সিলেটে শিবিরের হামলায় মুনির, তপন, জুয়েল হত্যাকাণ্ডের সেই দিন আজ।

সিলনিউজঃ আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, ৩০ বছর আগে ১৯৮৮ সালের এই দিনে সিলেটে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে প্রকাশ্যে এসেছিল স্বাধীনতা বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। তাদের সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছিলেন মুনির-ই-কিবরিয়া, তপন জ্যোতি দেব ও এনামুল হক জুয়েল। এই তিন তরুণকে হত্যা করে সিলেটের হত্যার রাজনীতি শুরু করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় ছাত্রশিবির।

দিনটি উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিহতদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও স্মরণ সভা। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) এর উদ্যোগে বিকাল ৩টায় কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যানুসারে, আশির দশকের শেষ দিকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সেই সময়ে এরশাদ সরকারের মদদে ছাত্র শিবির সিলেটের কলেজগুলোতে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর কারণে শিবির সুবিধা করতে পারছিলনা। তখন সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশক্তি দিয়েও সে নির্বাচনে ১৫টি পদের একটিতেও জয়ী হতে পারেনি শিবির। এরপর তারা (শিবির) সিলেটে বেপরোয়া হয়ে ওঠতে থাকে। বিভিন্ন কলেজে সশস্ত্র মহড়া দিতে শুরু করে এবং তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিতে থাকে। ১৯৮৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাস দখল করে নেয় শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে এমসি কলেজ গিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিতে থাকে।একপর্যায়ে আলিয়া মাদরাসা এলাকা থেকে টেম্পোযোগে শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় জড়ো হয়ে জাসদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। শিবির ক্যাডাররা মুনির-ই-কিবরিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে যায়। তপন জ্যোতি দেবকে পাথর দিয়ে শরীর থেঁতলে দেয়। পরে এলাকাবাসী তাদের দুজনকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মৃত্যু হয়। ওইদিন আম্বরখানায় শিবিরের একটি মিছিল থেকে স্কুলছাত্র এনামুল হক জুয়েলকে ধাওয়া দেয়া হয়। ধাওয়া খেয়ে একটি মার্কেটের ছাদে উঠেন জুয়েল। কিন্তু শিবিরের ক্যাডাররা তারপরও তাকে ধাওয়া করতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে মার্কেটের এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে যাওয়ার সময় নিচে পড়ে মারা যান জুয়েল। স্কুলছাত্র জুয়েল শিবিরের রাজনৈতিক প্রচারণার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx