সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় প্রবাসীর বাড়িতে মহিলা খুন।

সিলনিউজঃ সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হরগৌরী গ্রামে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতিরকালে এক মহিলা খুন হয়েছেন। নিহত মহিলা ঐ বাড়িতে তিনবছর থেকে তত্ত্বাবধায়ক হেসেবে বসবাস করছেন।

গতকাল (রোববার) সন্ধ্যার দিকে এ খুন ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্রামের আবু বকর ও হেলাল আহমদ দুই ভাই পরিবার নিয়ে আমেরিকা থাকেন। বাড়িটি গ্রামের একপাশে হওয়ায় অন্যান্য বাড়ি থেকে এ বাড়ির দূরত্ব রয়েছে। নির্জন এ বাড়িতে আছিয়া বেগম তার দুই সন্তান সুমন আহমদ(১২) ও ইমন আহমদ(১৫) নিয়ে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে ইমন আহমদ(১৫) সিলেট নগরীতে একটি দোকানে কাজ করে। নিহতের ছেলে সুমন জানিয়েছেন, তার ভাই নগরীতে থাকায় সে (সুমন) এবং তার মা বাড়িতে ছিলেন। গতকাল সন্ধার পর ৪/৫ জন লোক তাদের ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রবেশ করেই ঘরের এক কক্ষে নিয়ে সুমনের হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এবং অপর কক্ষে তার মাকে বেঁধে ফেলে। তারা তার মাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করতে সে শুনেছে। এসময় তার মার শব্দও শুনেছে। অনেকক্ষণ পর কোনো সাড়া শব্দ না পেলে সুমন হাত ও পায়ের বাঁধ ছুটিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে কোনো ভাবে বের হতে সক্ষম হয়। এরপর আশপাশের মানুষদের কাছে গিয়ে কান্না করে ঘটনা বলতে থাকে। পরে প্রতিবেশিরা এসে দেখেন ঘরের একটি কক্ষে খাটের উপরে আছিয়া বেগমের নিথর দেহ।

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আছিয়া বেগমের মুখে বালিশ ও কাঁথা দিয়ে চাপা দেয়া। হাত বাঁধা এবং পা কাপড় দিয়ে খাটের খুঁটির সাথে বাঁধা। ঘরের সকল আসবাব পত্র তছনছ করা। সুমন জানায়- ঘরে ৪/৫ হাজার টাকা ছিলো। টাকাসহ মুল্যবান জিনিসপত্র ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

মোগলাবাজর থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আজবার আলী, মোগলাবাজার থানার এসি সুদীপ দাশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া, রাতে পিবিআই-এর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন। রাত ১২টার দিকে পুলিশ আছিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

গ্রামবাসি জানান- নিহত আছিয়া বেগম প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল গ্রামের একজনকে বিয়ে করেছিলেন। দুটি সন্তান রেখে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম গ্রামের মাখন মিয়াকে বিয়ে করেন। মাখন বর্তমানে ওমান প্রবাসী। স্বামীর সাথে তার সবসময় যোগাযোগ রয়েছে।

সূত্রঃ দৈনিকসিলেট

ফেসবুক মন্তব্য
xxx