নবীগঞ্জে খুনের মামলার আপোষ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বাক্ষীর পরিবারকে গৃহবন্দী, বাড়ীতে হামলা, লুটপাট।

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর মধু মেম্বার হত্যার বিচারাধীন মামলা আপোষ মিমাংসায় সম্মতি না দেওয়ায় প্রভাবশালীম হলের প্রত্যক্ষ মদদে এক গৃহবধুর উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুস্তুমপুর গ্রামে। এ ব্যাপারে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত আনিত অভিযোগ এফআইআর গণ্যে মামলা রুজু করে তদন্ত করার জন্যে ফেীজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারার অধীনে অফিসার ইনচার্জ নবীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে মামলা রুজু সংক্রান্তে আদালতকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাসহ গ্রাম্য মাতব্বরদের রোষানলে পড়ে বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় থাকা ওই পরিবারটি নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল সকালে র‌্যাব-৯ এর বরবারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে নবীগঞ্জের রুস্তুমপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর মধু মেম্বার হত্যা মামলা আপোষ মিমাংসায় সম্মতি না দেওয়ায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে ঘাতকচক্র দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে স্বাক্ষী হত্যা মামলার প্রধান স্বাক্ষী আব্দুল কালাম ও তার স্ত্রী রেলী বেগমকে পথরোধ করে ধাওয়া করে। এ সময় আব্দুল কালাম পালিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেন। তিনি আত্মরক্ষা করলেও প্রভাবশালী লাটিয়াল বাহিনীর আক্রমন থেকে রক্ষা পায়নি তার স্ত্রী রেলী বেগম। আব্দুল কালামের স্ত্রী রেলী বেগমকে জাহির উল্লাহ, সজলু মিয়া, তাজুদ মিয়া, এমরান মিয়া, আলাল মিয়া, হুসেন আলী, সোহান মিয়া, আজিদ মিয়া, সুহেল মিয়া, বজলু মিয়া, সালমান মিয়া, আছদ উল্লাহ গংরাধা রালো দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেদরক প্রহার করে। মারপিট করে কাপড় ধরে টানা হেচরা করে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আব্দুল কালামের বসত বাড়ীতে ঢুকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে বাড়ীতে তান্ডব চালিয়ে গরু বাছুর সহ লুটপাট করে ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বাড়ী ঘরের টিনের বেড়া ভাংচুর ক্ষতি সাধন করে ক্লান্ত হয়নি তারা। এক পর্যায়ে বাড়ীর চলাচলের রাস্তায় বাশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এমনকি বাড়ীর পূর্বদিকের সরকারী পাকা ব্রিজও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রেলী বেগমকে উদ্ধার করে। পরে তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এমনকি স্থানীয় দোকানদারদের আব্দুল কালামের কাছে কোন খরচপাতি বাজার সওদা দিতে ও নিষেধ করছে তারা। বর্তমানে আব্দুল কালামের পরিবার গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছে। তার পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া কন্যা মুনিরা বেগমকে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে অভিযুক্ত এমরান মিয়া চড় তাপ্পর দিয়ে দুহাতে রশি দিয়ে বেধে শাশিয়ে দিয়ে হুমকি দিয়েছে এবং হুমকি দিয়ে বলেছে মামলা করলে খুন করবে। তাদের এই হুমকির মুখে আতংকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ওই ছাত্রী। গৃহবন্দি অবস্থায় জানমালের মান সম্মান নিয়ে নিরাপত্তাহীন পরিবারটি র‌্যাব-৯ এর বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দিন দুপুরে আব্দুল কালামের চাচা মধু মিয়া মেম্বারকে রুস্তুমপুর গ্রামের কতিপয় দুস্কৃতিকারীরা মহাসড়কের আন্তজেলা রুস্তমপুর বাসষ্ট্যান্ডে নির্মমভাবে মারপিট করে খুন করে। এ ঘটনায় তার ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আব্দুল কালাম ও তার ভাই ভাতিজা মামলা স্বাক্ষী হয়। বিচারাধীন মামলায় তাজুদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র মধু মেম্বারের খুনের মামলার আসামীদের নিকট থেকে মামলা আপোষ মিমাংসা করে দেবে মর্মে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ঐ টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি চক্রকে কালো টাকার বিনিময়ে আতাত করে মধু মেম্বার হত্যা মামলার স্বাক্ষী কালাম ও বাদীকে মামলা আপোষ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রভাবশালীদের কথামত হত্যা মামলা আপোষ না করায় কালাম ও তার পরিবারের উপর নেমে আসে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ষ্টীম রোলার। এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী খুনী চক্রের খুটির জোর কোথায়?

ফেসবুক মন্তব্য
xxx