ছাতক উপজেলার নেওয়া বেগম হত্যার এক বছর, এখনো আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গনিপুর (নতুন পাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল মছব্বিরের স্ত্রী নেওয়া বেগম (৭০) হত্যার এক বছরেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত মুহিবুর। সে একই গ্রামের আখল মিয়ার পুত্র।
ঘটনার সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর (শনিবার) ভোর রাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।ঘটনার মূলহুতা পাশের বাড়ির কুখ্যাত সন্ত্রাসী মুহিবুর এলাকার ডাকাত মুহিবুর নামে পরিচিত। ঘটনার দিন রাত্রে যৌন লালসা চরিতার্থ করতে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়ে লম্পট মুহিবুর বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
জানা যায়, বৃদ্ধার এক নাতনীর সাথে একই গ্রামের আকল মিয়ার পুত্র মুহিবুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ককে শারীরিক সম্পর্কে পরিনত করতে ভোরে নাতনীর শয়ন কক্ষে ঢুকে পড়ে নাতনীকে ধর্ষন করে মুহিবুর। ঘটনাটি বৃদ্ধা নেওয়া বেগম দেখে ফেললে চিৎকার শুরু করে। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে মুহিবুর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বৃদ্ধাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়, পরে তার বাবা ভাই চাচারা এসে বৃদ্ধাকে আবারও মারধর করে।আহত বৃদ্ধাকে প্রথমে কৈতক ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সকাল প্রায় সাড়ে ৮ টায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত বৃদ্ধা স্বামীহীন একজন দরিদ্র মহিলা। তার কোন ছেলে সন্তান নেই। তিনি দুই কন্যার মা। বড় মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। অভিযুক্ত মুহিবুর এখনও গ্রেফতার হয়নি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা যায়। মুহিবুরের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায় পরিবারটি বিচার পায়নি। উল্টো আতংকে বসবাস করছে তারা। এখনো বিভিন্ন রকমের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মুহিবুর ও তার পরিবার।
এদিকে এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় এবং আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে হত্যাকারীকে গ্রেফতার ও হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন।
ফেসবুক মন্তব্য
xxx