশ জোড়ালো। সৌম্য পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে থাকলে নিশ্চিতভাবেই ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিলের কথা মনে পড়বে। ওই ম্যাচে ১১০ বলে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় সৌম্য নিজের ১২৭ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছিল। হয়তো আজ সেই প্রেরণা নিয়েই তিনি মাঠে নামবেন। তিনি না থাকলেও পুরো দল তিন বছর আগের এই সিরিজ থেকে প্রেরণা নিতে পারে। ঘরের মাঠে তিনটি সিরিজই ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তানের চেয়ে সেরা ক্রিকেট খেলেছিল বাংলাদেশ।

আবুধাবিতে বুধবার এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে তাই কাউকে এগিয়ে রাখতে হলে পরিসংখ্যানই সামনে আনতে হবে। স্মৃতি হাতড়ালে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানী পেতে পারেন মাশরাফিরা। ২০১৫ সালের মতো আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে তেমন ক্রিকেটই খেলতে হবে লাল-সবজু জার্সীধারীদের।

২০১৫ সালের পর বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও নিজেদের অনেক বদলে ফেলেছে। একসময় র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পেছনে চলে যাওয়া পাকিস্তান নিজেদের দুই ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ দলে খুব বেশি পরিবর্তন না থাকলেও পাকিস্তানের দলটি পুরোটাই বদলে গেছে। তিন বছর আগে খেলা দল থেকে আছেন কেবল অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। বাংলাদেশ দলের সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটার ছাড়াও রুবেল-সৌম্য খেলেছিলেন তিন বছর আগের ম্যাচটাতে।

পুরনো স্মৃতি অবশ্য মনে রাখতে চান না মাশরাফি। ভারতের কাছে টানা দুই ম্যাচ হারের পরও পাকিস্তানকে কোন ভাবেই পিছিয়ে রাখতে চান না, ‘আগের দলটার চেয়ে বর্তমান দলটা অনেক বেশি ভালো। এই দলে হাসান আলীর মতো পেসার আছে, শাদাব খান ভালো বোলিং করছেন। তাদের বোলিং লাইনআপ খুবই ভয়ঙ্কর। ব্যাটিংটা ভালো। তাদের বিপক্ষে পুরনো সুখস্মৃতি কাজে আসবে না। আমাদের মাঠে ভালো খেলতে হবে। মানসিক ভাবে শক্ত থাকতে হবে। তাহলেই কেবল আমাদের পক্ষে ফল আসবে।’

যদিও মাশরাফির চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হলো প্রধান কোচ স্টিভ রোডসকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্নায়ুচাপের ম্যাচে তিন রানের নাটকীয় জয়ে এখন ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর মাশরাফিদের কোচ। তবে পাকিস্তানকে কোন ভাবেই ছোট করছেন না। তার বিশ্বাস ছেলেরা নিজেদের দায়িত্বগুলো পালন করে ভালো একটি ম্যাচ উপহার দেবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এমন কিছুর আশাতেই দিনটি পার করবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx